আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:৩১

তবে কী ফাঁসির কাষ্ঠে যাচ্ছেন সাঈদী?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সবাই
বিডিটাইমস ডেস্ক
তবে কী ফাঁসির কাষ্ঠে যাচ্ছেন সাঈদী?

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর আপিলের রায়ে রিভিউ আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রিভিউ আবেদনে সাঈদীকে সর্ব্বোচ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের আরজি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এ রিভিউ আবেদন দায়ের করেন। মোট ৩০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে পাঁচটি যুক্তি দেখানো হয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর সাঈদীর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ আদালত। ৬১৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। 

নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারে রাষ্ট্র বা আসামিপক্ষ। সেই হিসাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় এই প্রথম রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আসামির সাজা বাড়ানোর জন্য রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করল।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দু’টি আপিল দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজা ঘোষিত না হওয়া ৬টি অভিযোগে শাস্তির আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আর সাঈদীর ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করেন।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন। অন্য চার বিচারপতি হলেন- বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৩ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ’ থেকে ১শ’৫০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মত ২০টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমএসএম/

উপরে