আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৩:৩৭

আমাদের ‘দ্বিতীয় মস্তিস্ক’টি কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক
আমাদের ‘দ্বিতীয় মস্তিস্ক’টি কোথায়?

আমরা হাঁটছি-চলছি, কথা বলছি, খাচ্ছি আর ঘুমাচ্ছি- এসবই নিয়ন্ত্রণ করছে আমাদের মস্তিস্ক। এই মস্তিস্ক আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করে, কখন কী করতে হবে সেটাও বলে দেয়। আচরণ, চিন্তা, এমনকি আমাদের শারীরিক গঠন কেমন হবে- সবই নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্ক থেকে। এই মস্তিস্ক যে মাথাতে থাকে, এবং আমাদের মস্তিস্ক যে একটাই সেটাই আমরা জানি। কিন্তু গবেষণা আর বিভিন্ন লক্ষণ আরেক অদ্ভুত ব্যাখ্যা বের করেছে। মানুষের নাকি আরেকটি মস্তিস্ক আছে, যেটিকে বলা হয় ‘দ্বিতীয় মস্তিস্ক’। আর সেটি হলো আমাদের পাকস্থলী! 

আমাদের অন্ত্রে লাখ লাখ নিউরনের একটি স্বায়ত্তশাসিত ম্যাট্রিক্স রয়েছে। যা আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোনো সাহায্য ছাড়াই অন্ত্রের মাংসপেশির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই নিউরনগুলো মলদ্বার এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী অঙ্গ বৃহদান্ত্র এবং মলাশয়ে বাস করে।

কিছু বিজ্ঞানী একে আন্ত্রিক স্নায়ুতন্ত্র বলছে। আর যেহেতু এই সিস্টেম মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডের নির্দেশনা ছাড়াই কাজ করতে পারে সেহেতু অনেক বিজ্ঞানী একে নাম দিয়েছেন ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’।

গবেষণায় জানা গেছে, এই আন্ত্রিক স্নায়ুতন্ত্রের (ইএনএস) লাখ লাখ নিউরন আছে। যা অন্ত্রের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। খুবই সুক্ষ্ম স্নায়ুগত চিত্রায়ন কৌশলের সমন্বয়ে কাজ করে এই স্নায়ুতন্ত্র। এই স্নায়ুতন্ত্র বৃহদান্ত্রের মাংসপেশির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। যা পেট থেকে মল বের করে দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

কোনো কোনো বিজ্ঞানীর ধারণা মানবদেহের এই আন্ত্রিক স্নায়ুতন্ত্র এর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের আগেই গড়ে ওঠে। মলাশয়ের এই স্নায়ুগুলোর কর্মতৎপরতাই মানবদেহের সর্বপ্রথম কার্যকর মস্তিষ্কের প্রতিনিধিত্ব করে। তার মানে এটি আপনার দেহের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ নয় বরং ‘প্রথম মস্তিষ্ক’।

আমাদের মনের ওপরও রয়েছে এর অদ্ভুত নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয় মস্তিষ্ক নাকি আমাদের মানসিক অবস্থা এবং আচরণ দু’টিই নিয়ন্ত্রণ করে! এর ব্যাখ্যাটা জানবো এবার।

আমাদের শরীরের প্রায় অর্ধেক ডোপামিন (এটি একটি হরমোন এবং ক্যাটেকোলামাইন ও ফেনাথ্যালামিন পরিবারের একটি নিউরো ট্রান্সমিটার যা মানব মস্তিষ্ক ও শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে দরকার হয়) এবং ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন (সেরোটোনিন হলো মস্তিষ্কের স্নায়ুকে সংযোগকারী একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যার রাসায়নিক নাম ৫-হাইড্রক্সিট্রিপ্টামিন। রক্তনালিকায় রক্ত প্রবাহে সাহায্য করে এটি এবং মানুষের ভালো থাকার অনুভূতি দেয়। যে কারণে একে সুখানুভূতির হরমোনও বলা হয়। যদিও এটি হরমোন নয়, এটি একটি মনোএমাইন। অনেক উদ্ভিদ এবং ছত্রাকে সেরোটোনিন পাওয়া যায়) আসে কোলন থেকে। এখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া হরমোন দু’টি ব্যবহার করে আমাদের ভালো থাকার অনুভূতি দেয়। আবার এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মস্তিষ্কে সরাসরি নির্দিষ্ট কিছু খাবারের চাহিদার কথা জানায়।

ব্যাকটেরিয়াগুলো কেবল ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে না, আমাদের মনের ওপর এদের প্রভাব রয়েছে। খাদ্যাভাসের জন্য যেকোনো বয়সী মানুষ বিষণ্নতা এবং উদ্বেগে ভুগতে পারেন। পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া আমাদের ব্যক্তিত্ব পাল্টে দিতে পারে। পাকস্থলীতে ব্যাকটেরিয়া ভালো থাকলে মানুষ অনেক বেশি ক্ষমাশীল এবং সামাজিক হয়ে ওঠে।

উপরে