আপডেট : ১১ জানুয়ারী, ২০১৬ ১১:৩১

টাকা না দিলে হবে ইয়াবা সম্রাট লাশ পড়বে বেড়িবাঁধে: এসআই মাসুদ

বিডিটাইমস ডেস্ক
টাকা না দিলে হবে ইয়াবা সম্রাট লাশ পড়বে বেড়িবাঁধে: এসআই মাসুদ

রাজধানীর মোহাম্মদপু থানা এলাকায় গভীর রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে আটকে ইয়াবা ব্যবসায়ী-সেবনকারী বানানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেয়ায় তাকে বেধড়ক মারধরও করা হয়েছে বলে ঘটনার শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীর অভিযোগ, মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদ শিকদার শনিবার রাতে তাকে আটক করে থানায় না নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা গাড়িতে রেখে টাকা আদায়ের চেষ্টা চালান।

রাব্বী বলেন, শনিবার রাতে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ শিকদারসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। রাতেই তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

গোলাম রাব্বী বলেন, শনিবার রাতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে কল্যাণপুরের বাসায় ফেরার পথে আসাদ গেটে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ঢুকে টাকা তোলেন। রাতে ফিরে বাসাভাড়া দেওয়ার কথা ছিল। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বুথ থেকে বের হয়ে টাকা মানিব্যাগে ঢোকাতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়ি থেকে একজন এসে বলল, ‘ওই চল, স্যার তোর সঙ্গে কথা বলবে।’ তারা টেনেহিঁচড়ে তাকে গাড়িতে তোলে বলেও অভিযোগ করেন রাব্বি।

গাড়িতে তোলার পর তারা জোর করে তাঁর মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয় পুলিশ সদস্যরা। এরপর বলে, ‘ব্যাংকে তোর কত টাকা আছে? চল, তোর অ্যাকাউন্ট চেক করা হবে। টাকা না দিলে তোকে ইয়াবা সম্রাট হিসেবে চালান করা হবে।’ এ সময় রাব্বী পুলিশকে নিজের পরিচয় দেন।

এর পরও তাঁকে এটিএম বুথে নিয়ে জোর করে অ্যাকাউন্ট চেক করায় তারা। যখন দেখে খুবই সামান্য পরিমাণ টাকা আছে, তখন তারা রাব্বীকে ফের টেনে বের করে গাড়িতে তোলে।

রাব্বী আরো বলেন, এসআই মাসুদকে অন্য এক পুলিশ সদস্য বলে, ‘স্যার, এই ব্যাটা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করে। কিন্তু তাঁর অ্যাকাউন্টে তেমন কোনো টাকা নাই।’

তখন ওই ‘স্যার’ বলে, ‘ওই ব্যাটা, তুই বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করিস আর বলিস তোর কাছে টাকা নাই! টাকা নিয়ে আসবি। পাঁচ লাখ টাকা দিলে তোকে ছেড়ে দেওয়া হবে। না দিলে কাল সকালে তোর লাশ বেড়িবাঁধে পাওয়া যাবে।’ ইয়াবা সম্রাট বানিয়ে গুলি চালিয়ে তোর লাশ ফেলে দেব।

 গতকাল রবিবার তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের পুলিশের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মাসুদ।

অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার হাফিজ আল ফারুক বলেন, “অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। দুই পক্ষ ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে