আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩১

দিনে আঠারো বার সঙ্গমে সেরে গেল ক্যান্সার!

বিডিটাইমস ডেস্ক
দিনে আঠারো বার সঙ্গমে সেরে গেল ক্যান্সার!

অবিশ্বাস্য হলেও ব্যাপারটি সত্যি! বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। বেপরোয়া যৌনতায় ক্যান্সার পুরোপুরি সেরে গেছে ৫৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের।

ঘটনার বিবরন দিতে গিয়ে ডা. জন লি বলেন, ‘লুজিয়ানাতে বাস করা ৫৫ বছরের একজন বৃদ্ধ চিকিৎসা নিতে আমার কাছে আসেন। তিনি যখন জানতে পারেন যে, তার ক্যান্সার এবং আর মাত্র তিন মাস বাঁচবেন তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত যতসম্ভব যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত থাকবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে তিনি নিজেই খুব অতিপ্রাকৃ্তিক উপায়ে নিজেকে ক্যান্সারমুক্ত করে ফেলেন। তার নেয়া সিদ্ধান্তের একমাসের মধ্যেই আমি দেখি তার ব্রেইনে টিউমারের আর কোন লক্ষণ নেই যা কিছুদিন আগেও তাকে মৃত্যু ভয় দেখাচ্ছিলো। একেবারে সম্পূর্ণ গায়েব!’

ডা. আরও বলেন, ‘আমি আমার রোগীকে বললাম, তার ব্রেইন টিউমারটি খুব দ্রুত বাড়ছে, যা খুব ভীতিকর এবং এটা যদি বাড়তেই থাকে তবে তার জীবন তিন মাসের বেশী থাকার কথা নয়। শুধু তাই নয়, সে যেকোন সময়ই মৃত্যুবরন করতে পারে, চলে যেতে পারে কোমায়। আর কোমায় চলে গেলে আমৃত্যু কখনই তিনি সেই অবস্থা থেকে ফিরতে পারবেন না।

ডা. স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেন, ‘এটা খুবই উৎসাহপূর্ণ একটি ঘটনা আমার কাছে যে রোগীটি এখনো জীবিত এবং সুস্থ। তার মাথায় টিউমারের চিহ্ন অবদি নেই। আমি একজন র‍্যাশনাল মানুষ, কিন্তু এইটা পরিস্কার ভাবেই ইশ্বরের কৃপা ছাড়া আর কিছু না। এছাড়া আমার কাছে এ ঘটনার আর কোন ব্যাখ্যা নেই।

জানা যায়, যখন এডাম জানতে পারলো যে, সে আর মাত্র তিন মাস বাঁচবে। সে তখন একটুকুও বিশ্বাস হারায় নি, ঘাবড়ে যায় নি।

এডাম বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক কঠিন সময় এসেছে, কিন্তু যখন আমি জানলাম এই পৃথিবীতে আমার আর অল্প ক’দিন আছে বাঁচবার, আমি আমার সব সম্পত্তি এক করলাম, আর একটা টিকেট কিনলাম থাইল্যান্ডের।’

সে স্বীকার করলো যে, ‘আমি এক মাস, যতবার সম্ভব যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছি, যতবার আমি চেয়েছি। দিনগুলো আমি রকস্টারের মত কাটিয়েছি। আমি সবগুলো সম্ভবপর ড্রাগস নিয়েছি সকাল থেকে সন্ধ্যা। আমার সাথে এক ডজন মেয়ে পারমানেন্টলি থাকতো। আমার ছিল ছোট হেরেমখানা, নিজের রাধুনী। এই কিছুদিন আমি রাজার মত জীবন যাপন করেছি।’

‘কিছু কিছু দিন মনে হত আমি ‘ডন জন ডিমারকো’ মুভির ‘জনি ডেপ’। যেখানে সে একমাস হেরেম খানায় ছিল আর ব্যায় করেছে তার সমগ্র শ’ শ’ মেয়েদের সাথে যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হয়ে। আমি নিঃশ্বাসের মত যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত ছিলাম। আমি প্রতিদিন চাইতাম আরো, আরো বেশী নারীদের সাথে যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হতে। কিন্তু কখনই দিনে ১৮ বারের বেশী আমার নিজের এই রেকর্ডটাই আমি ভাঙ্গতে পারিনি।’

ডা. এলেন যিনি নিউ ওরলান্স মেডিসিনের প্রধান, তিনি বিশ্বাস করেন যে, সেই ক্যান্সার রোগী যতবার যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছে আর যতবার ড্রাগ নিয়েছে ততবারই তা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে না দিয়ে নিয়ে গেছে জীবনের দিকে, অথাৎ রি-একশান যা হয়েছে সব উল্টো। এন্ডরফিন্সের একটা পাওয়ারফুল প্রভাব রয়েছে এইরকম টিউমারের গায়েব হওয়ার পেছনে।

তিনি আরো বলেন, ‘একটি দীর্ঘ এন্ডোরফিন্সের প্রভাব যা এই নন স্টপ যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হবার এবং অসংখ্যবার ড্রাগ নেবার জন্য শরীরে পড়েছে সেটাই ব্রেইন টিউমারটিকে একেবারে মুছে দিয়েছে’

তিনি আরো যোগ করেন ‘এটা একটা চমৎকার কেস বিশ্লেষনের জন্য যা কিনা পরবর্তীতে এই ধরনের কন্ডিশনের বিকল্প সমাধান বের করতে আমাদের সাহায্য করবে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জামি

উপরে