আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:৫০

অঙ্গার

বিডিটাইমস ডেস্ক
অঙ্গার

এক গ্রামের দুই পরিবার-সরকার আর মণ্ডল পরিবার। তাদের শত্রুতার কারণে গ্রামে অশান্তি আর খুনোখুনি লেগেই আছে। সূর্য মণ্ডলের (রজতাভ দত্ত) ডান হাত বিশু (ওম) একাই দশ জনের সমান শক্তির অধিকারী। একদিন বিশুকে আক্রমণ করলো সরকারের লোক। আহত বিশুর প্রাণ বাঁচালো মায়া (জলি), তারপর যথারীতি প্রেম। কিন্তু বিশু একদিন জানতে পারলো মায়ার বাবা আসলে স্বপন সরকার (আশীষ বিদ্যার্থী)। যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘অঙ্গার’ এ এমনই ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমন আর নেহাল দত্ত। প্রধান চরিত্রে আছেন কলকাতার নায়ক ওম এবং বাংলাদেশের নতুন মুখ জলি।

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পুনর্নিমাণ না হলেও ‘অঙ্গার’-এর গল্পে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুরনো গল্পেই কিছুটা নতুন বাঁক চালানোর চেষ্টা বলে মনে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার আব্দুল্লাহ জহির বাবু বলেছিলেন অঙ্গার কলকাতা, বলিউড কিংবা তামিল, তেলেগু ছবির কপি না। কথাটি সম্পূর্ণ সত্যি। এটা কলকাতা, বলিউড বা তামিল, তেলেগু ভাষার কোন ছবির গল্প নয়, একটি কানাডিয়ান ছবির গল্প। ২০১৩ সালে এস নারায়ণের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া Appayya-এর দেশীয় ভার্শন হল অঙ্গার।

গল্পের অরিজিনালটি নিয়ে কোন কথা বলছি না, কারণ জাজ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের প্রতিটি ছবিই কপিরাইট কিনে বানানো। সমস্যা হলো গল্পটা অনেক সাধারণ আর চেনা। উপমহাদেশের দর্শকরা এমন গল্পের বহু ছবি আগে দেখেছ। এমন অর্ডিনারি গল্প বেছে নেওয়া এবং সেই গল্পকে ঘিরে প্রত্যাশার এমন বেলুন ফোলানোটা স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় জাগায়।

চিত্রনাট্যে বেশ কিছু পরিবর্তন ভালো লেগেছে। নাহ, কানাড়া নায়িকার লাল ওড়না বদলে জলির ওড়না হলুদ রঙ হয়ে যাবার কথা বলছিনা। অমিত হাসানের বোবা অথবা আশীষ বিদ্যার্থীর হাতে সবসময় একটা লাল বল থাকার মতো ক্যারেক্টার ট্রেইটের কথা বলছি। মূল ছবিতে একটা টাইম লিপ আছে, সেটাকে এড়িয়ে ইনস্ট্যান্ট একটা ক্লাইম্যাক্স দেওয়াটাও প্রশংসার দাবিদার। তবে উল্টোটাও আছে।

যেমন : বিশুর সংখ্যা জ্ঞান খুব সীমিত, লাখ বড় না হাজার বড় এটাও জানে না। অথচ সেই কিনা গুণে গুণে পঁচিশ হাজার টাকা চুরি করে এনেছে। বিশু প্রথম খুনটা করে লাশ রেল লাইনে ফেলে আসে। তখন দেখা যায়, অপর লাইন দিয়ে ট্রেইন যাচ্ছে। পরবর্তী দৃশ্যে সরকারের লোক যখন লাশ উদ্ধার করে, ট্রেইন তখন সম্পূর্ণ বিপরীত দিক থেকে আসছিল। তবে সবচে দুর্বল অংশটা হলো পাগলীর ক্যারেক্টারটা। কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে এই ক্যারেক্টারের আগমন ও তার ধন্বন্তরি চিকিৎসক বনে যাওয়াটা আজগুবি লেগেছে।

উপরে