আপডেট : ১৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:২৯

৭১-এ ভারতকে অস্ত্র দিয়েছিল ইসরায়েল, হয়েছিল পাক-ইরান গোপন চুক্তি!

বিডিটাইমস ডেস্ক
৭১-এ ভারতকে অস্ত্র দিয়েছিল ইসরায়েল, হয়েছিল পাক-ইরান গোপন চুক্তি!
ভারতীয় মিত্র বাহিনী

কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ১৯৭১ সালে ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্র সহযোগিতা পেয়েছিল ভারত। বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তেল-আবিবের কাছ থেকে এ অস্ত্র সহযোগিতা পেয়েছিলো নয়াদিল্লি। একই সময়ে পাকিস্তান এবং ইরানের মধ্যে একটি গোপন চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছিল।

সম্প্রতি শ্রীনাথ রাঘবানের লেখা একটি বইয়ের উদৃতি করে ঐতিহাসিক এ তথ্য উপস্থাপন করেছে ভারতীয় পত্রিকা ‘হিন্দুস্তান টাইমস’।

‘১৯৭১’ নামের ওই বইয়ে লেখক রাঘবন দিল্লির নেহরু জাদুঘর ও পাঠাগারে সংরক্ষিত পিএন হ্যাক্সার-এর কিছু দলিলকে তার তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। কূটনীতিক হ্যাস্কার ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একজন উপদেষ্টাও ছিলেন।

লেখক তাঁর এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন, ফ্রান্সে নিয়োজিত ভারতের সেসময়কার রাষ্ট্রদূত ডিএন চ্যাটার্জি ৭১’র ৬ জুলাই ভারতীয় পররাষ্ট্র মারফত ইসরায়েলী অস্ত্র ও তেল সাহায্য চাওয়ার কথা বলেছিলেন।

ইন্দিরা গান্ধী সে প্রস্তাব গ্রহন করেছিলেন এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।

যদিও সে সময় এ দু’দেশের মধ্যে কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিলনা। এমনকি ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্রটির জন্মের সময়ও ভারত এর বিরোধীতা করেছিলো এবং ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিয়েছিল।

ইসরায়েল সে সময় অস্ত্র সংকটের মধ্যে থাকলেও দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেয়ার ভারতীয় সাহায্য কামনায় সাড়া দিয়েছিলেন এবং ব্যাক্তিগতভাবে ইন্দিরার কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। যে চিঠিতে যুদ্ধের পর অস্ত্রগুলো যেন ফেরত দেয়া হয় তার জন্য একটি সহযোগিতামূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সেই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিলো ১৯৯২ সালে যখন ভারতের প্রেসিডেন্ট ছিলেন নরসিংহ রাও।

আরো একটি নথির কথা রাঘবন তার বইয়ে উল্লেখ করেন, যে নথিটি তখনকার ‘র’ প্রধান আরএন কাও; হ্যাস্কারের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এ নথিতেই উল্লেখ আছে, আকাশপথে ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্র এসেছিল এবং সে অস্ত্রের সঙ্গে এসেছিল কয়েকজন অস্ত্রবিশেষজ্ঞও।

এই অস্ত্রগুলো পরবর্তীতে ভারতীয় সৈন্য এবং বাংলাদেশী গেরিলা যোদ্ধারা ব্যবহার করেছিল।

বইটিতে আরো একটি গোপন চুক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। যে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল ইরান এবং পাকিস্তানের মধ্যে। চুক্তি অনুযায়ী ইরান পাকিস্তানকে কথা দিয়েছিল যদি ভারতীয় বাহিনী করাচিতে হামলা করে তবে ইরান তা প্রতিরোধ করবে। পরবর্তীতে অবশ্য রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে এ ভয়ে ইরান চুক্তি থেকে সরে গিয়েছিল।

গান্ধী সে সময় চায়নিজ হস্তক্ষেপের ভয়ে ছিলেন। আমেরিকার সপ্তম নৌবহর পৌঁছার আগেই যেন পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করা যায় চিন্তা ছিল এমন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ যুদ্ধে নাক গলাবার আগেই পাকবাহিনীকে আত্মসমর্পন করানো ছিলো ইন্দিরার মূল লক্ষ্য।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে