আপডেট : ৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১৪:৫৫

গুগল এলার্টের জনক এখন কৃষক!

বিডিটাইমস ডেস্ক
গুগল এলার্টের জনক এখন কৃষক!

নাগা কাটারু। যিনি গুগল এলার্টের একজন গর্বিত পথিকৃৎ। নাগা কাটারু ভারতের অন্ধপ্রদেশের গামপালাগুদেম নামে একটি কৃষিভিত্তিক ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা সেই গ্রামেরই এক স্কুল প্রিন্সিপাল। যার জীবনের মূল লক্ষ্যই ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় দীক্ষিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণেই নাগা কাটারু কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়ে ভারতের সবচেয়ে স্বনামধন্য ইনস্টিটিউট, ‘ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি’ থেকে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজির উপর ডিগ্রী লাভ করেন।

এরপর নানান প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নাগা কাটারু  ৪০তম কর্মচারী হিসেবে গুগলে যোগ দান করেন। এই গুগলে চাকরী পাওয়ার ব্যাপারটি এত সহজ ছিল না বলেই মনে করেন নাগা কাটারু, কিন্তু গুগল ঠিকই তার মধ্যে লুকায়মান নক্ষত্রের চমক দেখতে পায়।

নাগা কাটারুর মাথায় যখন প্রথম গুগল অ্যালার্টের বিষয়টি আসে তখন এই ব্যাপারে তার কোন কলিগ তাকে সাহায্য করেন নি, বরং আরো নিরুৎসাহিত করে গেছেন সবসময়। নাগা কাটারু তার গুগল অ্যালার্টের আইডিয়া নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললে ম্যানেজার এটা খুব অলাভজনক প্রজেক্ট হবে বলে মন্তব্য করেন।

ম্যানেজার তাকে বলেন, ‘গুগল টাকা পাচ্ছে কেননা মানুষ গুগলের কাছে আসে, কিন্তু আমরা যদি গুগল অ্যালার্ট তৈরী করি তাহলে আমরা টাকা হারানো শুরু করবো কারণ এটা দ্বারা গুগল থেকে মানুষ দূরে সরে যাবে।’ কিন্তু এতে করেও কাটারু দমে যান না। তিনি সরাসরি সের্গেই ব্রিন ও ল্যারি পেজের কাছে গুগল অ্যালার্টের একটি প্রোটোটাইপ এবং একটি সহজ ইউজার ইন্টারফেস উপস্থাপন করেন। এরপর থেকেই কাটারুকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। গুগল অ্যালার্ট বিলিয়ন ইউজার নিয়ে তার যাত্রা শুরু করে।

দীর্ঘ আট বছর গুগলে চাকরী করার পর নাগা কাটারু সিদ্ধান্ত নেন নতুন কিছু করার। সেই উদ্যোমেই তিনি গুগল থেকে সরে আসেন।

এটা শুনতে একটু অবাক লাগলেও সত্য যে আট বছরের সঞ্চয় করা সম্পদ দিয়ে নাগা কাটারু ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩২০ একর জায়গা কিনে বাদাম চাষ করা শুরু করেন। যদিও এই কাজে তার কোনরকমের অভিজ্ঞতা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না, কিন্তু তারপরও তিনি নিজেকে এর যোগ্য করে তোলেন তিলে তিলে। এবং খুব দ্রুতই তিনি বাদাম চাষে আয় করা শুরু করেন।

বর্তমানে তার এই ফার্মে ৮জন কর্মচারী কাজ করেন এবং এই ফার্ম থেকে বছরে তার আয় হয় ২.৫ মিলিয়ন ডলার।

নাগা কাটারু একজন সফল মানুষ। বলা যায়, তিনি যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন।  তার এই অপার সফলতার পেছনে রয়েছে তার মেধা আর কঠোর পরিশ্রম।

সূত্র: দ্য লজিক্যাল ইন্ডিয়ান

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে