আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৭:২৩

‘আমি নেতা হবো’

অনলাইন ডেস্ক
‘আমি নেতা হবো’

বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা প্রতিবাদী প্লাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে অনেক ছবিই তৈরী হয়েছে। এসব ছবিতে সবচেয়ে বেশিবার দেখা গেছে প্রয়াত নায়ক মান্নাকে। এখন থেকে ১০-১২ বছর আগে এ ধরণের ছবির গ্রহনযোগ্যতা তৈরী হয়। প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হিসেবে নায়ক মান্নাকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে আর নিদৃষ্ট শ্রেণীর দর্শকদের জন্যই তা বরাদ্দ ছিল। মাঝে মান্নার পর নায়ক মারুফকে নিয়ে এই প্রতিবাদী চরিত্র গড়ে তোলার চেষ্টা হয়। তবে এতদিনে মানুষদের সিনেমা দেখার স্বাদ পাল্টেছে আর দর্শকদের যেতে হয়েছে একটা পরিবর্তনের মধ্যে। তবে আমি নেতা হবো ছবিটি দেখে মনে হবে নির্মাতা উত্তম আকাশ এখনো সেই ১৫ বছর আগের প্রতিবাদী ঘরনার সিনেমায় ঘুরপাক খাচ্ছেন। দেবার বেলায় শুধু দুর্দান্ত কিছু গান,লোকেশন আর একরাশ বিরক্তি উপহার দিলেন।

মফস্বল শহরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে গড়ে উঠেছে ছবিটির গল্প। যেখানে অসাদু নির্বাচন প্রার্থী আক্কাস ব্যাপারীর (সাদেক বাচ্চু) প্রতিপক্ষ সহজ সরল হাসান মাস্টার (কাজী হায়াৎ) । আক্কাস আলীকে দেখা যায় নিজের পক্ষে ভোট টানতে বিভিন্ন অসাদু উপায়ে অবলম্বন করতে। অন্যদিকে হাসান মাস্টারের প্রতিবাদী সন্তান সাক্কু (শাকিব খান) চায় প্রতিবাদের মাধ্যমে অন্যায়কে রুখে দিতে। ভবিষ্যৎ নেতা হতে চাওয়া সাক্কু রুখে দাঁড়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে। একেবারে প্রেডিক্টেবল একটা গল্প নিয়ে আগায় “আমি নেতা হবো” সিনেমাটি।

আমি নেতা হবো ছবিটি কেন মানুষজন দেখতে যাবেন। এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের দুনিয়া ঘেটে কারণ বের করার মতো রয়েছে ঢালিউড কিং শাকিব খান, নামেই যার চলে সিনেমা হলে একক আধিপত্য আর সাথে গ্ল্যামারাস মিম। নয় বছর পর আবারো এক ছবিতে কাজ করেছেন হিট জুটি শাকিব খান এবং মিম। ইদানিং শাকিবের সিনেমা মানে বিগ বাজেট, বিগ এরেঞ্জমেন্ট,আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত মেকিং কাহিনী এবং গানের প্রয়োজনে লোকেশন নির্ধারন। এটা বোঝা যায় “আমি নেতা হবো” সিনেমার গান গুলোতেও। তবে গান ছাড়া ছবির বাকি অংশে বিগ বাজেটের শুধু বাজেটের ব্যবহারই চোখে পড়বে।

এবার আসি ছবির ভালো দিকগুলোর দিকে। পুরো ছবিতে বার বার প্রশংসা করার মতো একটি ব্যপার ছিল। তা হলো গান এবং গান। ছবিতে ব্যবহার করা গানগুলোর সঙ্গীত পরিচালনা, নৃত্য , আর লোকেশন যেকোন বাংলা ছবির সাথে তুলনা করে লেটার মার্ক পাওয়ার মতো। শাকিব এবং মিমের উপস্থিতিতে গানগুলোর দৃশ্যয়ন অসাধারণ বলা যায়। ছবি মুক্তির আগেই ইউটিউবে প্রকাশিত গানগুলো সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড় বইয়ে দেয়। লাল লিপস্টিক, চুম্মা গানে মিমের উপস্থিতি ছিল রীতিমত তাকে লাগানো। গানের লোকেশন এবং ক্যমেরার কাজ চোখ জুড়াবে। আর পুরো ছবি জুড়ে ভালো অভিনয় করেছেন শাকিব মিম। বাকিদের ওভার এক্টিং লাগলেও ছবিটি বাঁচিয়ে দিয়েছে শাকিব এবং মিমের অভিনয়। ছবির সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক শাকিব মিমের রোমান্স। ছবিতে সদা লাস্যময়ী মিম নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আর শাকিব তো বেশ কয়েকবছর ধরেই প্ৰশংসনীয় অভিনয় করে যাচ্ছেন। এ ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হতাশ করেননি কিং খান। ছবিতে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে যথাযত অভিনয় করেছেন শাকিব। শাকিবের এক্সপ্রেশন নিয়ে ভুল ধরার মতো কিছুই ছিলোনা বরং যতক্ষন শাকিব ছিল স্ক্রিন টাইম একাই বাঁচিয়ে দিয়েছেন । আরো বলার মতো আছেন ওমর সানী, কাজী হায়াৎ,সাদেক বাচ্চু এবং মৌসুমীর অভিনয়। এদের প্রত্যেকেই ছবিতে ভালো পারফর্ম করেছেন।

এবার আসি খারাপ লাগার দিক গুলোয়। পুরো ছবিতে নেগেটিভ মার্কিং এর ছড়াছড়ি বলা যায়। গল্প থেকে শুরু করে চরিত্রের বিশ্লেষণ, কাহিনীর সামঞ্জস্যতা, এক দৃশ্যের সাথে পরের দৃশ্যের এলোপাতাড়ি সংযোজন, চিৎকার চেঁচামেচি করে ওভার এক্টিং এ ভরপুর বেশির ভাগ দৃশ্যই বিরক্তির কারন হবে। ছবিতে বেশ কিছু মারামারির দৃশ্য থাকলেও সে দৃশ্যগুলো একেবারে আনাড়ি মনে হবে। অ্যাকশন কিছুতেই বড়পর্দার কোন ছবিতে ব্যবহার করার মতো ছিল না। নাটক টেলিফিল্মের মতো লাগবে কিছু ক্যমেরার কাজ। পুরো ছবি জুড়ে সাসপেন্স বা ক্লাইমেক্সের অনুপস্থিতিও হতাশ কবে।

ওই যে বললাম ১০.-১২ বছর আগের বাংলা সিনেমার প্ৰতিচ্ছবিই যেন আমি নেতা হবো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বাংলা সিনেমার সংগ্রামের পথের শেষে এসে যেন আবারো পিছিয়ে পড়ার গল্প শোনাবে ছবিটি। এতো সময় নিয়ে গল্প তৈরী করার পরও গল্পে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।গত কয়েক বছরেই পাল্টে গেছে বাংলা সিনেমা বানানোর ধরণ। গল্প, লোকেশন আর অভিনয় সব ক্ষেত্রেই নতুন অধ্যায় দেখেছে বর্তমান প্রজন্ম। তার সাথে তুলনা করলে এ ছবিটির নির্মাণশৈলী একেবারে সেকেলে। হঠাৎ করে এক দৃশ্য থেকে পরের দৃশ্যে গমন। গানের পেছনে ব্যায় করা বাজেটের কিছু অংশ গল্পের পেছনে খরচ করলে আরো ক্লাইমেক্স আনা যেত। কারন গান ছাড়া পুরো ছবিটিকেই বিএফডিসির শর্ট ফিল্ম বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।

তবে হ্যা ছবিটি একেবারে গার্বেজ নয়। দেখার মতো ভালো কিছু গান আর শাকিব-মিমের অভিনয় আছে। বর্তমান বাংলা ছবির সেরা হিরো শাকিব খান তা আবারো প্রমান করলেন শাকিব। সাথে গল্পের আরেকটু সামঞ্জস্যতা, ক্যারেক্টার বিল্ডআপের করলে এ ছবিটিও রেকর্ড গড়তে পারতো।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে