আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৪৯

‘ডেডপুল’

বিনোদন ডেস্ক
‘ডেডপুল’

কমিক জগতের অন্যতম বহুল জনপ্রিয় চরিত্র ডেডপুলের রূপালি পর্দার অবস্থান কিন্তু বেশ নাজুকই ছিল। অচেনা এক সুপারভিলেইন হিসেবে ডেডপুলের প্রথম আবির্ভাব ঘটে ‘এক্স মেন অরিজিন্স: উলভারিন’ সিনেমায়। সেই ডেডপুল আর এই ডেডপুলে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। যদিও সিনেমায় একবার সূক্ষ্ণভাবে পুরোনো ডেডপুলের কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে আর বার বার উলভারিনের কথা নানাভাবে টেনে এনেও যেন সেই স্মৃতিকে উস্কে দেয়ার হালকা চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।

হলিউডে সুপারহিরো সিনেমাগুলো নির্মাণে একটি নির্দিষ্ট ফর্মূলা অনুসরণ করা হয়। ঘোরতর সংকটে এক অতিমানবের আবির্ভাব, সমান্তরালে সুপারহিরো হবার পথে তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম, অশুভ শক্তির মুখোমুখি হওয়া এবং অবশেষে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবার পর সেই সুপারহিরোর কাছে খলনায়কের পতন। ‘ডেডপুল’ নির্মাতা টিম মিলার এই ফর্মুলা একেবারেই অনুসরণ করেননি। সর্বপ্রথম ‘আর’ রেটেড সুপারহিরো সিনেমা এটি। অর্থাৎ ১৭ বছরের কম বয়সী দর্শকরা তখনই সিনেমাটি দেখতে পারবেন যখন প্রাপ্তবয়স্ক কেউ তার সঙ্গে থাকবেন। আর প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে তার যথার্থতা বোঝা গেল।

সুপারহিরো সিনেমায় বাস্তব জীবনের মতো মারামারির পর রক্তপাত ঘটে না বলে যেসব ভক্তরা হতাশা জানিয়ে এসেছেন এতকাল, তাদের জন্যই এসে গেছে ডেডপুল, রক্তপাত যার কাছে খেলার মতো। অনেকটা কুয়েন্টিন টারান্টিনোর সিনেমার আদলেই অনর্গল ব্যঙ্গাত্মক সংলাপের সঙ্গে চলতে থাকে দ্রুত গতির অ্যাকশন। রক্তপাতের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় ইঙ্গিতপূর্ণ সব কৌতুক – যেগুলো মাঝে মাঝে কিছুটা অশালীনই মনে হয়েছে।

উদ্বোধনী সিকোয়েন্স থেকে শুরু করে পোস্ট ক্রেডিট – পুরোটা সময় জুড়ে দর্শকরা ডেডপুল বা ওয়েড উইলসনের সঙ্গে যাতে সেঁটে থাকেন সে কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে সিনেমাটি। বুলেট টাইম শট দিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে সর্বোচ্চ উপভোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ডেডপুল নিজেই ধারাভাষ্য দিতে থাকেন তার নিজস্ব উপহাসমূলক ভঙ্গিতে। ক্রমাগত ফোর্থ ওয়ালকে আঘাত করা ডেডপুল বিদ্রুপের হাসি হাসেন মার্ভেল এবং ডিসি কমিক্সের সুপারহিরোদের প্রতি। বিশেষ করে ডেডপুল চরিত্রে অভিনয় করা রায়ান রেইনল্ডস নিজের ক্ষোভটাই ঝেড়েছেন ‘গ্রিন ল্যানটার্ন’-এর পরিচালকের উপর। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্রিন ল্যানটার্ন’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন কেন্দ্রীয় সুপারহিরোর চরিত্রে। আর সে সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়েছিল একেবারেই।

রায়ান রেইনল্ডসের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। নিজেই ডেডপুল চরিত্রটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ২০০৫ সাল থেকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাড়া দিচ্ছিলেন একটি সিনেমা নির্মাণের জন্য। প্রায় ১১ বছর পর তার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। নিজের পছন্দের অল্টার ইগোকে পর্দায় নিয়ে আসতে নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছেন। নিজের সংলাপ লিখতে সাহায্য করেছেন, নিজের বাকপটুতাকেও কাজে লাগিয়েছেন সিনেমার বিভিন্ন জায়গায়। এক কথায়, কমিক জগতের ডেডপুলকে রূপালি পর্দায় রূপায়নে রায়ান রেইনল্ডস ছাড়া অন্য কাউকে যেন ভাবাই যায় না।

সিনেমার অন্য চরিত্রগুলোকেও অপ্রয়োজনীয় মনে হয়নি। সাধারণ একজন ভাড়াটে অপরাধী ওয়েড উইলসনের ডেডপুল হয়ে ওঠার কাহিনিতে আছে তার কাছের বন্ধু উইসল, টি.জে. মিলারের এই চরিত্রটি ডেডপুলের খুনে কৌতুকগুলো ভাগাভাগি করে নেবার সঙ্গী। তবে ডেডপুলের উত্থানটা ভালোবাসার টানেই। ক্যান্সারে আক্রান্ত ওয়েড প্রেমিকা ভেনেসার জন্য সেরে উঠতে গিয়েই দৈব ক্ষমতার অধিকারী হন। ভেনেসার চরিত্রে ছিলেন ‘দ্য মেন্টালিস্ট’ খ্যাত অভিনেত্রী মরেনা বাকারিন। ব্রাজিলীয় এই অভিনেত্রীর সঙ্গে রায়ান রেইনল্ডসের পর্দা জুটিটা ছিল দুর্দান্ত।

‘ডেডপুল’ সিনেমাটি ক্ষণিকের বিনোদনের খোরাক হয়ে ওঠার সামর্থ্য রাখে অবশ্যই। তবে মনে রাখতে হবে চরিত্রটি মার্কিন এবং তার যাবতীয় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ-কৌতুক মার্কিন দর্শককে মাথায় রেখেই। যার ফলে অনেক সময় অনেক কৌতুক তেমন মজার নাও মনে হতে পারে। সুপারহিরো আর সুপারভিলেইনের মাঝের সূক্ষ সীমানায় দাড়িয়ে থাকা এই বাচাল দৈব শক্তিধরকে দেখেই যদি তুষ্ট থাকতে পারেন, তবে এ সিনেমা আপনার জন্যই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

উপরে