আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:৪৩

আবুলের বিরল ‘গাছরোগ’ (ভিডিও সহ)

বিডিটাইমস ডেস্ক
আবুলের বিরল ‘গাছরোগ’ (ভিডিও সহ)

দুই হাতের তালু ও ১০টি আঙ্গুল দেখতে লম্বা গাছের শেকড়ের মত।পা’দুটো অসংখ্য গুটিতে ভরে গেছে।এ কারণে বিগত প্রায় দশ বছর ধরে অসহনীয় যন্ত্রণায় কাটছে প্রতি মুহূর্ত। কোন চিকিৎসক এই রোগের নাম বা চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞাত নন। বাহ্যিক আকৃতি গাছের শিকড়ের মত দেখতে হওয়ায় স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন ‘গাছরোগ’।  

আর এই ‘গাছরোগে’ আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন আবুল বাজনদার নামের এক ব্যক্তি।

আবুল বাজনদারের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলা সদরের সরল গ্রামে।

২০০৫ সাল, আবুলের বয়স তখন ১৫ বছর। ওই বছর বৃষ্টির সময় চারদিকে পানিতে সয়লাব। বাড়ির ওঠানেও জলাবদ্ধতা। এভাবে পানির মধ্যে কয়েক দিন ভ্যান চালানোর এক পর্যায়ে আবুলের হাতে পায়ে আঁচিলের মত গোটা দেখা দেয়। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এখন সেটি ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। ওঝাঁ-বৈদ্য, ডাক্তার-কবিরাজ করেও কোন কাজ হয়নি।ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে ভয়ঙ্কর রূপ নেয় হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। ধীরে ধীরে কর্মঠ ও সামর্থ্যবান যুবক আবুল হয়ে পড়ে জড়-অথর্ব এক মানুষ। আর্থিক অনটনে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা।

 

পরবর্তীতে স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেয় আবুল। পাইকগাছা হাসপাতালে দেখানো হয়। এতে সামান্য কমলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেনি। এর এক বছরের মধ্যেই আবুলের হাতের তালুতে ও পায়ে ধীরে ধীরে গাছের শ্বাসমূলের মত অংশ জন্মাতে থাকে।

ক্রমান্বয়ে বিভৎস্য রূপ নেয় হাত ও পা। ভীত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন এখানে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাকে ভারতে বা অন্য কোন দেশে উন্নত চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বিত্তবানদের সহায়তায় তিন দফায় ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা করিয়েছেন আবুল।  কোন সুফল পাননি।

এমন কি ডাক্তাররা আবুলের রোগ চিহ্নিত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান কুমার গোস্বামী জানান, বিরল ও ভয়ঙ্কর এ ধরনের রোগ ইতিপূর্বে দেশের কোথাও দেখা যায়নি। এ ধরনের রোগীর সন্ধান পাওয়ায় সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বেশ কয়েক বছর ধরে এই রোগের একটি রোগী অনলাইনে ব্যপক আলোচিত হন, যাকে অনলাইনে সবাই ট্রি্-ম্যান বা গাছ-মানব হিসাবে চেনে, মালয়েশিয়ার ঐ লোকটির এই ব্যতিক্রম রোগটি দেখা দেয় পৃথিবীতে প্রথম। পরবর্তীতে তাকে আমেরিকার এক বিশেষজ্ঞ টিম গবেষনার জন্য চিকিৎসা করলেও তিনি পুরোপুরি সুস্থতা লাভ করেননি।তবে অনেকখানি মুক্ত হয়েছেন এই ভয়াবহ রোগ থেকে।


বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে