আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১২:৫৩

যে ৫টি সত্য গোপন করে পাকিস্তান!

বিডিটাইমস ডেস্ক
যে ৫টি সত্য গোপন করে পাকিস্তান!

সত্য কখনো চাপা থাকেনা। বারবার মিথ্যা প্রবচন আর কিছু সাজানো কিছু গল্প বারবার সামনে আনার চেষ্টা করলেও পাকিস্তানের সত্যিগুলো কোনোদিনই লুকিয়ে থাকবে না। দেশের যা কিছু ‘নেগেটিভ’ তা চাপা দিয়ে রাখলেই সব সমস্যাগুলো কখনও সমাধান হয়ে যায় না বরং আরও বেশি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। পুরো বিশ্বকে সাজানো গল্প বললেও বারবার সামনে এসে যায় পাকিস্তানের চরম সত্যিগুলো-

১. মালালা ইউসুফজাই : এই নামটার আর আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সাহস করে শিক্ষার প্রচার করতে যাওয়ায় মেরে ফেলার চেষ্টা হয় এই পাক-কন্যাকে। পাকিস্তানের দাবি, দিনে দিনে পশ্চিমের চর হয়ে উঠছে মালালা। পাকিস্তানের শত্রুদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েছে মালালা। মালালার দেশের দাবি, সেজন্যই নাকি নোবেল পাওয়া মালালার। ভারত-আমেরিকা-ইজরায়েলই মদত দিচ্ছে মালালাকে। এমনকি অ্যান্টি-মালালা ডে পালন করতেও দেখা গেছে দেশটিতে।

কিন্তু, সত্যিটা হল- মালালা কখনই পাকিস্তানকে সন্ত্রাস অধিকৃত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেন না। তিনি বারবার বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদীরা আধিপত্য বিস্তার করছে কিন্তু সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে। এমনকী পাকিস্তানের মেয়েরা যাতে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য ফান্ডিং-এর ব্যবস্থাও করেন মালালা। সাক্ষাৎকারে বারবার বলে থাকেন, পাকিস্তানের জন্য তার ভালবাসা কোনোদিনই কমবে না। তিনি দেশদ্রোহী নন বরং দেশের ভালো চান।

২. ১৯৭১’র যুদ্ধ: পাকিস্তানের কাছে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার। আর তাই স্বভাবতই এটিকে তারা লুকিয়ে রাখতে চাইবে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এক সেনাবাহিনী নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুদ্ধে এমন গো-হারা আর কে হেরেছে বলুন। ৯ মাসের সে যুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিকামী কৃষক, মজুর, ছাত্র, জনতা গেরিলা যোদ্ধা রূপে আবির্ভূত হয়। তাদের সঙ্গে যুদ্ধে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। বিশ্বের যে কোন জায়গায় কোন পাকিস্তানির সামনে এ বিষয়টি তুলতে তারা দারুণ অস্বস্থিতে পড়ে যায়।

৩ ISI: পাকিস্তানের এই এজেন্সির নাম এখন কারও অজানা নয়। তবে ISI এর মদতেই যে সন্ত্রাসের স্বর্গ হয়ে উঠেছে পাকিস্তান সেই তথ্য গোয়েন্দা দলগুলোর হাতে রয়েছে। আফগানিস্তানে সন্ত্রাসের জন্ম দেওয়ার পিছনেও ISI ছিল বলেই জানা যায়। দাউদ ইব্রাহিমকে যে তারাই আশ্রয় দিয়েছে তারও একগুচ্ছ প্রমাণ রয়েছে। এমনকী লাদেনকে লুকিয়ে রাখার পিছনেও ISI এর হাত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল আমেরিকা। বর্তমানে জাল নোটের কারবারেও নাম জড়িয়েছে এই সংস্থার।

৪. চীনা দ্রব্য নিয়ে গর্ব: প্রতিবেশী ভারত যতই নিজেদের প্রডাক্ট বানাতে চাইছে পাকিস্তান তত বেশি করে চীনা অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বলে জানা যায়। ভারতের মঙ্গল অভিযানের পর বারবার ভারতের দারিদ্র্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান। তবে ভারতীয়দের দাবি, ISRO বর্তমানে বিদেশের উপগ্রহ আকাশে পাঠিয়ে অনেক টাকা রোজগার করছে। ISI ড্রাগ পাচার করে সেই পরিমাণ টাকা তুলতে পারছে না বলেও দাবি করা হয়। বারবার নিজেদের অস্ত্রশক্তি প্রদর্শন করছে পাকিস্তান। যদিও বিশ্বের শক্তির তুলনায় সেটা কিছুই নয়।

৫. আর্থিক দুর্বলতা: পাকিস্তানের মানুষকে বোঝানো হয় যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সব অংশেই সমান পাকিস্তান। কিন্তু, বাস্তবে পুরো দেশটার GDP ভারতের শুধুমাত্র মুম্বইয়ের থেকে কিছুটা বেশি। যদি পাকিস্তান পরমাণু শক্তিতে ভারতকে টেক্কা দিতে চায় কিংবা ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে চায় তাহলে গোটা দেশের অর্থনীতিটাই শেষ হয়ে যাবে। পাকিস্তান সেনা যতই শক্তিশালী হোক বিশ্বের প্রথম দশে কখনই আসে না তাদের নাম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে