আপডেট : ৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১৭:০২

বিবাহিত বোনের সঙ্গে ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অতঃপর...!

অনলাইন ডেস্ক
বিবাহিত বোনের সঙ্গে ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অতঃপর...!

প্রথমে বোনের শ্বশুবাড়িতে গিয়ে আলাপ হয়। এরপর দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ মাত্রা নেয়। ফোন নাম্বার দেয়া-নেয়া হয়। এভাবে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। একপর্যায় বিবাহিত যুবতীর সঙ্গে সম্পর্ক! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেইসব ঘনিষ্ঠ ছবি পোস্ট করে ব্ল্যাকমেইল করছিল প্রেমিকা।

এইসব ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ্যে আসতেই পরিচিত মহল থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন সবার কাছে অপমাণিত হচ্ছিলেন প্রেমিক যুবক। শেষমেশ প্রচণ্ড অবসাদে ভুগে আত্মহত্যার চরম পথ বেছে নিলেন ওই যুবক।

ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর বগাখালি নিশিকান্ত পোল এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিষ্ণপুরের বগাখালি নিশিকান্ত পোলের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী সুমন মণ্ডল। এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বিশালক্ষী তলায় সুমনের বোন চম্পা পণ্ডিতের শ্বশুরবাড়ি। তার বোনের শ্বশুবাড়িতে যাওয়ার পর শারিকা জানা নামে ওই বিবাহিত যুবতীর সঙ্গে আলাপ হয় সুমনের।

পরিবার সূত্রে জানায়, প্রথম দিকে সুমনকে ‘ভাই, ভাই’ বলেই ডাকতেন শারিকা। কিন্তু ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক এক অন্য মাত্রায় রুপ নেয়। ফোন নাম্বার আদান-প্রদান হয়। এসময় যোগাযোগ আরও বাড়তে থাকে। এভাবে একটা সময় গিয়ে বিবাহিত শারিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সুমন মণ্ডল।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হতেই সুমনের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা চেয়ে চাপ দিতে শুরু করেন শারিকা। পাশাপাশি শারিকা বিয়ের জন্যও সুমনকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু, প্রথমে বিয়েতে রাজি ছিল না সুমন। পরিবারেরও কারো এই বিয়েতে মত ছিল না।

পরে বিয়েতে সম্মতি না থাকায় সুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেবে বলে হুমকি দিতে শুরু করেন শারিকা। এরপরই জোর পূর্বক সুমনকে দীঘায় নিয়ে চলে যান প্রেমিকা শারিকা। সেখান থেকে ফিরে প্রথমে বেলঘরিয়া ও তারপর মহেশতলা বাটায় বাসা ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন তিনি।

এ নিয়ে সুমনের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, শারিকার এই চাপের মুখে বিয়েতে রাজি হয়ে যান তারা। এদিকে বিয়েতে মত দেওয়ার পর শারিকা আবার সুমনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চান। তখন টাকা দিতে অস্বীকার করেন সুমন।

অভিযোগ, সুমন এই টাকা না দিলে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুমনের সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি পোস্ট করা শুরু করে দেন শারিকা। বিবাহিত যুবতীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা সামনে আসতেই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু মহলে প্রচণ্ড অপমান হতে হয় সুমনকে।

পরিবারিক সূত্র জানা গেছে, এটার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সুমন মন্ডল। সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সুমন।

এরপরই গত শনিবার সকালে বাড়ির অদূরে বাগানের মধ্য থেকে সুমনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। দেখা যায়, গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুমন।

নিহতের পরিবার এই ঘটনায় প্রেমিকা শারিকার বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে