আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫৮

আপনিও এমপি হতে পারবেন, যদি...

অনলাইন ডেস্ক
আপনিও এমপি হতে পারবেন, যদি...

নির্বাচনী আমেজে ভরপুর চারপাশ, ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে মনোনয়ন ফরম কেনার ধুম। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত আছেন নিজের কিংবা পছন্দের প্রার্থীর নামে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে। ফরম কিনছেন অনেক পুরোনো নেতা, দেখা যাচ্ছে নতুন মুখও।

যে কেউ কি চাইলেই কি মনোনয়ন ফরম কিনতে পারে? এমপি হওয়ার যোগ্যতা কি সবার রয়েছে?  না, চাইলেই যে কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে অংশ নিতে পারেন না। এমপি কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার কিছু প্রাথমিক যোগ্যতা রয়েছে। এই যোগ্যতাসমূহ মিললে তবেই একজন নাগরিক বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে বলা আছে কী কী যোগ্যতা থাকলে এমপি হওয়া যাবে আর কোন কোন অযোগ্যতা থাকলে কখনোই সংসদ সদস্য হওয়া যাবে না। 

১। প্রথমত, প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তার বয়স হতে ২৫ কিংবা তার বেশি। অবশ্য, আদালত যদি কাউকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করেন, সেক্ষেত্রে আর আর এমপি হওয়া হবে না। 

২। আদালত যদি কাউকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন, তবে অবশ্যই তাকে সে দায় মুক্ত হতে হবে। তা না হলে তিনি সংসদ সদস্য নিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন না। 

৩। প্রার্থী যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন বা গ্রহণ করেন তবে তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলেও তিনি যোগ্যতা হারাবেন। 

৪। যদি তিনি কোনো কোনো ফৌজদারি মামলায় দোষী হয়ে কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন, তবে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হতে হলে তাকে কমপক্ষে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে তিনি নির্বাচিত হতে পারবেন না। 

৫। প্রার্থী যদি বাংলাদেশ যোগসাজসকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ১৯৭২) আদেশের অধীন যে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে থাকেন, তবেও তিনি এমপি হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। 

৬। এছাড়া প্রার্থী যদি প্রজাতন্ত্রের এমন কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন, যা আইন দ্বারা তাকে নির্বাচনের যোগ্য ঘোষণা না করে, তবে তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। 

উল্লেখিত কারণ ছাড়াও ব্যক্তি যদি বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো আইন দ্বারা অযোগ্য বিবেচিত হন, তবে তিনি নির্বাচিত হতে পারবেন না। 

তবে ব্যক্তি যদি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে পুরনায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে এবং উপোরোক্ত শর্তগুলো অনুযায়ী যোগ্য হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। 

ব্যক্তির প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকার ক্ষেত্রে তিনি যদি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পদে আসীন থাকেন, তবে তিনি যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। 

অন্যদিকে, নির্বাচিত হওয়ার পরেও যদি কখনো অযোগ্য প্রমাণিত হন, তবে সে আসন শূন্য হবে কি না তা শুনানি ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। 

উপরোক্ত বিধানগুলোকে কার্যকর করতে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করার ব্যাপারে সংসদ ইচ্ছানুযায়ী ক্ষমতা প্রদান করতে পারবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে