আপডেট : ১০ মার্চ, ২০১৬ ২২:০৬

গাঁজাতেই তাজা ইলোরার গুহাচিত্র!‌

অনলাইন ডেস্ক
গাঁজাতেই তাজা ইলোরার গুহাচিত্র!‌

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গবাদ শহর থেকে ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইলোরা। এখানে রয়েছে প্রচুর স্মৃতি সংবলিত গুহার সারি। এসব গুহার দেয়ালে আছে অনেক ছবি যা এখনো সেই হাজার বছর আগের মতোই রয়েছে।

ইলোরার বিশ্ববিখ্যাত গুহাচিত্রমালা যে দেড় হাজার বছর ধরে টিকে আছে, তার কারণ হল বিশুদ্ধ গাঁজাপাতা। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞান বিষয়ক শাখার এক প্রাক্তন কর্তা গবেষণা করে ইলোরার এই অনন্তযৌবনরহস্য খুঁজে পেয়েছেন। ইলোরার গুহার দেওয়ালে ছবি আঁকার আগে, মাটি আর চুনের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণে মেশানো হতো গাঁজাপাতার মণ্ড। যে কারণে এতদিন ধরে অক্ষত আছে পাথুরে দেওয়ালের গায়ের ওই আস্তরণ।

কাণ্ডজ্ঞানহীন কিছু পর্যটক ছবিগুলোর ওপর নিজের নাম খোদাই করে লিখে কিছু ছবি নষ্ট করলেও, সময় আঁচড় কাটতে পারেনি তার গায়ে। এ এস আই–এর পশ্চিমাঞ্চল শাখার প্রাক্তন পুরাতাত্ত্বিক–রসায়নবিদ রাজদেও সিং–কে এই রহস্য উদ্ধারে সাহায্য করেছেন অওরঙ্গাবাদের মারাঠাওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক এম এম সরদেশাই। তাঁদের এই যৌথ সাফল্যের বিস্তারিত প্রকাশিত হচ্ছে দেশের প্রথম সারির বিজ্ঞানচর্চার পত্রিকা কারেন্ট সায়েন্সে। নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ করে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, মূলত কীটনাশক হিসেবে মাটি আর চুনের সঙ্গে মেশানো হয়েছিল গাঁজা পাতার মণ্ড, যে কারণে ইলোরার গুহাচিত্রে কখনও পোকা ধরেনি, আস্তরণ ফুটো করে কোনও পোকা বাসা বাঁধতে পারেনি, বা ছবির রঙ খেয়ে নষ্ট করতে পারেনি।

আরেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অজন্তার গুহাচিত্রের বেলায় কিন্তু তা করা হয়নি, ফলে সেখানকার অন্তত ২৫%‌ ছবি পোকামাকড়ে নষ্ট করে দিয়েছে। দুই গবেষক জানান, ষষ্ঠ শতক থেকেই ভারতে গাঁজা পাতার নানা ধরনের ব্যবহার প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে স্থাপনা ও নির্মাণের ক্ষেত্রে। ১২ শতকে তৈরি দেওগিরি বা দৌলতাবাদ দুর্গ তৈরির সময়ও গাঁজাপাতা ব্যবহার হয়েছিল। ইওরোপেও সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, বাড়ি তৈরির মশলায় গাঁজাপাতা ব্যবহার করায় বাড়ি ৬০০–৮০০ বছর অবধি টিকে গেছে। কিন্তু দেড় হাজার বছর ধরে গুহাচিত্র টিকে যাওয়াটা আরও বড় এক স্থাপত্যকৌশলের হদিস দিল।

উপরে