আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ১১:২৮

৫ হাজার কিমি পাড়ি দিয়ে পেঙ্গুইন আসে তার মানুষ বন্ধুকে দেখতে!

অনলাইন ডেস্ক
৫ হাজার কিমি পাড়ি দিয়ে পেঙ্গুইন আসে তার মানুষ বন্ধুকে দেখতে!

বন্ধুর প্রতি বন্ধু টান কিংবা কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের মধ্যে দেখা যায় না খুব একটা। কিন্তু অন্য প্রানীদের মধ্যে এই কৃতজ্ঞতাবোধের বিষয়টা লক্ষ্যনীয় এবং শিক্ষনীয়ও বটে।

প্রায় চার বছর আগের ঘটনা। রিও ডি জেনেরিও-র সমুদ্রতটের কাছে ৭১ বছর বয়সী মৎস্যজীবী জাওয়া পেরিয়েরা ডি সুজার চোখে পড়েছিল তেলে মাখামাখি দক্ষিণ আমেরিকার এক মাগেলানিক পেঙ্গুইন। অভুক্ত অবস্থায় বালির উপরে পড়ে ছিল সে। আদতে সেই পেঙ্গুইন ছিল আর্জেন্টিনা এবং চিলির কাছে প্যাটাগনিয়া কোস্টের বাসিন্দা।
এক সপ্তাহ বাড়িতে রেখে পেঙ্গুইনটির শুশ্রুষা করেছিলেন জাওয়া। যত্ন করে তার গা থেকে নাছোড় তেল তুলেছিলেন, তাকে নিজে হাতে খাবার খাইয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে আবার সমুদ্রে ছেড়ে দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তখন জাওয়াকে ছেড়ে যেতে রাজি হয়নি সেই পেঙ্গুইনটি। আরও ১১ মাস জাওয়ার নিরাপদ আশ্রয়ে কাটিয়ে গায়ে নতুন পালক হওয়ার পরে বিদায় নিয়েছিল পেঙ্গুইনটি। ইতিমধ্যে তার নামকরণও করে ফেলেছিলেন বৃদ্ধ জাওয়া। আদর করে পেঙ্গুইনটিকে তিনি ডাকেন ডিনডিম নামে।
এই পর্যন্ত পড়ে মনে হতেই পারে, এতে বিশেষ কী খবর আছে! একটু ধৈর্য ধরে পরের অংশটি পড়লেই বুঝতে পারবেন, কেন ডিনডিম আর জাওয়ার কাহিনি আজ খবরে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

রিও থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মাইল দূরে বসবাস করলেও ডিনডিম প্রতিবছর নিয়ম করে ফিরে আসে জাওয়ার কাছে। তাঁর কাছে থাকে প্রায় ৮ মাস। জাওয়া একটি সাক্ষাত্‍‌কারে জানিয়েছেন, 'আমি ডিনডিমকে আমার সন্তানের মতোই ভালোবাসি, আর আমি নিশ্চিত ও আমাকে খুবই ভালোবাসে। আর কাউকে গায়ে হাত পর্যন্ত দিতে দেয় না ডিনডিম। যদি কেউ গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাঁকে কামড়ে দেয় ডিনডিম। ও আমার কোলে শুয়ে থাকে, আমিই ওকে স্নান করিয়ে দিই। ওকে সারডাইন খাইয়ে দিই। আদর করে কোলে তুলে নিই।' প্রতিবছর জুন মাস নাগাদ জাওয়ার কাছে আসে ডিনডিম। ফেব্রুয়ারিতে সে আবার নিজের দেশে ফিরে যায়।
বায়োলজিস্ট জাওয়া পাওলো ক্রাজেসস্কির মতে, ডিনডিম জাওয়াকে তার পরিবারের সদস্য মনে করে। পেঙ্গুইনও মনে করতে পারে। আর তাই জাওয়াকে দেখলেই আনন্দে লেজ নাড়ে এবং মুখে আওয়াজ করে তার খুশি জাহির করে।

সূত্র: এইসময়

উপরে