আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:৪৭

বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জের প্রথম স্টেশন উদ্বোধন আজ

বিডিটাইমস ডেস্ক
বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জের প্রথম স্টেশন উদ্বোধন আজ

তেলের বিকল্প যান হিসেবে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। তাই রাস্তা কিংবা মহাসড়কের পাশে তেল স্টেশনের মতো বিদ্যুৎচার্জ স্টেশন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ইজিবাইকের জন্য দেশের প্রথম সৌরশক্তিচালিত চার্জিং স্টেশনের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আজ শুক্রবার।

রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) চার্জিং স্টেশনটি নির্মাণ করেছে।

প্রাথমিকভাবে এ চার্জিং স্টেশনে একসঙ্গে ২০ থেকে ২২টি ইজিবাইক ব্যাটারি চার্জ দেয়া যাবে। সারাদেশে গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে বিতরণ কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে সোলার চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এই উদ্যোগের প্রথম চার্জিং স্টেশন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আজ।

উল্লেখ্য, সারা বিশ্বেই বর্তমানে বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের বহু স্থানে বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রসারে অসংখ্য চার্জিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশও বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য চার্জিং স্টেশন নির্মাণ এ ধারায় একটি অগ্রগতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সৌরশক্তির সাহায্যে ইজিবাইকসহ বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোর প্রযুক্তি প্রসার ঘটানো গেলে দেশে আমদানি করা তেলের বিকল্প গড়ে উঠবে এবং দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরইবি সূত্র জানায়, চার্জিং স্টেশনটি নির্মাণে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের সানি ফিলিং স্টেশনের ওপর এটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে কোনো জমির প্রয়োজন হয়নি। ফিলিং স্টেশনটির ছাদ ভাড়া নিয়ে চার্জিং স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে। গত ১০ দিন পরীক্ষামূলকভাবে স্টেশন থেকে ইজিবাইক চার্জ দেয়া হচ্ছে।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর জিএম মোঃ রবিউল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ইজিবাইকের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিচ্ছি। গত কয়েকদিন ধরে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে চার্জিং স্টেশনটি চালাচ্ছি। তাতে কোন সমস্যার কথা কেউ বলছে না। তবে রোদ ভাল থাকলে ব্যাটারিতে চার্জ ভাল হয়।’

তিনি জানান, সারাদিন ইজিবাইক চালানোর পর রাতে চালকরা ইজিবাইক নিয়ে স্টেশনে যান। স্টেশনের ব্যাটারিতে ধরে রাখা সৌর বিদ্যুতে তাদের ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া হয়।

পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা সম্প্রসারিত হলে ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

যাতে সারাদেশে এই প্রক্রিয়া যাতে ছড়িয়ে দেয়া যায় সেজন্য সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা করারও সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রকল্পে।

২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের চার্জিং স্টেশন নির্মাণে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তার প্রায় দুই বছর পর এ ধরনের স্টেশন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। জানা গেছে, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরেও এ ধরনের স্টেশন স্থাপন করা হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে