আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৪০

যে রেস্টুরেন্টে কুকুরকে ‘হা’ কিন্তু ব্যাংকারকে ‘না’!

বিডিটাইমস ডেস্ক
যে রেস্টুরেন্টে কুকুরকে ‘হা’ কিন্তু ব্যাংকারকে ‘না’!

ফ্রান্সের একটি স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টের নাম ‘লেস একুরিস দি রিচেলিউ’। এই রেস্টুরেন্টের নাম আপনি অতি প্রাচীন এবং মর্যাদাপূর্ণ Michelin guide এ পাবেন। এই রেস্টুরেন্টে থাকে নামকরা সব চলচ্চিত্র তারকাদের আনাগোনা। তবে আজকের গল্প এই রেস্টুরেন্টের কোন খাবারের রিভিউ কিংবা এখানে আসা কোন চলচ্চিত্র তারকাকে নিয়ে না, এই রেস্টুরেন্টকে ঘিরে আমাদের আগ্রহ অন্য জায়গায়।

আপনি জানলে খুব অবাক হবেন এই স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টের বাইরে একটা বোর্ড আছে যেখানে লেখা- ‘কুকুর প্রবেশ করতে পারবে কিন্তু ব্যাংকাররা না’ (ব্যাংকারদের প্রবেশ মূল্যঃ ৭০,০০০ ডলার)।  এই লেখা কোন রেস্টুরেন্টের বাইরে দেখলে চোখ আটকাতে বাধ্য। অনেকেই হেসে ফেলবেন এবং চমকে উঠবেন এই ভেবে যে কেন এমনটা লেখা? এর পেছনের গল্পটা কি?

৩০ বছর বয়সী আলেকজান্ডার ক্যালেট, যিনি এই রেস্টুরেন্টের গর্বিত মালিক তার কাছেই আমরা জানতে চাইলাম কেন তার রেস্টুরেন্টে ব্যাংকারদের ওপর অমন নিষেধাজ্ঞা এবং তার কাছেই জানা যায় কি সম্পর্ক এই রেস্টুরেন্টের সাথে ব্যাংকারদের।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন লোন নিয়ে আমার দ্বিতীয় এই রেস্টুরেন্টটি চালু করার উদ্দেশ্যে ব্যাংক গুলোর কাছে যাই তারা বারবার আমাকে রিজেক্ট করে, আর আমি খুব অবাক হই তাদের এমন ব্যবহার দেখে। তারা আমার সাথে এমন ব্যবহার করছিল যেনো আমি রাস্তার কুকুর।’

আলেকজান্ডার ক্যালেট ৭০ হাজার ইউরোর জন্য ব্যাংকের কাছে লোন চান যা তার কাছে খুবই যুক্তিযুক্ত মনে হয়। কেননা, গত বছর ফ্রান্সের ব্যাংকের টার্ন ওভার ছিল প্রায় ৩০ হাজার ইউরো। এই লোন থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়াটা ক্যালেটের কাছে খুব অপমানজনক মনে হয় এবং তাতেই তিনি তার রেস্টুরেন্টে ব্যাংকারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন এবং রেস্টুরেন্টের বাইরে ব্যাঙ্গার্থক ঐ বোর্ড টানিয়ে দেন।

ক্যালেন বলেন, ‘যেভাবে ব্যাংকগুলো আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে সেটা খুব লজ্জাজনক এবং অপমানকর আমার কাছে। আমি অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল একজন মানুষ তারপরও আমাকে এই ব্যবহার সহ্য করতে হয়েছে। আমি যা বলবো সেটা হচ্ছে ব্যাংকাররা তাদের কাজ ভুলে গেছেন। ফ্রান্সে এই ধরনের সমস্যার জন্যই অনেক ব্যবসায়ী ফ্রান্স ছেড়ে চলে গেছেন লন্ডনে যা পরিণত হয়েছে ফ্রান্সের ষষ্ঠ শহরে। আমি বলবো এটা ফরাসী সমাজতন্ত্রের সমস্যা। আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের সমাজ কল্যাণ ব্যাবস্থার বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের চেয়েও বেশী। এই বিশ্বায়নের যুগে আমাদের ব্যাবসাগুলো সম্পূর্ণভাবে নিথর হয়ে আছে। আর আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’

এটাই প্রথম না যখন আলেকজান্ডার ক্যারেট কোন ব্যাংকের কাছে লোন পাননি। এর আগে তার প্রথম রেস্টুরেন্ট খোলার সময় তিনি ২০ বার ব্যাংকের কাছে লোনের ব্যাপারে প্রত্যাখ্যাত হন। অবশ্য শেষে একটি ব্যাংক লোন দেয়াতে রাজী হলে তিনি তার রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা শুরু করতে সক্ষম হন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে