আপডেট : ১২ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪৩

দ্যা ফাইভ ওয়েব (The 5 Wave)

বিনোদন ডেস্ক
দ্যা ফাইভ ওয়েব (The 5 Wave)

চলতি বছরের ২২শে জানুয়ারী ছবিটি মুক্তি পেয়েছে হলিউডে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত রিক ইয়ানসির সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। গত মাসের ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে হলিউডে ইতিমধ্যেই ১ঘন্টা ৫২ মিনিটের এই ছবিটি জায়গা করে নিয়েছে।

ছবির গল্প এগিয়েছে ষোড়শী ক্যাসি সুলিভান এবং তার পরিবারকে ঘিরে। যেখানে আছে তার বাবা-মা আর আদরের ছোট্ট ভাই স্যাম। সবকিছু যখন ঠিক-ঠাক চলছিল তখনই পৃথিবীতে আবির্ভাব হয় এলিয়েনদের।কিন্তু প্রথমদিকে তারা সশরীরে পৃথিবীর মানুষকে আক্রমন করে না। তারা পৃথিবীর উপর এমন তরঙ্গ প্রয়োগ করে ফলে পৃথিবীতে বন্ধ হয়ে যায় মনুষ্য নিমির্ত সকল যন্ত্র। মোবাইল ফোন অকেজো হয়ে যায়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়, টিভি চলে না, এমনকি আকাশের উড়ন্ত বিমানও মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে।

এর পরের তরঙ্গের মাধ্যমে ভীনগ্রহীরা পৃথিবীতে ব্যাপক জ্বলোচ্ছাসের সৃষ্টি করে। ফলে ধ্বংস হয়ে যায় পৃথিবীর সব স্থাপনা। মারা যায় অসংখ্য মানুষ। কিন্তু তখনও কোনরকমে বেঁচে থাকে ক্যাসি এবং তার পরিবার। কিন্তু এরপরে যখন পাখি, বিশেষ করে কাকের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্লেগকে মহামারি রোগ হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হয় তখন সেই রোগে মারা যায় ক্যাসির মা-সহ আরও অনেক মানুষ। পৃথিবীতে ক্রমেই কমে আসতে থাকে মানুষ। আর যারা বেঁচে থাকে তারা আধুনিক জীবন ছেড়ে প্রাচীন পাথুরে যুগের আদলে বনে-জঙ্গলে গিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। সেই দলে যোগ দেয় ক্যাসি, তার ভাই আর বাবা।

তারা জঙ্গলের যেই ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় সেখানে একদিন এসে হাজির হয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী জানায় এলিয়েনরা পৃথিবীতে মানুষকে নি:চিহৃ করতে পৃথিবীতে এসে পড়েছে। কিন্তু তাদের চেনার কোন উপায় নেই। কারন তারা এখন মানুষের মধ্যেই মিশে গেছে আর মানুষের মত দেখতেও। তাই সবাইকে এখান থেকে সরিয়ে নেয়া জরুরী। তারা ঘোষণা দেয় প্রথমে এখান থেকে শুধু শিশুদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে, পরে বয়স্কদের নেয়া হবে। ঘোষণানুযায়ী গাড়িতে উঠেও ভাইয়ের পুতুল আনতে গিয়ে তাদের সাথে যেতে পারে না ক্যাসি। কিন্তু সে লক্ষ্য করে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী ওই ক্যাম্পের সব বয়স্ক লোকদেরকে একটা ঘরে জড়ে করে। তারপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সবাইকে গুলি করে মেরে ফেলে। সেখানে মারা যায় ক্যাসির বাবা। অসহায় ক্যাসি সব দেখে ঘাবড়ে না যেয়ে সে তার ভাইকে মুক্ত করার শপথ নেয়। বন্দুক কাঁধে নিয়ে সে বেড়িয়ে পড়ে তার ভাইকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে।

সেনাবাহিনী স্যামসহ আরো অনেক শিশুকে একটি সুরক্ষিত ট্রেনিং ক্যাম্পে নিয়ে তাদেরকে এলিয়েনদের মারার জন্য প্রস্তুত করতে থাকে। তাদের ট্রেনইং দেয়া হয়, অস্ত্র দেয়া হয়। এলিয়েনদের থেকে তাদেরকে আলাদা করার জন্য মাথার পিছনে ঘাড়ে বসানো হয় একটি চিপ। এরপর শিশুদের একটি দলকে এলিয়েনদের মারার জন্য একটি জায়গায় পাঠানো হয়।

এদিকে স্যামের খোঁজে বের হওয়া ক্যাসির সাথে ঘটনাক্রমে দেখা হয় ওলিভারের। ওলিভার প্রেমে পড়ে যায় ক্যাসির কিন্তু কিছু ঘটনায় ক্যাসি বুঝতে পারে ওলিভারও এলিয়েনদের পক্ষে। তবে ওলিভার শেষ পর্যন্ত প্রমান করতে সক্ষম হয় সে প্রথমে এলিয়েনদের পক্ষে থাকলেও এখন সে পৃথিবীর মানুষদেরকেই রক্ষা করতে চায়।

ওদিকে ব্যান পেরিস আর জোম্বির নেতৃত্বে শিশুদল এলিয়েন মারতে গিয়ে বুঝতে পারে তারা আসলে ঘটনার শিকার। কারন তারা যাদেরকে মারছে তারা আসলে এলিয়েন নয় বরং মানুষ। আর যারা তাদেরকে এই কাজে পাঠিয়েছে সেই সেনাবাহিনীই আসলে এলিয়েন।

পরে ক্যাসি, ওলিভার আর ব্যান মিলে সেনাবাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্পটি ধ্বংস করে দেয়। উদ্ধার করা হয় ক্যাসির ভাই স্যামকে। আর এখানেই শেষ হয় ছবিটি। তবে শেষ দৃশ্য দেখে এটা বেশ বোঝা যাচ্ছে, হয়ত কয়েক বছরের মধ্যেই এই ছবির পরবর্তী পর্ব আসবে।

জে ব্ল্যাকসন এর পরিচালনায় ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ক্লোরি গেইজ মোরেজ, নিক রবিনসন, রন লিভিংস্টোন এবং ম্যাগী সিফ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

উপরে