আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:৫৪

যেভাবে মাংস খেলে অসুস্থ হবেন না

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে মাংস খেলে অসুস্থ হবেন না

কোরবানির ঈদ মানেই মাংসের বিভিন্ন রান্নার পদ। নিজের বাসায় কিংবা বেড়াতে গেলে মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি ইত্যাদি গুরুপাক খাবারের লোভ সামলানো তো মুশকিলই। গুরুপাক তো খাবোই, কিন্তু সেটা অসুখ বিসুখের কথা মাথায় রেখে। আমাদের তুলনামূলক বয়স্ক প্রজন্মরা বিভিন্ন কঠিন অসুখে ভোগেb। এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, স্থূলতাই প্রকট। এছাড়াও বদহজম, অ্যাসিডিটি, আথ্রাইটিস, অ্যালার্জির মতো সমস্যাগুলো আছে।  

চিকিৎসকরা বলেন, গুরুপাক খাবার যখন খাওয়া হয়, থখন এর সঙ্গে পরিমাণে সালাদও খেতে হবে। কেননা সালাদ খাবার হজমে সাহায্য করবে এবং অন্য খাবারের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। যদি মাংস বেশি খাওয়া হয়ে যায়, তাহলে তারপর কিছুদিন রুটি, সবজি, সালাদ, ফল, স্যুপ খেয়ে সেটার ভারসাম্য রক্ষা করে নিন। মাংসের পাশাপাশি টাটকা সবজি, ডাল, মাছ খেতে হবে।

ঈদের বেশ কয়দিন ধরেই এই মাংস খাওয়া হয়। এজন্য মাংসের সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। যেমন কাঁচা শাকসবজি, ফলমূল, সালাদ, লাল আটা, বাদাম ইত্যাদি খান বেশি করে। এগুলো হজমশক্তি বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং চর্বি জমতে বাধা দেয়। এছাড়া ওজন কমানোর জন্য কম ক্যালরির দিকে ঝুঁকতে হবে। বিরিয়ানি, পোলাও, ভাত, মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয়তে প্রচুর ক্যালরি থাকে। তাই যতটা সম্ভব এগুলো এড়িয়ে চলবেন।

এর বাইরে আরেকটা উপায় আছে। প্রতিদিন সকালে লেবু ও মধু একগ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং মেদ কমাতে সহায়ক। টক দই, বোরহানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) ইত্যাদিও খাবার হজমে সাহায্য করে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

ভাজা,ভুনা বা মসলাদার মাংস বেশি খাওয়া যাবে না। এতে পেটের সমস্যা, ক্যালরি বেশি থাকায় ওজন বেড়ে যায়। তাই মশলা দিয়ে রান্না না করে কাবাব, গ্রিল, সিদ্ধ করা মাংস খাওয়া যেতে পারে। কম চর্বিযুক্ত রানের মাংস খাওয়া যেতে পারে। কোলেস্টেরলযুক্ত অংশ যেমন, মগজ, কলিজা ইত্যাদি কম খেতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো- যারা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কিডনির সমস্যা, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ ইত্যাদিতে ভুগছে তাঁদের অবশ্যই ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে খেতে হবে। উৎসব মনে করে ডায়েট নষ্ট করা যাবে না। বিভিন্ন চিকিৎসা সূত্রমতে, দিনে ৫০০ ক্যালরি বেশি খেলে ওজন এক সপ্তাহে এক কেজি বা দুই পাউন্ড বাড়তে পারে।

কীভাবে মাংস রান্না করা স্বাস্থ্যকর

যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, স্থূলতার মতো সমস্যা আছে, তাদের একটু নিয়ম মেনে মাংস খেলে ভালো হয়। যেমন-

১. মাংসে প্রচুর সম্পৃক্ত চর্বি বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকায় শরীরের জন্য তা ক্ষতিকর। তাই মাংস রান্নার সময় লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে পানিটা ফেলে দিন। এতে কিছুটা চর্বি পানির সঙ্গে বের হয়ে যাবে। এছাড়া প্রথমে সিদ্ধ করে মাংস রান্না করলে ক্যালরি বা ফ্যাট কমে যায়।

২. আমরা রান্নার আগে মাংস কাটি কিউব বা চারকোণা করে। এভাবে কাটলে মাংসের মধ্যে চর্বির স্তরগুলো থেকে যায়। এজন্য মাংসের টুকরোগুলো বিভিন্ন স্তরে কেটে চর্বির অংশটুকু বাদ দিতে হবে। আর চর্বি না খেয়ে লাল মাংসটুকু খেতে হবে।

৩. সাদা সিরকা, লেবুর রস ও লবণ মাখিয়ে কাঁচা মাংস সারা রাত ভিজিয়ে রাখা যায়। এতে মাংসের প্রায় ৮০ শতাংশ চর্বি চলে যায়। এরপর সেগুলো রান্না বা সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

৪. মাংস রান্নায় হালকা কম তেল ব্যবহার হবে। ঘি, মাখন, ক্রিম, ডালডা কম ব্যবহার করা উচিত। কারণ, কম মসলা ও তেলে রান্না মাংস সহজে হজম হয়। তা ছাড়া গ্রিল করা মাংসে চর্বি থাকে না বলে গ্রিল খেতে পারেন। রোস্ট বা রেজালা খাওয়ার থেকে গ্রিল খাওয়া স্বাস্থ্যকর।

৫. সময়ের অভাবে আমরা অনেক সময়েই তাড়াহুড়া করি। এতে মাংস সিদ্ধ নাও হতে পারে। আধাসিদ্ধ মাংস শরীরের জন্য খুবিই ক্ষতিকর। মাংস দ্রুত সিদ্ধ করতে তাতে কয়েক টুকরো পেঁপে দেওয়া যায়। মাংস রান্নার সময় অবশ্যই ঢেকে নিতে হবে। এতে খাবারের মান ভালো থাকবে, দ্রুত সিদ্ধ হবে।

উপরে