আপডেট : ১৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:৩২

মুসলমান শিক্ষকরা পড়ান হিন্দু ধর্ম, হিন্দুরা ইসলাম

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়
বিডিটাইমস ডেস্ক
মুসলমান শিক্ষকরা পড়ান হিন্দু ধর্ম, হিন্দুরা ইসলাম

সরকারি অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জের কালীবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষিকার সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ফলে ইসলাম ধর্ম শিক্ষার ক্লাসও নিতে হয় এই হিন্দু শিক্ষিকাদেরই। একই থানার অন্যান্য স্কুলে মুসলিম শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন হিন্দু ধর্ম।

১৪ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ের সব শ্রেণীতে নিয়মিত ইসলাম ধর্ম শিক্ষা পড়ান হিন্দু শিক্ষিকারা। ২০০৩ সাল থেকে এভাবেই ৪ জন হিন্দু শিক্ষিকা ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিচ্ছেন, পরীক্ষার পর খাতাও দেখছেন।

শিক্ষিকারা জানান, ধর্মে হিন্দু হলেও ইসলাম ধর্ম শিক্ষার বই পড়াতে গিয়ে আরবি হরফ তাদের মুখস্থ হয়ে গেছে। সুরা, কেরাত, নবী রাসুলের জীবন কাহিনী, ঈমান, আমল, আকাঈদসহ ইসলাম ধর্মের নানান বিষয়েও তারা এখন জানেন।

জানা যায়, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে ৪ জন হিন্দু শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ১০ বছর পর তৎকালীন প্রধান শিক্ষিকা ঝর্না রানী সরকার মারা গেলে তার স্থলাভিষিক্ত হন অনিতা রানী তালুকদার। ফলে এলাকাবাসী দাবি জানালেও মুসলমান শিক্ষক মেলেনি এই বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রীনা বেগম জানায়, “আমরার ধর্মের ক্লাস নেন পার্বতী ম্যাডাম।”

কালীবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্র মাত্র একজন। বাকী সবাই মুসলিম। তাই এই বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের একজন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সহকারী শিক্ষিকা মেকলী রায় বলেন, “ইসলাম ধর্ম পড়াতে পড়াতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এখন আর সমস্যা হয় না। ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই আমার মুখস্থ হয়ে গেছে।”

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অনিতা রানী তালুকদার জানান, জামালগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এই উপজেলারই অনেক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই মুসলমান। তারাও হিন্দু শিক্ষার্থীদের হিন্দু ধর্মের বই পড়াচ্ছেন। শিশুদের পড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্ম কোনো সমস্যা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম ভুঁইয়া জানান, শিক্ষকদের বদলিতে একটু জটিলতা আছে তারপরও আগামী শিক্ষা সভায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় আনা হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে