আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৬ ১৫:১৭

৪৪ বছরে প্রথম যৌনস্বাদ! মেটালো কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ ও পতিতা

বিডিটাইমস ডেস্ক
৪৪ বছরে প্রথম যৌনস্বাদ! মেটালো কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ ও পতিতা

মিস্টার আবেদ, আপনার এখন অনুভূতি কি?

‘সত্যি অসাধারণ! আমি হয়ত আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তবে আমি এর জন্য দীর্ঘ বিশ বছর যাবত অপেক্ষা করছিলাম’, বললেন আবেদ।

হাসিখুশি চেহারার অধিকারী ৪৪ বছরের মুহাম্মদ আবেদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল সাংবাদিকদের। যিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর পর যৌনতার স্বাদ পেলেন। তাও কিনা কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ দিয়ে।

৬ বছর বয়সে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় যৌনাঙ্গ হারায় মুহাম্মদ আবেদ। দুর্ঘটনার পরপর ডাক্তাররা একটি নল স্থাপর করেন দিয়েছিলেন। এরপর ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ৮ ইঞ্চির কৃত্রিম যৌনাঙ্গ তার শরীরে জোড়া লাগান। ৭০,০০০ হাজার ডলার খরচ করা হয় এই অপারেশনে।

বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তারা তাকে জানান, এখন থেকে তিনি স্বাভাবিক মানুষের মত সব কিছু করতে পারবেন। তখন থেকেই মুহাম্মদ আবেদের প্রতীক্ষার পালা শুরু হয়। অত:পত আবেদের সঙ্গে পরিচয় হলো যৌনকর্মী শার্টল রোজের।

মুহাম্মদ আবেদ তার পূর্বের সব ঘটনা শার্টল রোজের কাছে খুলে বললেন। মুহাম্মদ আবেদ, শার্টল রোজের কাছে জানতে চাইলো, তুমি কি আমার জীবনের প্রথম যৌনসঙ্গিনী হবে?

রোজ অবশ্য আবেদ কে ফিরিয়ে দেননি। তারা প্রথম দেখা করলেন লন্ডনের সেন্টার্ল হোটেলে। তারা দুইজন কিছুদিন সময় নিলেন একে অপরকে জানার জন্য। আবেদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলো।

আবেদ বলেন, ‘রোজ খুব নার্ভাস ছিলেন, সেই সঙ্গে আমিও খুব ভয়ে ছিলাম। কিন্তু আমাদের যৌনমিলন শেষে রোজ যখন হাসি মুখে আমাকে জানালো যে, সে মুগ্ধ! তখন আমরা দুইজনই হাসি মুখে ঘুমোতে গেলাম।

রোজ একজন যৌনকর্মী। তিনি সাধারণত প্রতি রাতের জন্য ১৬০ ডলার নিয়ে থাকেন কিন্তু মুহাম্মদ আবেদের কাছ থেকে কোন অর্থ নেননি।

রোজ বলেন, ‘আবেদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটা সময় আমার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত। আমরা আমাদের প্রতিটা সময় হাসি, আনন্দ ও মজা দিয়ে কাটিয়েছি। আবেদ সত্যিই অনেক ভাল মানুষ। আবেদের সঙ্গে এখন আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আমি চাই আমাদের এই সম্পর্ক দীর্ঘদিন থাকুক।’

মুহাম্মদ আবেদ অবশ্য ২০১২ সালে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের রাতেই আবেদ তার স্ত্রীকে বলেন তার যৌনাঙ্গের সমস্যার কথা। আবেদের স্ত্রী সহানুভূতি দেখালেও তাদের বিয়েটা আর টিকলো না।

আবেদের এখন একমাত্র ইচ্ছা হল বাবা হওয়া। ডাক্তারা তার শুক্রাণু পরিক্ষা করে দেখেন এটা সম্ভব। মুহাম্মদ আবেদকে এই ব্যপারে তার এক বন্ধু সহায্য করছে। শার্টালের সঙ্গে দিন কাটানের পর থেকেই মুহাম্মদ আবেদের হারানো আস্থা ফিরে পায়।

দ্য মিরর থেকে অনুবাদ করেছেন অনিক আলম

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে