আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০৯:৪৭

হ্যান্ডশেককে না বলুন

অনলাইন ডেস্ক
হ্যান্ডশেককে না বলুন

বহুদিন পর কারও সঙ্গে দেখা হলো, গল্প শেষে কারো কাছ থেকে বিদায় নিলেন, বা অফিসে মিটিং শেষে হাত মেলানো অর্থাৎ হ্যান্ডশেক করার অভ্যাস আমাদের সবার। কিন্তু এই যে শুভেচ্ছা, অভ্যর্থনা, বিদায় জানানোর জন্য হাত মেলাচ্ছেন, এতে যে শরীরের জন্য কতটা ক্ষতি করছেন তা কী ভেবে দেখেছেন? না ভাবলে আজই ভাবুন, দেখে নিন কীভাবে ক্ষতি হচ্ছে।

জেনিটাল হার্পিসের আশঙ্কা থাকে

এটি একটি যৌন সংক্রামক রোগ। গবেষণায় দেখা গেছে জেনিটাল হার্পিসে আক্রান্ত রোগীর হাতেও অনেক সময় রোগের জীবাণু থাকে। যার ফলে একজনের শরীর থেকে আরেক জনের শরীরে ছড়াতে পারে। তাই সাবধানতা প্রয়োজন।

টাইফয়েডে আক্রান্তের আশঙ্কা

আমাদের বেশিরভাগের হাতেই স্যালমোনেলা নামে এক ধরনের জীবাণু এসে বাসা বাঁধে। এই জীবাণুটি একবার শরীরে ঢুকলে টাইফয়েড, ফুড পয়েজেনিং, গ্যাসট্রোএন্ট্রাইটিস এবং এনটেরিক ফিবারে আক্রান্তের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। হ্যান্ডশেকের মাধ্যমেও এক শরীর থেকে অনেক জনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এগুলো।

চোখের সংক্রমণ

চোখের সংক্রমণ হলে আমরা যদি হাত দিয়ে চোখ চুলকাই তাহলে হাতেও জীবাণু লেগে যায়। সেসময় সেই রোগী কারও সঙ্গে হাত মেলালে জীবাণু এক শরীর থেকে আরেক শরীরে পৌঁছে যায় হাত মেলানোর মাধ্যমে।

বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা

গবেষণাতেই প্রমাণিত, হাত মেলানোর সময় নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই তো সুস্থ থাকতে হ্য়ান্ডশেক করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। এতে করে ছোঁয়াচে রোগগুলো থেকে অন্তত দুরে থাকা যাবে।

জীবাণুর আক্রমণ বাড়ে

বিভিন্ন গণপরিবহন এবং টয়েলেট সিটে যে পরিমাণ জীবাণু থাকে, তা অন্য কোথাও থাকে না। নাক পরিষ্কার, হাঁচি-কাশি এবং রান্না করার পরেও আমাদের হাতে অসংখ্য জীবাণু থাকে। কিন্তু এরপর আর হাত ধুতেও চাইনা আমরা। এই অবস্থায় আরেকজনের সঙ্গে হাত মেলালে সেই জীবাণু ছড়িয়ে যায়।

গণপরিবহন থেকে সাবধান

বাসেট্রামে যাতায়াত করা প্রায় ২০-৩০ শতাংশ যাত্রীর হাতে ক্ষতিকর জীবাণু রয়েছে, যা থেকে নানা ধরনের জটিল রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এবার থেকে গণপরিবহনে যাতায়াত করা মানুষেরা কারো সঙ্গে হাত মেলানোর সময়ে সাবধান। অজান্তেই হয়তো জীবাণু ছড়িয়ে দিচ্ছেন অন্যদের মধ্যে।

বিভিন্ন সংক্রমণ হতে পারে

একাধিক সংক্রমণ হাতের মাধ্যমে এক শরীর থেকে অনেকের শরীরে ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা থাকে। কারণ জীবাণুরা হাতের তালুর অমসৃণ তলে সহজেই বাসা বেঁধে ফলতে পারে। ফলে হাত মেলানোর সময় প্রথমে এক হাত থেকে আরেক হাতে পৌঁছে যায়।

ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, তৃতীয় বিশ্বের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ ঠিকমতো হাত ধোয় না। তাই অনুন্নত দেশে প্রতিবছর এই দেশগুলিতে ডায়রিয়ায় মতো রোগের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ঠিকমতো হাত না ধুলে হাতের তালুতে জমে জীবাণুর কারখানা। হাত মেলালে আরেক হাতে পৌঁছে যায় এই জীবাণু।

হতে পারে ভাইরাল ফিবার

অপরিষ্কার হাতের কারণে ভাইরাল ফিবার এবং চিকেন পক্সের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই হাঁচি কাশি হলে কারো সঙ্গে হাত না মেলানোই ভালো।

উপরে