আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:৩৬

বাঘের ভয়ে টানা ৮ দিন গাছে...

আন্তর্জাতিক
বাঘের ভয়ে টানা ৮ দিন গাছে...

বাঘের পেটে গেছেন, নাকি খুন হয়েছেন, নাকি পড়েছেন জলদস্যুদের কবলে— এই নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের। অবশেষে আট দিন পর ফিরে এলেন তিনি, তাও সুস্থ অবস্থাতেই। যাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার পূজা জমে উঠে হিঙ্গলগঞ্জের বাজার এলাকায়। যাকে নিয়ে এত কাণ্ড, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা অমল মণ্ডল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, হিঙ্গলগঞ্জ বাজারের পাশে থাকেন অমল, স্ত্রী অনিলা এবং ছেলে সুরজিৎ। গত ৪ অক্টোবর এলাকার আরও চারজনের সঙ্গে সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ ধরতে বেরিয়ে যান অমল। ১০ অক্টোবর চারজন বাড়ি ফিরলেও অমল আসেননি। তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে সঙ্গীরা সদুত্তর দিচ্ছেন না বলে অনেকের মনে নানা সন্দেহ দানা বাঁধে। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি হলে তদন্তে নামে পুলিশ ও বন দফতর।

অমলের সঙ্গীরা জানান, সুন্দরবনের ৮ নম্বর চিমটার জঙ্গলে গিয়েছিলেন তারা। রাতে খাঁড়িতে নোঙর করেন। সকালে উঠে দেখেন, অমল নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে ফিরে আসেন তারা।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে জঙ্গলের ভেতর গাছের ওপর থেকে একজনকে চিৎকার করতে দেখে বনকর্মীরা পাড়ে নৌকা আনেন। তারা অমলকে উদ্ধার করে গোসাবার মোল্লাখালি থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ওই মৎসজীবীকে হিঙ্গলগঞ্জ থানায় আনা হয়।

সেখানে অমল শুনিয়েছেন বেঁচে থাকার এক আশ্চর্য কাহিনী।

অমল বলেন, ‘রাতের খাওয়া সেরে সকলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি, জঙ্গলের মধ্যে শুয়ে আছি। সারা গায়ে কাদা।’পুলিশের অনুমান, ঘুমের ঘোরে অমল নিজেই জঙ্গলে নেমে গিয়েছিলেন।

তারপরের ঘটনা আরও রোমহর্ষক। অমল বলেন, ‘বিপদের মধ্যে মাথা ঠাণ্ডা রেখেছিলাম। বুঝেছিলাম, যেকোনও সময় বাঘের পেটে যেতে পারি। তাই সামনে একটা লম্বা ও পাকাপোক্ত গর্জন গাছ দেখে চড়ে বসি। গত আট দিন ধরে ওই গাছের ফল খেয়ে ছিলাম। নদীর নোনা জল মুখে তোলা না গেলেও বাধ্য হয়ে তা-ই খেয়েছি।’

ঘুম এলেও যাতে গাছ থেকে পড়ে না যান, গামছা দিয়ে নিজেকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছিলেন অমল। তবে বাঘ আসেনি বলে বাঁচা। বিপদের মধ্যেও মাথাটা ঠিকঠাক কাজ করায় বেঁচে গিয়েছে ও, বললেন এক পুলিশ কর্তা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে