আপডেট : ৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১২:১৮

যশোরে আজ রাতেই তিন খুনির ফাঁসি

অনলাইন ডেস্ক
যশোরে আজ রাতেই তিন খুনির ফাঁসি
কাজী আরেফ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহম্মেদসহ দলটির পাঁচ নেতাকে হত্যার অপরাধে তিনজনের ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার রাতে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ বছর পর যশোর কারাগারে তাঁদের দণ্ড কার্যকর হচ্ছে। ফাঁসির সাজা পাওয়া আরো ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। একজনের মৃত্যু হয়েছে।

যাদের সাজা কার্যকর হচ্ছে তারা হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা গ্রামের উম্মত মণ্ডলের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, রাজনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাফায়েত হোসেন ওরফে হাবি।

যশোর কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনজনের ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার শাজাহান আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই তিন আসামির দণ্ড কার্যকরে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ছে।

যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১ থেকে ১২টার মধ্যে তিন আসামির ফাঁসি কার্যকর হবে।

গত মঙ্গলবার কারাগারে তিনজনের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করে স্বজনরা। তারাও ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় চরমপন্থীদের ব্রাশ ফায়ারে প্রাণ হারান জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী এবং স্থানীয় নেতা ইসরাইল হোসেন ও সমশের মণ্ডল।

এই পাঁচ নেতাকে হত্যার ঘটনায় তখনকার দৌলতপুর থানার ওসি ইসহাক আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। দুই দফা তদন্তের পর ২০০০ সালের ২৪ জুলাই মামলার ২৯ আসামির বিচার শুরু হয়। ৩১ বার তারিখ পেছানোর পর ২০০২ সালের ৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ২০০৪ সালের ৩ আগস্ট ৪১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শেষ হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছর পর ওই বছরের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালত ১০ জনের ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

এরপর আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করে। ২০০৮ সালের ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট ফাঁসির আসামিদের মধ্যে একজন এবং যাবজ্জীবন সাজা হওয়া ১২ জনের মধ্যে ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ আপিল করে। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে তিনজন রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন জানান। কিন্তু ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আবেদন খারিজ করে দেন।

পলাতক পাঁচজন : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পচা ভিটা গ্রামের ‘চরমপন্থী’ মান্নান মোল্লা, মিরপুর উপজেলার কুর্শা মেহের নগরের রমজান আলীর ছেলে জাহান আলী, একই উপজেলার বালিয়াশিষা গ্রামের হারেজ উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের নায়েব মণ্ডলের ছেলে রওশন মণ্ডল ও কিশোরীনগর গ্রামের মোজাহার উদ্দিনের ছেলে বাকের উদ্দিন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কারাগারে মারা গেছেন এলাচ উদ্দিন।

নিহত জেলা জাসদের তৎকালীন সভাপতি লোকমান হোসেনের বড় ছেলে আল মোজাহিদুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘কলঙ্কিত এই হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পরও পুলিশ পাঁচ হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারল না, এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে।’

নিহত জাসদ নেতা এয়াকুব আলীর ছেলে ইউসুফ আলী রুশো বলেন, ‘যে আদর্শিক চেতনায় আমার বাবাসহ অন্যরা একটা সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখার অপরাধে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন; সর্বশেষ এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পাবে আমি এমনটায় প্রত্যাশা করছি।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী জাসদ নেতা কারশেদ আলম বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেছি। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় কার্যকরের সংবাদ শুনে নিজের জীবনে একটা সার্থকতা অর্জনের স্বাদ পাচ্ছি।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে