আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৬:৪৯

পৌর ভোট: শেষ মুহুর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা

বিডিটাইমস ডেস্ক
পৌর ভোট: শেষ মুহুর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা

পৌষের হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে ভোটারদের দুয়ারে কড়া নাড়ছেন প্রার্থীরা।

পৌরসভা নির্বাচনের সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা।

৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গুছিয়ে ফেলেছেন নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব আয়োজন ইতোমধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ করতে পারাকেই বড় ‘চ্যালেঞ্জ’ বলে মনে করছেন ইসি।

ভোটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিধিলঙ্ঘন ও হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে অর্ধশতাধিক পৌরসভায়। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এ পর্যন্ত শতাধিক প্রার্থী-সমর্থকদের জরিমানাও করেছেন।

নির্বাচন কমিশন ছয়জন সাংসদকে সতর্কতা নোটিস দিয়েছে। দুজন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বদলি, ছয়জন ওসিকে প্রত্যাহার করেছে। সেইসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে অন্তত এক ডজন প্রার্থীকে কারণ দর্শাতে বলেছেন।

এ অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে ভোট আয়োজন নিয়ে আওয়ামী লীগে ‘স্বস্তি’ থাকলেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টি শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন শুরু থেকেই।

ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার  দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন।

এবার আওয়ামী লীগের ২২৮ জন এবং বিএনপির ২২৫ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। এর মধ্যে ২২২টি পৌরসভায় নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা আছেন সম্মুখ লড়াইয়ে।

নির্বাচনে আংশ নিচ্ছে মোট ২০টি দল। মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৮৮ জন, যাদের অনেকেই প্রধান দলগুলোর বিদ্রোহী প্রার্থী। এই পদে নারী প্রার্থী রয়েছেন ২০ জন।

২৩৫ পৌরসভায় মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ হাজারেরও বেশি প্রার্থী রয়েছেন বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বুধবার ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটের পর ৭ জানুয়ারি ভোট হবে সিঙ্গাইর পৌরসভায়।

মেয়র পদে ২০টি দলের সাড়ে নয়শ' প্রতিদ্বন্দ্বী

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ২২৮ জন, বিএনপির ২২৫ জন ও জাতীয় পার্টির ৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ২৮৮ জন, যার মধ্যে অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র বিদ্রোহীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

এছাড়া এলডিপি'র একজন, জেপি ছয় জন, সিপিবি চার জন, ন্যাপ একজন, ওয়ার্কার্স পার্টি আটজন, বিকল্পধারা'র একজন, জাসদ ২১ জন, বাসদ একজন, তরিকত ফেডারেশন একজন, এনপিপি ১৭ জন, পিডিপি একজন, ইসলামী ঐক্যজোট একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তিন জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি একজন, খেলাফত মজলিস-এর একজন প্রার্থী রয়েছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৪১

মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এক হাজার ২৪৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।

এর মধ্যে মেয়র পদে সাত জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই ১৪১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় বাকি প্রার্থীরা ভোটের মাঠে থাকবে।

ভোটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে মাঠের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে যে কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে।

২৮ ডিসেম্বর (সোমবার) রাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না। এছাড়া কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না।

এই সময়ের মধ্যে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম করা হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২৮ ডিসেম্বর রাত ১২ টার আগেই বহিরাগতদের (যারা ভোটার বা বাসিন্দা নন) নির্বাচনী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিডিটাইমস ৩৬৫ ডটকম/আরকে/একে

উপরে