আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩৩

ভিক্ষুকদের সঞ্চয় কোটি টাকার বেশি!!

অনলাইন ডেস্ক
ভিক্ষুকদের সঞ্চয় কোটি টাকার বেশি!!

‘ছোট বালুকার কণা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল’ কবির সেই কথাটি যে খাঁটি সত্য তা দেখিয়েছেন নীলফামারীর কয়েকজন ভিক্ষুক। ছোট ছোট প্রচেষ্টায় বড় কিছু সম্ভব এমনটাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন তারা। ভিক্ষুকরা যে সঞ্চয় করতে পারে তার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ জেলার ভিক্ষুকরা। ‘আজকের সঞ্চয় আগামী দিনের সম্পদ’-এ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে তারা ব্যাংকে জমিয়েছেন প্রায় সোয়া কোটি টাকা।

এই উপজেলার ৯৫১ জন ভিক্ষুকের মাসিক সঞ্চয় ও প্রাপ্ত অনুদান মিলিয়ে তফসিলী একটি ব্যাংকে ১২টি পৃথক হিসাবের (একাউন্টের) বিপরীতে ওই পরিমাণ টাকা জমা হয়েছে।

প্রায় দুই বৎসর আগে কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণার পাশাপাশি ভিক্ষুকদের পুনর্বাসিত করে স্বাবলম্বী করতে ব্যাপক কর্ম তৎপরতা হাতে নেন তৎকালীন নির্বাহী অফিসারসহ ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচির সংশ্লিষ্টরা।

পুনর্বাসিত ভিক্ষুকদের নেয়া হয় উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে। ওই প্রকল্পের আওতায় তারা নিজ নিজ গ্রামে গঠন করেন সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি।

উপজেলার ৯৫১ জন ভিক্ষুকের নামে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে সমিতির নামে পৃথক ১২টি যৌথ পরিচালনার সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়। প্রতি মাসে প্রত্যকে দুইশ টাকা করে সঞ্চয় করেন। গত দুই বছরে ওইসব হিসেবে (একাউন্টে) জমা হয়েছে ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি ওইসব হিসাবে জমা পড়েছে অনুদান ও কল্যাণের ৪১ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৩ টাকা এবং ঋণ তহবিল থেকে ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ১০৩ টাকা। সব মিলিয়ে অ্যাকাউন্টে মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৬ টাকা।

‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মিজানুর রহমান হিসাবগুলো দেখভাল করেন। মো. মিজানুর রহমান বলেন, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় শাখায় যৌথ পরিচালনার ১২টি পৃথক সঞ্চয় হিসাব খোলা হয়েছে। গত দুই বছরে মোট সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৬ টাকা।

কেসবা গ্রামের পূর্নবাসিত ভিক্ষুক জাম্মাত হোসেন (৫৭) বলেন, ‘হামরা আগত ভিক্ষা করি জীবন চালাইছিনো, সিদ্দিক ছার আসিয়া হামাক বাঁচার নতুন রাস্তা দেখাইছে, আল্লাহ তার ভাল করুক।’

এ বিষয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম. মেহেদী হাসান বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ ভিক্ষুকমুক্ত করার কৃতিত্ব আগের ইউএনও সিদ্দিকুর রহমানের। সব মহলের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি তা সম্ভব করেছেন। পুনর্বাসিত ভিক্ষুকরা ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করেছেন। যা অন্যান্যদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।’

সূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর

উপরে