আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৩:৪১

চাকরির সাক্ষাৎকারে কিছু সাধারণ ভুল

অনলাইন ডেস্ক
চাকরির সাক্ষাৎকারে কিছু সাধারণ ভুল

একজন চাকরিপ্রার্থীর কাছে তার চাকরিটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সেই চাকরির জগতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ বিশেষ একটি ধাপ। কারণ এর পারফরমেন্সের উপরেই নির্ভর করছে যে আপনি কতোটা যোগ্য বা আপনার চাকরিটা হওয়ার সম্ভাবনা কতোটুকু। এমনটা বলা হয় যে, একটি সাক্ষাৎকারেই আপনার জীবনের মোড় ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু এই সাক্ষাৎকারের কিছু ছোটখাট ভুলে আপনার সেই সম্ভাবনা একেবারেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এই ভুলগুলো থেকে আপনাকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে-

প্রার্থীর অনাগ্রহ

মনে রাখতে হবে, আপনার আবেদন দেখে যেহেতু প্রতিষ্ঠান সাক্ষাৎকারে আহ্বান জানিয়েছে। অর্থাৎ আপনার বিষয়ে তারা আগ্রহী। তাই যারা সাক্ষাৎকার নেবেন তাদের সামনে কখনো আপনার অনাগ্রহ প্রকাশ করবেন না। তবে চাকরিপ্রার্থীরও চাকরি নিয়ে পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে চাকরিটার বিষয়ে কোনো অনাগ্রহ দেখাবেন না।

বেশভূষা অপরিপাটি

সাক্ষাৎকার চাকরিপ্রার্থীর জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মুখোমুখি হতে হয়। তাই এখানে অবশ্যই পরিপাটি হয়ে যেতে হবে। কারণ আগে তো দর্শনদারি, তারপরেই না আপনার গুণবিচার। সাক্ষাৎকার কক্ষে আপনাকে দেখে আগে যদি পছন্দই না হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ আপনার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের বিষয়ে আগ্রহই হারিয়ে ফেলবে।

দেরি করে যাওয়া

চাকরির সাক্ষাৎকারে দেরি করে উপস্থিত হওয়া বড় একটি ভুল। মনে রাখবেন, সেখানে কোনো অজুহাতের সুযোগ নেই। আর প্রথম দেখাতেই আপনি যদি আপনার সময়ানুবর্তিতা দেখাতে না পারেন তবে আপনার গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। বুঝবে আপনার দায়িত্ববোধও কম।

কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই উপস্থিত হওয়া

আপনাকে প্রথম কয়েকটি প্রশ্ন করেই প্রশ্নকর্তারা বুঝে যাবেন আপনার প্রস্তুতি কেমন। ভালো প্রস্তুতি হলে তো ভালো। আর খারাপ হলে আপনাকে আর কোনো প্রশ্ন করার আগ্রহও তাদের চলে যাবে। তাই অবশ্যই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে যান। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো জানার চেষ্টা করুন অন্তত।

অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলা

প্রশ্নকর্তারা আপনাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করবে। সবকিছু যে আপনার জানা থাকবে এমনটা নয়। যা জানেন তার সোজাসুজি উত্তর দিন। আর কিছু অজানা হলে বলবেন সেটি আপনার অজানা। অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে কোনো উত্তর দেবেন না। বা ঘুরিয়ে পেচিয়ে কোনো কথা বলবেন না। এতে তাদের বিরক্তি হবে। আপনার বুদ্ধি আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

মেনে চলুন কিছু শিষ্টাচার

সাক্ষাৎকার দিতে গেলে আগে থেকেই শিষ্টাচারের কিছু বিষয় মাথায় রাখবেন। এই যেমন অবশ্যই আপনার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে নেওয়া। প্রশ্নকর্তা কিছু বললে হাসাহাসি করা, বা মনক্ষুন্ন ভাব প্রকাশ করা যাবে না। কিছু বেশি জানলেও সেটি জাহির করবেন না। তাদের উল্টে কোনো প্রশ্ন বা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে যাবেন না।

বেতন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা

সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ভুলেও বেতনের প্রসঙ্গ তুলবেন না। এটি যথেষ্ট অশোভন। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীরা বেতনের প্রসঙ্গ তুললেও আগ বাড়িয়ে নিজের চাহিদার কথা বলতে যাবেন না। প্রতিষ্ঠানের বেতনকাঠামো জেনে নিন আগে। তারপর সেই মতো আপনার চাহিদার কথা বলুন।

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছুই না জানা

যে প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছেন, সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু জ্ঞান রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাৎকার দিতে এসে যদি সেই প্রতিষ্ঠানের মৌলিক বিষয়গুলো বলতে না পারলে সেটা লজ্জাজনক। এমন হলে চাকরিদাতা আপনাকে চাকরি দেওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।

উপরে