আপডেট : ১ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:১১

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছেঃ আসক

অনলাইন ডেস্ক
বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছেঃ আসক

২০১৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ৫৫জন বেশি মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মারা গেছেন ১২৮ জন। কিন্তু ২০১৫ সালে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৩ জনে। যা আগের বছরের তুলনায় ৫৫ জন বেশি।

যুদ্ধাপরাধ মামলা বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত মোট ২১টি যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় প্রদান করেছেন। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ৫টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ৩টি মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে।

এছাড়া একাত্তরের ৪১ জন বীরঙ্গনা নারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান সরকারের প্রশংসিত সিদ্ধান্ত ছিলো। তারপরেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। 

গণপিটুনি তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৫ সালে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে।২০১৪ সালে গণপিটুতে হত্যা করা হয় ১২৩ জনকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৫ জন। গত বছর সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে ১৫১ জন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৪৭ জন।এছাড়া গত বছর গুম হয়েছে ৫৫জন।

আসক মনে করে, জনগণের হাতে আইন তুলে নেওয়ার এসব ঘটনা মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শিশু নির্যাতন বাড়লেও কমেছে নারী নির্যাতন

আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় ২০১৫ সালে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়লেও কমেছে নারী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপের ঘটনাও।

   

২০১৫ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের মাঝামাঝিতে শিশু নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছিলো। নির্যাতনে মাত্রা ও ধরনে ছিলো চরম নিষ্ঠুরতা। ৮ জুলাই সিলেটে শিশু রাজন, ৩ আগস্ট খুলনায় শিশু রাকিব এবং ২ অক্টোবর গাইবান্ধায় সাংসদের হাতে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র সৌরভ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে।

২০১৫ সালে প্রথম দেড় মাসে হরতাল অবরোধে সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১১ শিশু ও আহত হয় ১২ শিশু। আসক’র হিসাবে, ২০১৫ সালে হত্যা করা হয় ১৩৩ শিশুকে। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৯০।

তবে নারী নির্যাতন কমেছে জানিয়ে বলা হয়, ২০১৫ সালে সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে দেশে ১২ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর আগের বছরে এ সংখ্যা ছিলো ৩২। আর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বিগত বছরের তুলনায় কমেছে। ২০১৫ সালে ১৫ নারী এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৮।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে