আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০১৬ ১৮:১৯

মেয়ে শিশু জন্ম দেয়ায় স্ত্রীর হাত ভাঙলেন স্বামী!

অনলাইন ডেস্ক
মেয়ে শিশু জন্ম দেয়ায় স্ত্রীর হাত ভাঙলেন স্বামী!

হাতীবান্ধায় মেয়ে শিশু জন্ম দেয়ায় এক গৃহবধূর ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছেন পাষণ্ড স্বামী। পিটিয়ে মাথা ফেটে দেয়া ছাড়াও ভেঙে দিয়েছেন বাম হাত। শুক্রবার রাতে (২৫ মার্চ) ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজসেখ সুন্দর গ্রামে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম আঞ্জুয়ারা (২৪)। তিনি হাতিবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার আব্দুল আজিজের মেয়ে।আশঙ্কাজনক অবস্থায় আঞ্জুয়ারাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছে।

আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে উপজেলার নিজসেখ সুন্দর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আশাদুলের সঙ্গে আঞ্জুয়ারার বিয়ে হয়। 

নির্যাতিত গৃহবধূর বাবা আব্দুল আজিজ জানান, ৭/৮ বছর আগে তার মেয়ে আঞ্জুয়ারার সঙ্গে বিয়ে হয় আশাদুলের। আজ থেকে বছর চারেক আগে ছাব্বির নামে তাদের এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আঞ্জুয়ারা কন্যা সন্তানের মা হয়। এরপর থেকেই তার ওপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন।

কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার অপরাধে ২৫ মার্চ রাতে স্বামী আশাদুল স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আঞ্জুয়ারার মাথা ফেটে দেয়া হয়। এরপর বাম হাত ভেঙে দেয় আশাদুল। স্থানীয় লোকজন এসে আঞ্জুয়ারাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেয়।

নির্যাতিতা আঞ্জুয়ারা জানান, বাচ্চা গর্ভে আসার পর থেকেই তাকে তার স্বামী মানসিক নির্যাতন শুরু করে। কন্যা সন্তান জন্ম দিলে তাকে তালাক দেয়ারও হুমকি দেয়।

ঘটনার সত্যতা জানতে আঞ্জুয়ারার স্বামী আশাদুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রমজান আলী জানান, আঞ্জুয়ারার মাথায় ৫টি সেলাই দেয়া হয়েছে। বাম হাত ভেঙে গেছে। তাকে সুস্থ্য করে তুলতে অনেক সময় লাগবে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, গৃহবধূকে নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

উপরে