আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৫২

না’গঞ্জে ৫ খুন মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছেঃ পুলিশ সুপার

অনলাইন ডেস্ক
না’গঞ্জে ৫ খুন মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছেঃ পুলিশ সুপার

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকার একটি বাসায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার খন্দকার মহিতউদ্দিন এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।শিগগিরই মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে এবং আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।

গত শনিবার রাতে ২ নম্বর বাবুরাইলের দেওভোগ পাক্কা রোডের ১৩২/১১ নম্বর বাড়ির নিচতলার বাসার তালা ভেঙে তাসলিমা বেগম, তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), ভাই মোরশেদুল (২৫) ও জা লামিয়ার (২৫) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশু দুটি ছাড়া অন্যদের গলায় কাপড় বা ওড়না প্যাঁচানো ছিল। প্রত্যেকের কপালের পাশে ছিল আঘাতের চিহ্ন।

এদিকে নিহত তাসলিমা বেগম, তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫) ও ভাই মোরশেদুলের (২৫) লাশ রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জে দাফন করা হয়েছে। লামিয়ার (২৫) লাশ ময়মনসিংহের নান্দাইলে দাফন করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় গতকাল নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়েছে। রহস্য উদঘাটনের চেষ্টায় নিহত তাসলিমা বেগমের (৪০) ভাগনে মাহফুজ ও শাহাজাদাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা বলেন, আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক সমস্যা দুটি ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে তারা এগোচ্ছেন।

পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তাসলিমা সুদে টাকা খাটাতেন। এই কাজের জন্য যাদের কাছ থেকে তিনি টাকা নিতেন, তাদের পাওনা শোধ করতেন না। এতে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন পাওনাদারেরা। পাওনাদারদের এড়াতে বারবার বাসাও পাল্টাতেন।
এই কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তাসলিমার ভাগেনে মাহফুজ বিভিন্ন সময় তাসলিমার জা লামিয়াকে (২৫) উত্ত্যক্ত করতেন। এ নিয়ে কয়েক দিন আগে মাহফুজ জুতাপেটার সম্মুখীন হন। এতে ক্ষিপ্ত হন তিনি। শনিবার যে পাঁচজন খুন হন, লামিয়া তাদের একজন।

এ ছাড়া তাসলিমার ভাই মোরশেদুল ওরফে মোশাররফের একটি দরজি দোকান ছিল। এ নিয়ে তার সঙ্গে ঢাকার একটি পক্ষের ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়ও এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।
 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে