আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৩:১৩

বাংলাদেশি তরুণের নক্ষত্র আবিষ্কার! তোলপাড় জ্যোতির্বিদ্যা জগত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশি তরুণের নক্ষত্র আবিষ্কার! তোলপাড় জ্যোতির্বিদ্যা জগত

‘কারিনা’ নক্ষত্রমণ্ডলে সূর্যের চেয়ে কয়েকশ গুণ বড় পাঁচ জোড়া নক্ষত্রের সন্ধান মিলেছে।পৃথিবী থেকে সাত হাজার ৫০০ আলোকবর্ষ বা ৯৭ হাজার ৫০০ কোটি কিলোমিটার দূরে এই নক্ষত্রগুলোর অবস্থান। বাংলাদেশি তরুণ গবেষক ড.রুবাব খানের নেতৃত্বাধীন নাসার একটি বিশেষ দল এই নক্ষত্রগুলোর আবিষ্কারক। তাদের এই আবিস্কার জ্যোতির্বিদ্যা জগতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।

ড. রুবাব খান যুক্তরাষ্ট্রেই উচ্চতর পড়াশোনা সম্পন্ন করে কাজ শুরু করেন নাসায়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইটের একদল গবেষক দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ড. রুবাব খানের নেতৃত্বাধীন দলটি মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘ইটা কারিনে’র মতো নক্ষত্রের খোঁজে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নাসার স্পিটলার ও হাবল টেলিস্কোপের তথ্য নিয়েও গবেষণা করেন তাঁরা।

অবশেষে খোঁজ মেলে ইটা কারিনের মতো জোড়া নক্ষত্রের। তবে একটি-দুটি নয়, পাঁচ জোড়া নক্ষত্রের খোঁজ পান রুবাবের দল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক বৈঠকে রুবাব খান তাঁদের আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই পুরো বৈঠকে চাঞ্চল্য দেখা দেয়।

‘ইটা কারিনে’ হলো জোড়া নক্ষত্র ব্যবস্থা। ১০ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যে সবচেয়ে আলোকিত ও বৃহৎ নক্ষত্র ব্যবস্থা এই ইটা কারিনে। পৃথিবী থেকে সাত হাজার ৫০০ আলোকবর্ষ দূরে ‘কারিনা’ নক্ষত্রমণ্ডলের অবস্থান। ইটা কারিনে আমাদের সূর্যের চেয়ে ৫০ লাখ গুণ বেশি আলোকিত। কয়েক শতাব্দী ধরেই এটি মানুষের কাছে পরিচিত।

ড. রুবাব খান বলেন, ‘বৃহৎ আকৃতির নক্ষত্র ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়। তবে এই নক্ষত্র ব্যবস্থা অবস্থানকারী গ্যালাক্সির রাসায়নিক ও ভৌতগঠনে বড় ধরণের প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে নক্ষত্রের জীবন ও সমাপ্তিতেও এটি ভূমিকা রাখে।’

ড. রুবাব খানের জীবনের একটি  বড় অংশ কেটেছে রাজধানী ঢাকায়। রাজধানীর উদয়ন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। পরে নটরডেম কলেজ থেকে পাস করেন এইচএসসি। ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ বিজ্ঞানে আগ্রহ ছিল রুবাবের।

২০০৪ সালে তিনি পদার্থবিদ্যার বিশেষ শাখা অ্যাস্ট্রোফিজিকসে পড়াশোনার জন্য কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে বৃত্তি পান। ২০০৮ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। পরে ২০১৪ সালে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন রুবাব খান। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের একজন ‘জেডব্লিউএসটি পোস্ট ডক্টরাল ফেলো’ হিসেবে।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে