আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫৯

ইসরায়েল ক্রিস্টাল এখন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ইসরায়েল ক্রিস্টাল এখন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষ

বেঁচে থাকার কথা নয় ইসরায়েল ক্রিস্টালের। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ই তার জীবন সাঙ্গ হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের আউশভিৎজ মৃত্যুকূপ থেকে বেঁচে যাওয়া ইসরায়েল ক্রিস্টাল এখন পর্যন্ত শুধু বেঁচে আছেন তা নয়, বিশ্বের বয়োজোষ্ঠ পুরুষ ব্যক্তি হিসেবে গিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ১১ মার্চ রেকডর্স লিপিবদ্ধ করার সময় ১৯০৩ সালে পোল্যান্ডের জারনাউকে জম্ম নেওয়া ক্রিস্টালের বয়স ছিল ১১২ বছর ১৭৮ দিন। তার আগে বিশ্বের সবচেয়ে বয়োজোষ্ঠ মানুষ ছিলেন জাপানের ইয়াসুতারো কোইদে। গত জানুয়ারিতে ১১২ বছর ৩১২ দিন বয়সে তিনি মারা গেছেন। পোল্যান্ডে জম্ম হলেও দুটো বিশ্ব যুদ্ধের সাক্ষী ক্রিস্টাল এখন ইসরায়েলের হাইফা শহরে বাস করছেন। তবে ক্রিস্টাল কিন্তু সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ নন। পুরুষদের মধ্যে তিনি প্রবীণতম তবে নারী ও পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণতম হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুশান্তা মুশাত জোনস। ১১৫ বছর ২৪৯ দিন বয়স তার। ১৮৯৯ সালের ৬ জুলাই জম্ম মুশাত জোনসের।

এবার জেনে নেওয়া যাক ক্রিস্টালের জীবন কাহিনীর কিছুটা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্রিস্টালের বাবা রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হওয়ায় ক্রিস্টালের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় তিনি পরিবারের ব্যবসা দেখাশোনার জন্য পোল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম শহরে লজে চলে যান। পরে নাৎসী বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করলেও পরিবারসহ লজের বস্তি এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হন। তবে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার অনুমতি পেলে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না তার। বস্তিতে তার দুই সন্তান মারা যায়। ১৯৪৪ সালে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলায় স্ত্রীসহ তাকে আউশভিৎজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ক্রিস্টালের স্ত্রীকে সেখানে হত্যা করা হয়। ক্রিস্টালকে বাঁচিয়ে রাখা হলেও বন্দিশিবির সহ অন্যান্য ক্যাম্পে বিভিন্ন কাজ করতে হতো তাকে।

যুদ্ধের পর আবার লজে ফিরে আসেন তিনি। চালু করেন সেই পুরানো মিষ্টির ব্যবসা এবং ১৯৪৭ সালে আবার বিয়ে করেন। ১৯৫০ সালে পোল্যান্ড ছেলে স্ত্রী ও সন্তানসহ ইসরায়েলে চলে যান। সেখানে তিনি নতুন করে মিষ্টির কারখানা দেন, শহরের মানুষ যেটাকে ক্রিস্টাল সুইটস নামে জানে। ইসরায়েলে জম্ম নেয় হয় তার মেয়ে শুলার।

দীর্ঘ জীবন সম্পর্কে ক্রিস্টাল বলেন, ‘এর রহস্য সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। তবে সবকিছু ওপর থেকে নির্ধারিত হয়।’ বাবা সম্পর্কে শুলা বলেন, ‘তিনি বিশ্বাস করেন সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় তিনি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস সবকিছুর একটা কারণ আছে। আমার বাবা সবসময় একজন সুখী মানুষ। তিনি আশাবাদীও। তিনি জ্ঞানী এবং তার যা কিছু আছে তার মূল্য দিতে জানেন।’ বাবা সম্পর্কে শুলা আরো বলেন, ‘তিনি পরিমিত খাবার খান এবং পরিমিত ঘুমান। তিনি বলেন একজন মানুষকে তার নিজের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যতদূর সম্ভব জীবনকে মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া উচিত নয়।’

উপরে