আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:২১

বিচ্ছিন্ন অনিয়মের ভোট শেষে চলছে গণনা

অনলাইন ডেস্ক
বিচ্ছিন্ন অনিয়মের ভোট শেষে চলছে গণনা

দেশের নবম পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ এখন চলছে ভোটগণনা। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতীহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।  কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

কোনো কোনো পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আগের রাতেই ব্যালেটে সিল মারার ঘটনা ঘটে। আবার কোনো কোনো এলাকায় ভোটগ্রহণের আগে থেকেই সহিংসতা শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিয়ম এবং সংঘাতের খবর পাওয়া যায়।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গুলিতে একজন নিহত হয়েছে। সাতকানিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রের কয়েকশ গজ দুরেই দু'জন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। বহু প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আবার একই অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে অর্ধশতাধিক কেন্দ্রের ভোট।

সবমিলিয়ে ভোট শেষে সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশনার। অধিকাংশ এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার মোঃ আবু   হাফিজ বলেছেন, প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাটাকেই বড় ছিল। আইন-শৃঙ্খলা ও ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।

তবে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পরকে দোষারোপ করছে। সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হবার ঘন্টাখানেক পরে বিএনপি'র একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের সাথে দেখা করে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ করে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড.  ওসমান ফারুক। বিএনপি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন ত্যাগকরার পরেই আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যায়। সে দলটির নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এতো অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মাঝেও পৌর নির্বাচন ঘিরে মোটামুটি উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল সব এলাকায়। শীতের কুয়াশা ভেদ করে মানুষ সকাল থেকে ভোট দিয়েছেন। ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

২৩৪টি পৌরসভায় একজন করে মেয়র, ৭৩১ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং দুই হাজার ১৯৩ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। এ জন্য মেয়র পদে ৯৪৫ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আট হাজার ৭৪৬ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে দুই হাজার ৪৮০ জনসহ মোট ১২ হাজার ১৭১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাতজন মেয়র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মোট প্রার্থী ৯৪৫ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২৩৪ জন। কম করে হলেও অর্ধশতাধিক পৌরসভায় আওয়ামী লীগের রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। দল থেকে বহিষ্কারের পরেও তাদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনা যায়নি। অনেক এমপি বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন করছেন।

বিএনপিতে ২২৩টি পৌরসভায় মেয়র পদে দলের প্রার্থী থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ২০ থেকে ২৫টি পৌরসভায়। বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। ৭৪টি পৌরসভায় মেয়র পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ২০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ৫৭ জন, জাসদের ২১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১৭ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির আটজন, জাতীয় পার্টির (জেপি) ছয়জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চারজন এবং এলডিপি, ন্যাপ, বিকল্পধারা, বাসদ, তরীকত ফেডারেশন, পিডিবি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে প্রার্থী মেয়র পদে লড়ছেন।

ইসি জানিয়েছে, চার হাজার ৮৯ জন পর্যবেক্ষক ভোটের মাঠে ছিল। দেশীয় ২৯টি সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। ঢাকা থেকে ৭টি সংগঠন ১৩০ জন পর্যবেক্ষকের জন্য কার্ড নিলেও বাকিরা স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে কার্ড সংগ্রহ করেছেন। এবার কোনো বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন না।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম/

উপরে