আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৪:২৫

একনেকে ৭২৭৬ কোটি টাকার ১০ টি প্রকল্প অনুমোদন

বিডিটাইমস ডেস্ক
একনেকে ৭২৭৬ কোটি টাকার ১০ টি প্রকল্প অনুমোদন

একনেক সভায় সাত হাজার ২৭৬ কোটি টাকার মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যাবে চার হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা।সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে এক হাজার ৯১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, আর বাকি ৬০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন।

সভায় সর্বসম্মতক্রমে অনুমোদন পাওয়া উল্ল্যেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হল, দুটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় বিষয়ক, সমন্বিত কৃষি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন এবং সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উন্নয়ন প্রকল্প,গভীর সমুদ্রবন্দরে নোঙর করা ভেসেল থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল সহজে ও কম সময়ে খালাস করতে ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মরিং উইথ ডাবল পাইপ লাইন প্রকল্প, পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, বাকেরগঞ্জ-কাঁঠালতলী-বরগুনা সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উন্নয়ন, স্কিলস ডেভেলপমেন্ট,  পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় মিশ্র ফল চাষ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।   

এদের মধ্যে গভীর সমুদ্রবন্দরে নোঙর করা ভেসেল থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল সহজে ও কম সময়ে খালাস করতে ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মরিং উইথ ডাবল পাইপ লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। চীনের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে প্রকল্পের খরচ উঠে আসবে। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে বন্দর থেকে রাজধানীসহ পর্যায়ক্রমে তেল সরবরাহ করার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম, মংলা ও কমলাপুর আইসিডি এবং বেনাপোল কাস্টম হাউসের জন্য কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয় প্রকল্পে ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বাকেরগঞ্জ-পাদ্রীশিবপুর-কাঁঠালতলি-সুবিদখালী-বরগুনা সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণসহ উন্নয়ন ও ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

এছাড়া ২৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের  স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সমন্বিত কৃষি কর্মকান্ডের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পের বৈঠকে ৩৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনকালীন পৌর এলাকার জন্য কোনো প্রকল্প অনুমোদন না দিতে গত ২ ডিসেম্বর বুধবার একটি পরিপত্র জারি করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকল্প অনুমোদন না দিতে একই দিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেয় ইসি।

এরপরেও সভায় সর্বসম্মতক্রমে নির্বাচনকালীন পৌরসভার এলাকায় পড়া ‘পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ ‘বাকেরগঞ্জ-কাঁঠালতলী-বরগুনা সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ’ ‘ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উন্নয়ন’ ‘স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, মঙ্গলবারের একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোনও প্রকল্পই নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। অনুমোদিত সবগুলোই জাতীয় প্রকল্প। নির্দিষ্ট কোনো পৌরসভা বা নির্বাচনী এলাকার নয়।

তিনি আরও জানান, পৌর নির্বাচনের কারণে উন্নয়ন থেমে থাকতে পারে না। বছরজুড়েই কোনো না কোনো নির্বাচন হয়ে থাকে। নির্বাচন ও উন্নয়ন পাশাপাশিই করতে হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে