আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৩:০৩

বিশ্বের ভয়াবহ সব বিমান দুর্ঘটনা

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের ভয়াবহ সব বিমান দুর্ঘটনা

নেপালের কাঠমান্ডুতে ৬৭ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু নিয়ে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনাতে ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে। আর বাকিরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ৩৪ বছর পর বাংলাদেশের কোনো বিমান এত বড় দুর্ঘটনার শিকার হলো।

যাতায়াতের নিরাপদতম মাধ্যম হিসেবে উড়োজাহাজকে বিবেচনায় করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে ভয়ংকর সব বিমান দুর্ঘটনা ঘটছে বারবার । ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মধ্যাঞ্চলের ইস্পাহানে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬৬ জন যাত্রী নিহত হন। ইরানের দুর্ঘটনার কিছুদিন আগেই ১১ ফেব্রুয়ারি রাশিয়াতে সারাতোভ এয়ারলাইন্সের এ-১৪৮ বিমানটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনাতে ৭০ জন নিহত হয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন ও কোস্টারিকাতে ১২ জন নিহত হয়েছে।

এর আগেও শত শত মানুষ একসঙ্গে বিমান দুর্ঘটনাতে প্রাণ হারিয়েছে। ইতিহাস এরকম ভয়ংকর সব বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। বলা হয়ে থাকে বিমানের ত্রুটির কারণে নয় মূলত পাইলটের ভুলের কারণেই ৮০ শতাংশ বিমান দুর্ঘটনাতে পরে থাকে। আবার দক্ষ বিমান চালকের কৌশলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন এমন নজিরও কম নেই। ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এমনই কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হলো।

১৯৭৭ সালের ২৭ মার্চ টেনেরিফ দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ বিমানবন্দরের রানওয়েতে দুটি বোয়িং উড়োজাহাজের সংঘর্ষ হলে ৫৮৩ জন যাত্রী নিহত হন। ওই ঘটনায় ৬১ জন প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৮৫ সালের ১২ আগস্ট জাপানের ইউয়েনো এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি উড়োজাহাজ গিরিখাতে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনাতে নিহত হন ৫২০ জন।

১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে কাজাখস্তান এয়ারলাইনসের আরেকটি উড়োজাহাজের মধ্য আকাশে সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনাতে ৩৪৯ জন নিহত হন।

১৯৭৪ সালের ৩ মার্চের ফ্রান্সে উড়োজাহাজের পেছনের কার্গোর দরজা ভেঙে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনাতে আরোহীদের ৩৪৬ জনের সবাই নিহত হন।

বিগত বছরগুলোতে বিমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমান পূর্বের যে কোনো সময়ের থেকে এখন বেশি নিরাপদ বলে দাবি করা হয়েছে। তারপরও বিমান দুর্ঘটনা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে ফ্রান্সের রিও ডি জেনারিও থেকে প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর থেকে ফ্লাইট ৪৪৭ নিখোঁজ হয়। ওই ফ্লাইটে ২২৮ জন যাত্রী ছিল।

২০১৪ সালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ‘ফ্লাইট এমএইচ ৩৭’ নিখোঁজ হয়ে যায়। তারপর বিমানের ২৩৯ জন যাত্রীর সবাইকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ওই বছরই জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার বিমান এমএইচ ১৭ মোট ২৮৩ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে ৮০ জন শিশু ছিল।

বিডিটাইমস৩৬৫/এসবি

উপরে