আপডেট : ১৮ জুন, ২০১৮ ০৯:৪৯

মেহেদির সাথে মুসলমানদের যে সম্পর্ক

অনলাইন ডেস্ক
মেহেদির সাথে মুসলমানদের যে সম্পর্ক

আমাদের দেশে উৎসব আনন্দে মেহেদিতে হাত সাজানো জনপ্রিয় একটি রীতির একটি, এটি ঐতিহ্যও বটে। ধর্মীয় উৎসব থেকে শুরু করে বিয়ে-জন্মদিনে মেহেদি না হলে কিন্তু চলে না, উৎসবে পরিপূর্ণতা পায়না।

মেহেদি গাছের সবুজ রঙের পাতা অদ্ভুত লাল রং সবারই পছন্দের। এই মেহেদি পাতা অনেকভাবে ব্যবহার করা যায়। এই যেমন বেটে, শুকিয়ে, গুড়া করে বা পেস্ট করে শরীরের বিভিন্ন স্থান রাঙানো যায়। এর ইতিহাসও অনেক পুরনো। আর ঈদে মেহেদি ছাড়া তো একেবারেই চলে না। আর বিয়েতে বর কনের হাতে মেহেদি থাকা চাই ই চাই।

এই মেহেদি পাতার কোনোরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকায় যুগে যুগে এর জনপ্রিয়তা না কমে বরং বেড়েছে। শরীরে এই মেহেদি দেওয়ার ইতিহাস অনেক আগের। তবে ঠিক কবে কোথায় মেহেদির আবিষ্কার হয়েছিলো তার সঠিক কিছু জানা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক তৌহিদুল হক বিবিসিকে জানায়, ‘লিখিত কোন দলিল না থাকলেও ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর মেহেদি ব্যবহারের তথ্য মুসলমানদের এই মেহেদি ব্যবহারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে।’

পরে ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্য এই মেহেদি দেওয়ার প্রথাকে আরও প্রসারিত করে। তৌহিদুল হক আরও বলেন, ‘মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে হযরত মোহাম্মদ (স.) এর একটি উক্তি রয়েছে। এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে এই ভারতীয় উপমহাদেশে এক সময় মেহেদির ব্যবহার শুধুমাত্র মুসলিম জনগোষ্ঠী বা মুসলিম সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে মুঘল সাম্রাজ্যের জনগণ এটাকে প্রসারিত করে।’

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মেহেদির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং আফ্রিকায় যেসব দেশের ভাষা অ্যারাবিক সেসব দেশেও ব্যবহৃত হয় এই মেহেদি। বিশ্বের নানা দেশের মেহেদি ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু এর কারণ বা উদ্দেশ্য স্থানভেদে ভিন্ন। অধ্যাপক তৌহিদুল হক জানান,শুরুতে মেহেদির প্রচলন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের জায়গা থেকে শুরু হলেও পরে এই প্রথাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়েছে। তবে এখন মানুষ এখন এটাকে সার্বজনীন রূপে গ্রহণ করেছে। তবে একেক দেশে একের ধরণের কারণ আর উদ্দেশ্যে মেহেদি ব্যবহার হয়।’

ইতিহাসের বইগুলোয়, মিসরের ফারাও সাম্রাজ্যে মমির হাতে ও পায়ের নখে মেহেদির মতো রঙ দেখা যায়। তবে সেটা মেহেদি দিয়ে রাঙানো কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উপরে