আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:১৫

কোরবানির উপযুক্ত, সুস্থ গরু চেনার উপায়

অনলাইন ডেস্ক
কোরবানির উপযুক্ত, সুস্থ গরু চেনার উপায়

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র দুটি দিন। ঈদের আগে এই শেষ দুদিনেই কোরবানির হাটগুলোতে পছন্দের পশু কিনতে ভিড় করেছে মানুষ। পুরোদমে চলছে বেচাকেনা। কিন্তু গরু যে কিনবেন, কোনটা সুস্থ বা কোনটা অসুস্থ তা বুঝবেন কীভাবে? হাটগুলোতে রোগাক্রান্ত অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ওষুধ দেওয়া গরুও আসে। এর মধ্যে থেকেই আমাদের সুস্থ গরুটি বেছে নিতে হবে। স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরু দেখতে আকর্ষণীয়, চকচকে ও হৃষ্টপুষ্ট দেখালেও আসলে সেগুলো সুস্থ হয় না এবং এসব গরুর মাংস আমাদের শরীরের জন্যও ক্ষতিকর।

গরুর রোগবালাই

ভালো দামের আশায় প্রতিবারই কোরবানির ঈদ এলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই গরু মোটা করতে বিভিন্ন ওষুধ ও রাসায়নিক মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করেন। এতে গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমতে শুরু করে। এতে গরুটির কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃত নষ্ট হতে যায় এবং গরু মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এছাড়া অনেক গরু খুড়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। খুড়া রোগাক্রান্ত গরুর ক্ষুর ও মুখে ঘা থাকতে পারে, আক্রান্ত গরু খুড়িয়ে হাঁটে আর খেতে চায় না।

আবার অনেক গরু কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরণের গরু বেশ বিবর্ণ ও হাড় জিরজিরে হয়।

সুস্থ ও অসুস্থ গরু চিনবেন কীভাবে?

সুস্থ গরু সনাক্তের ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে বলেন,

১. রাসায়নিক বা ওষুধ দেওয়া গরুর মাংসপেশি এবং অন্য অঙ্গগুলো বেশি ফোলা থাকে। শরীরে পানি জমায় বিভিন্ন অংশে চাপ দিলে সেখানে গর্ত হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় নেবে।

২. অতিরিক্ত ওজনের কারণে এই গরুগুলো চলাফেরা বা স্বাভাবিক নাড়াচাড়া করতে পারেনা। শান্ত আর চুপচাপ হয়ে থাকে।

৩. রাসায়নিক দেওয়া গরু বেশিরভাগই ক্লান্ত থাকে আর ঝিমায়। সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সুস্থ গরুর গতিবিধি চটপটে থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখায়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বেশ নাড়াচাড়া করে।

৪. রাসায়নিক বা ওষুধ খাইয়ে বড় করা গরুর শরীরের অঙ্গগুলো নষ্ট হতে থাকে বলে এদের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। দেখে সবসময় হাঁপাচ্ছে মনে হয়। সুস্থ গরুর চামড়ার ওপর দিয়ে কয়েকটা পাঁজরের হাড় বোঝা যাবে।

৫. অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেওয়া গরুর মুখ থেকে প্রতিনিয়ত লালা ঝরে, কিছু খেতে চায় না। ওদিকে সুস্থ গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে সেটা টেনে খাবে না হলে সবসময় জাবর কাটবে। মানে এরা মোটমুটি সতেজ থাকবে সবসময়।

৬. একটা সুস্থ গরুর নাকের উপরের অংশটা ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা থাকবে। অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক ঘামবে না। সুস্থ গরুর শরীরের রঙ উজ্জ্বল থাকবে। গরুর পিঠের কুজ মোটা, টানটান ও দাগমুক্ত হবে।

৭. সুস্থ গরুর রানের মাংস শক্ত এবং টানটান থাকবে। আর রাসায়নিক দেওয়া গরুর পা হবে নরম আর থলথলে। আর গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ।

কোরবানির উপযুক্ত পশু

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করার গরুগুলো অনেক সময় কেনার পর কোরবানির অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে দেশি গরু কেনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা চাইলেও দেশি গরু বেশি মোটাতাজা করা সম্ভব না।

১. গরুর বয়স ন্যূনতম দুই বছর হলেই এটা কোরবানির জন্য উপযুক্ত হবে। এক্ষেত্রে গরুর দাঁত দেখে বয়স যাচাই করে নিন। গরুর নীচের পাটিতে দুধ দাঁতের পাশাপাশি সামনে অন্তত দুটি স্থায়ী দাঁত থাকলে গরুটি কোরবানির উপযুক্ত বলে বোঝা যাবে।

২. গরুটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে। এজন্য শিং ভাঙ্গা, লেজ কাটা কিংবা মুখ, জিহ্বা, শরীর, পা, ক্ষুর, গোড়ালিতে কোনো ক্ষত আছে কিনা দেখে নিতে হবে।

৩. গাভী কোরবানির দিতে হলে আগে অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে গাভীটি গর্ভবতী কিনা। গর্ভবতী গাভী কোন অবস্থাতেই কোরবানি দেওয়া যাবেনা।

উপরে