আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৪৮

দত্তক পুত্রের সঙ্গে ১০ বছর যাবৎ দৈহিক মিলন!

বিডিটাইমস ডেস্ক
দত্তক পুত্রের সঙ্গে ১০ বছর যাবৎ দৈহিক মিলন!

দত্তক পুত্রের সঙ্গে ১০ বছর যাবৎ দৈহিক মিলন ঘটিয়ে চলেছেন ৪৪ বছর বয়সী পালক মা ক্যারোলিন ফ্লিন! শুধু তাই নয়, দত্তক পুত্রের সঙ্গে যৌনতা করেছেন ৭১ বছর বয়সী বাবা রালফ। সম্প্রতি যৌন নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায়, মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন ২৩ বছর বয়সী দত্তক ছেলে ডেনিস ফ্লিন। 

রাশিয়ান এতিমখানা থেকে বালক অবস্থায় দত্তক হিসেবে আমেরিকায় নিয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন কাজে বাধ্য করেছে পালক পিতা-মাতা। এক দশকের যৌন নির্যাতনের শুরু হয়েছে তার পালক মায়ের মাধ্যমেই।

২৩ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নাগরিক ডেনিস ফ্লিনের দাবি, তিনি তার দত্তক পিতা-মাতা দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাকে রাশিয়ার এক এতিমখানা থেকে আমেরিকায় আনা হয় এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে যৌন নির্যাতিত করা হয়।

ডেনিস ফ্লিন এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপনের বিষয়ে বলেন, যারা এ ধরণের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বা হচ্ছেন, তারা যেন মুখ বুজে এসব সহ্য না করেন। তারা যেন সোচ্চার হওয়ার সাহস পান।

তিনি গত বুধবার মার্কারি নিউজকে বলেন, ‘আমি চাই সবাই জানুক আমার সঙ্গে যে আচরন তারা করেছেন, তা মোটেই ঠিক নয়।’

ডেনিস বলেন, ‘আমি চাই যৌন নিপীড়নের শিকার যারা হয়েছেন, তাদের ভেতরে প্রতিবাদী স্বত্তা জাগিয়ে তুলতে। যেন তারা যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে উৎসাহ পায়।’

ডেনিসকে দত্তক নেওয়া রালফ ফ্লিন ও ক্যারোলিন ফ্লিনের বিরুদ্ধে বেআইনী সহবাস ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয় আইনি প্রক্রিয়ায়। ডেনিস বলেন, তার অপ্রকাশিত ক্ষতি হয়েছে।

ডেনিসের আইনজীবী রিচার্ড আলেকজান্ডার মার্কারি নিউসকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তির গঠনমূলক মালিক হবে ডেনিস।

ডেনিস স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বরেন, ‘আমার নিজের জন্য আলাদা বিছানা পেয়েছি, নিজের টিভি পেয়েছি সেইসঙ্গে চমৎকার খাদ্যও পেয়েছি। শুরুতে আমাকে কয়েক মাস দেওয়া হয় নতুন জীবনকে উপভোগ করার জন্য। কিন্তু হঠাৎ জীবনের একটি বিরাট মোড় নেয়’

তিনি বলেন, যে যৌনতার মধ্যে তিনি বড় হয়েছেন তা জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছিলো। দিন দিন সে অত্যাচার বেড়ে যায়। খেলাধুলা করা ও অন্যান্য কাজ করার অনুমতি মিলতো যৌনতার অবসরে।

ডেনিস বলেন, প্রথম দিকে মাসে তিনবার যৌন কর্মকাণ্ড চলতো। পরের দিকে প্রায় প্রতি দিন, প্রতি সকাল, বিকেলে ও সন্ধ্যায় ঘটতো। তিনি জানতেন কিছু মারাত্মক ভুল হচ্ছে। কিন্তু তিনি ফের অনাথ হতে চাননি।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর রালফ ফ্লিন বলেন, তিনি তার কর্মের জন্য নিজেকে দোষী মনে করেন এবং তিনি একটি কৈফিয়ৎ চিঠিতে বলেছেন, তখন তিনি ‘স্নেহ দ্বারা অন্ধ’ ছিলেন।

ডেনিস বলেন, যখন তিনি ১৯ বছরে পা দেন, তখন তিনি একজন মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু মামলা করতে চাননি। পরে তিনি গত বছরের আগস্ট মাসে এক বন্ধুর পরামর্শে গোপনে নির্যাতকদের  বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। ডেনিস এখন একটি ম্যাসেজ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করেন।

ইতোমধ্যে ক্যারোলিন ফ্লিন জামিন পেতে ৫ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছেন। আর রালফকে জামিন বাবদ সান্তা ক্লারা কাউন্টিস এল্মউড কারাগারে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে