আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:০১

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘গণহত্যা-নির্যাতন’ জাদুঘর বাংলাদেশে

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘গণহত্যা-নির্যাতন’ জাদুঘর বাংলাদেশে

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ‘গণহত্যা-নির্যাতন’ জাদুঘর নির্মাণ করতে যাচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ৩ হাজার ৫৯০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ওপর ছয়তলা বিশিষ্ট এই জাদুঘর নির্মাণ করবে সরকার। এতে ১৯৭১ সালের গণহত্যা-নির্যাতন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সকল ইতিহাস ঠাঁই পাবে বলে জানা গেছে।  

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে এই প্রথম এ ধরনের নির্মাণ হতে যাচ্ছে। জাদুঘরটি নির্মাণে ব্যয় হবে ২৮ কোটি ১৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে এটি নির্মিত হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, জাদুঘর ভবনে থাকবে তিন হাজার ১০০ বর্গ মিটারের ২৪০ আসন বিশিষ্ট একুয়াস্টিক কাজসহ একটি মাল্টি পারপাস হল ও একটি লাইব্রেরি আর্কাইভ। এছাড়া একটি বিশাল পাম্প হাউসসহ ১৫ হাজার বর্গ মিটারের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার থাকছে।

এছাড়া জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় এক হাজার ৬৫০, তৃতীয় তলায় দুই হাজার ৩০০ ও চতুর্থ তলায় এক হাজার ৭৩০ বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট একটি করে মোট তিনটি প্রদর্শনী গ্যালারি থাকবে। তাছাড়া ৮৩০ বর্গমিটার আয়তনের একটি গ্রন্থাগার ও ডিজিটাল আর্কাইভ থাকবে। তিনটি ডিওরোমা, কিউসেক, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, লাইটিং-সাউন্ড, এসি ও লিফট কেনা হবে। সেইসঙ্গে একটি ম্যুরালসহ মাইক্রোবাসও কেনা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, গণকবর ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে বধ্যভূমি। এসব ঘটনা সংক্রান্ত দলিল, নথিপত্র, ছবি নতুন এই আর্কাইভ ও জাদুঘরে ঠাঁই পাবে। সেজন্য জাদুঘরের সঙ্গে একটি আর্কাইভ ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে। 

সূত্র আরো জানায়, এই জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও নির্যাতন সংক্রান্ত ছয় হাজারেরও বেশি আলোকচিত্র সংরক্ষণ হবে। এছাড়া আড়াই হাজারের সঙ্গে চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলো নির্দিষ্ট করতে স্মারক মানচিত্র এখানে তৈরি করা হবে। সেইসঙ্গে গণহত্যা-নির্যাতনের ওপর ৩২টি শিল্পকর্মসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের আদালতের রায়ের কপিও এখানে প্রদর্শন করা হবে। দুই হাজার গ্রন্থ ও নানা শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং গণহত্যা নিদর্শনগুলোও এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।

এছাড়া শিল্পকর্ম এবং একাত্তরের শহীদ বৃদ্ধিজীবীদের স্মারক চিহ্নগুলো নতুন এই জাদুঘরে সংগ্রহ করা হবে। এতে বিশেষ করে শহীদুল্লাহ কায়সারের ডায়েরি, ডা. আলিমের ডাক্তারি যন্ত্রপাতি, সেলিনা পারভীনের শাড়ি, মুনীর চৌধুরীর পাঞ্জাবি কিংবা সিরাজউদ্দিন আহমদের পরিধেয় কাপড়।

এ ব্যাপারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আব্দুল মান্নান ইলিয়াস গণমাধ্যমকে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ‘গণহত্যা-নির্যাতন’ জাদুঘর হচ্ছে আমাদের দেশে। সকল প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। মুক্তিযুদ্ধের সকল ইতিহাস এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। আমরা ঢাকার মধ্যে জমি খুঁজছি। তবে আগারগাঁও অথবা শিল্পকলার পেছনের স্থানে এই জাদুঘর নির্মিত হবে বলে আশা করছি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে