আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৬ ২২:২৭

বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশঃ প্রধানমন্ত্রী

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশঃ প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নে বিশ্বে রোল মডেল। তাই দল-মত ও বিভক্তির ঊর্ধ্বে উঠে এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্তমান মহাজোট সরকারের দুই বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

ভাষণের শুরুতে জনগণকে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ২০০৮ সালে বলেছিলাম, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। ইতিমধ্যেই আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। ইনশাআল্লাহ ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব।’
বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্ব সহ্য করতে পারে না। মানুষ শান্তিতে থাকবে, হাসিমুখে জীবন যাপন করবে, তা ওদের সহ্য হয় না। ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াত দেশে সন্ত্রাস, সহিংসতা শুরু করে।’

‘ওই সময় ২৩১ জন আগুনে পুড়ে নিহত এবং পেট্রলবোমায় ১১৮০ জন আহত হয়। এ ছাড়া দুই হাজার ৯০৩টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, ১৮টি রেলগাড়ি ও আটটি লঞ্চে আগুন দেওয়া হয় বলে জানান তিনি’।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনসমর্থন পায়নি। ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে নাকে খত দিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।’

বিএনপি-জামায়াতের ‘অনৈতিক অবরোধ’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিচারকাজ চলছে। যারা আপনাদের আপনজনকে কেড়ে নিয়েছে, ক্ষতিসাধন করেছে, সেই অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যোগাযোগ খাতে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়ালসেতু, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়ালসেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়ালসেতু, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার উড়ালসেতু এবং চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট উড়ালসেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ অচিরেই শেষ হবে। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে।’

পদ্মা সেতু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। পদ্মা সেতু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১.২% হারে অবদান রাখবে। দারিদ্র্য বিমোচন হবে’।

‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ শিল্প স্থাপনা বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মাওয়া ও জাজিরাকে ঘিরে আধুনিক স্যাটেলাইট শহর গড়ে তুলা হবে। শিবচর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কেরানীগঞ্জ জেগে উঠবে নতুন উদ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ঝুঁকি ভাতা দেয়া হচ্ছে। বিএনপি জোট সরকার তাদের আমলে ২৭টি পাটকল বন্ধ করেছিল। আমরা সবগুলোই চালু করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে ভাতা প্রদান করছি। এতে করে প্রতি মাসে ২১০ কোটি টাকার ভাতা প্রদান করছে এ সরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সরকার হিজড়া সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। অনগ্রসর জনগণকে আর্থ উন্নয়নের সঙ্গে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক খাতে অভুতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পানা হাতে নিয়েছি। অচিরেই ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবো। শিশু মৃত্যুর হার কমে গেছে। নারী ক্ষময়তানে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হয়েছে।’  

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে