আপডেট : ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:০৩

ঝাল খেলে আয়ু বাড়ে!

অনলাইন ডেস্ক
ঝাল খেলে আয়ু বাড়ে!

অনেকেই আছেন যারা মরিচ বা ঝাল খাবার খেলে এমন ভয় পান যেন ভূত দেখেছেন! আর মনে মনে চিন্তা করেন যারা ঝাল খান তারা কেনো বা কীভাবে এতো ঝাল খান। তাদের দেখে আপনি চিন্তায় মশগুল হলেও, খুশির পাল্লা কিন্তু ঝালেই ভারি। কারণ ঝাল প্রেমিরা হয়তো স্বাদের জন্যই খেয়ে থাকেন। তবে তারা এটা জানেন না যে এই ঝাল খাওয়ার জন্যও তাদের আয়ু বাড়ছে। এক গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য দিয়েছেন যে যারা ঝাল খান, অন্যদের তুলনায় তাদের আয়ু বেশি হয়ে থাকেন।

চীনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখা যায়, যারা সপ্তাহে একবার বা দুইবার মরিচ খেয়ে থাকেন, অন্যদের তুলনায় তাদের মৃত্যুঝুঁকি কমে ১০ শতাংশ। যারা সপ্তাহে ৩ থেকে ৭ বার মরিচ খান তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমে ১৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়। যারা বেশি ঝাল খাবার খেয়ে থাকেন তাদের ক্যান্সার এবং ইস্কেমিক ধরণের হৃদরোগ হবার সম্ভাবনাও থাকে কম।

সাত বছর ধরে ৪,৮৫,০০০ মানুষের খাদ্যভ্যাস এবং স্বাস্থ্যের ব্যাপারে গবেষণা চালানো হয়। তাদের রেড মিট, ঝাল খাবার, সবজি খাওয়া এবং অ্যালকোহল পানের ওপর লক্ষ্য রাখা হয়। এক্ষেত্রে যাদের হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের ইতিহাস ছিলো তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

দেখা যায়, ঝাল খাবার যারা নিয়মিত খেয়ে থাকেন তাদের ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের সমস্যা থেকে মৃত্যু হবার ঝুঁকি কম থাকে।

এর পাশাপাশি দেখা যায়, ঝাল খাওয়ার এই সুবিধা পুরুষের চাইতে নারীরা বেশি পেয়ে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঝালের উৎস ছিলো মরিচ এবং শুকনো মরিচের চাইতে টাটকা কাঁচামরিচ এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী বলে দেখা যায়। এছাড়াও যারা অ্যালকোহল পান করেন না তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি কম ছিলো।

ঝাল খাওয়ার খাওয়ার ফলে শরীর কিভাবে এতো উপকৃত হয়? দেখা যায়, ঝাল খাবার প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন রোধ করে এবং শরীরে খারাপ ধরণের চর্বি জমা রোধ করে। এছাড়াও আমাদের পেটের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ওপর ঝাল প্রভাব ফেলে যেসব ব্যাকটেরিয়া ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ওবেসিটির জন্য দায়ী। তবে এ ব্যাপারে একেবারে নির্ভুল তথ্যের জন্য আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে স্বীকার করেন গবেষকেরা।

তবে অনেকে মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল চীনের বাইরে অন্যরকম হতে পারে। এমনও হতে পারে চীনে এমনভাবে খাবারে ঝাল দেওয়া হয় যা আয়ু বাড়ানোর জন্য দায়ী।  অথবা ঝাল খাবারের সাথে এমন কোনো পানীয় বা খাবার খাওয়া হয় যা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে অন্যান্য দেশের পটভূমিতেও এই গবেষণার ফলাফল যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।

উপরে