আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩৯

কুংফু পান্ডা থ্রি

বিনোদন ডেস্ক
কুংফু পান্ডা থ্রি

অপেক্ষাটা ছিল দীর্ঘ। পাঁচ বছর বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরেছে 'কুং ফু পান্ডা'। আর তাই সিনেমার প্রচারে যখন বলা হয়, 'ওয়েইট ইজ ওভার' - তখন সবাই হয়তো ধরেই নিয়েছেন অপেক্ষার পালা শেষ হবার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই 'ওয়েইট' সেই 'ওয়েইট' নয়। এর মানে ওজন এবং সেটা দায়িত্ববোধের।

একজন কুংফু শিক্ষার্থী থেকে ড্রাগন ওয়ারিয়র হয়ে ওঠা সবার প্রিয় পান্ডা পো এর ঘাড়ে নিজের প্রিয়জনদের বাঁচানোর যে গুরু দায়িত্ব আবারও ভর করতে যাচ্ছে, সেটি সামাল দেয়ার ক্ষমতা কি তার হয়েছে? আর সবার প্রিয় পান্ডাকে দীঘর্ বিরতির পর পর্দায় ফিরিয়ে এনে দর্শকের প্রত্যাশার ভার কি সইতে পারবেন নির্মাতারা?

প্রথমেই দেখা যায় গ্র্যান্ডমাস্টার উগওয়েকে আত্মার জগতে পরাভূত করে মরণশীলদের জগতে এসে পরেছে এক প্রাচীন খলচরিত্র কাই। অপরদিকে মাস্টার শিফু অবসর নেয়ায় পোয়ের ওপর বর্তায় শিক্ষাদানের দায়িত্ব। এই পর্বে পোয়ের মূল সংগ্রাম একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে ওঠা এবং কাইয়ের রোষ থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো।

এ পর্বে ফিরে এসেছেন পোয়ের আসল বাবা লি শ্যান। পোয়ের পালক পিতা মিস্টার পিং পোকে হারানোর ভয়ে বিচলিত হয়ে ওঠেন। প্রকৃত বাবা এবং পালনকারী বাবার মধ্যে দোটানায় পরে পো। পোয়ের চরিত্রের বিকাশ ঘটাতে দুই বাবার দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূণর্ ভূমিকা পালন করে, সেই সঙ্গে দর্শকের জন্য হাস্যরসের খোরাক যোগায়।

সিরিজের সবচেয়ে ভয়াবহ শক্তিধর খলচরিত্র হিসেবে উঠে এসেছে প্রাচীন ষাড় কাই। তবে সিনেমার ব্যর্থতার জায়গাটা হলো, নির্মাতারা পোয়ের সমতুল্য খলচরিত্র হিসেবে কাইকে দাড় করাতে পারেননি। সিনেমার প্রচারের সময় যেভাবে বলা হয়েছে, এবারই পো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নের, কাইকে ততটা ভয়ঙ্কর মনে হয়নি।

তবে কাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার শক্তি যোগানোর উদ্দেশ্য নিয়েই প্রথমবারের মতো পো স্বজাতির সান্নিধ্যে আসে। আর সে সুবাদে অনেকগুলো পান্ডাকে দেখার সুযোগ পান দর্শক।

আগের দুটো সিনেমায় হাস্যরসের অভাব ছিল না আর সেই সঙ্গে ছিল রহস্য-রোমাঞ্চের তীব্র উপস্থিতি। কিন্তু এবারের গল্পটি শুরু থেকেই অনুমেয় হয়ে পড়ে। ফলে ক্লাইমেক্স অতটা জমে ওঠে না। সেই সঙ্গে আত্ম অনুসন্ধানের চিরকালীন বিষয়বস্তুর চিত্রায়নে নতুনত্বের স্বাদ দিতে পারেননি নির্মাতারা।

সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যগুলোও ছিলো আগের দুটি পর্বের মতোই। তবে কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি বা সিজিআইয়ের কাজেও নতুন কিছু চোখে পড়েনি। 

অবশ্য দর্শকের বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত রসদ ছিলো সিনেমা জুড়ে। পো হিসেবে বরাবরের মতোই অনবদ্য ছিলেন অভিনেতা জ্যাক ব্ল্যাক। তার সংলাপ বলার ধরন আনন্দ দিয়েছে আগের মতোই। সিনেমায় ততোটা ভয়ঙ্কর না হয়ে উঠতে পারলেও কাইয়ের ব্যাঙ্গাত্মক উপস্থাপন বিনোদন দিয়েছে। এই চরিত্রটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা জে কে সিমন্স। তার সংলাপ বলার ধরন সত্যিই ছিল দুর্দান্ত।  লি শ্যান চরিত্রে অনবদ্য পারফরম্যান্স দিয়েছেন 'ব্রেকিং ব্যাড' তারকা ব্রায়ান ক্র্যান্সটন। এছাড়া নৃত্যপটিয়সী পান্ডা হিসেবে কেট হাডসনকেও দারুণ লেগেছে। আর নিয়মিত চরিত্রে ডাস্টিন হফম্যান, লুসি লিউ, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, সেথ রোগান এবং জ্যাকি চ্যান ছিলেন বরাবরের মতোই ভালো। আর তাই ৯৫ মিনিটের এই সিনেমাটি টানা দেখে ফেলতে দর্শকের অসুবিধা হবে না।

চমক রেখে যাবার ব্যাপারে বেশ সিদ্ধহস্ত 'কুং ফু পান্ডা' ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এ পর্বেও ছিল তেমন কিছু চমক জাগানো প্রশ্ন। পো ছাড়া অন্য কিছু চরিত্রের পেছনের কাহিনি এখনো জানা যায়নি আর সেগুলো জানার জন্য পোর আরো একটি দুঃসাহসী অভিযানের অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

উপরে