আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:৪৮

যেভাবে দেওয়া হয় নোবেল শান্তি পুরস্কার

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে দেওয়া হয় নোবেল শান্তি পুরস্কার

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান সহিংসতার কারণে উদ্বাস্তু হয়েছে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এমন সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারে শান্তিতে নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সুচি ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন। প্রশ্নের মুখে পড়েছে তাঁর শান্তিতে নোবেল। আবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অনেকে আছেন যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বজুড়ে। একই সঙ্গে উঠে এসেছে অনেক বিশ্ব নেতাদের কথা যাঁরা নোবেল শান্তিজয়ী না হলেও বিশ্ব শান্তিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন অবিরত। এমন পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মধ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।

১৯০১ সাল থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, তিব্বতের দালাইলামা, কলাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস, ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত সহ অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। আবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়ে সমালোচনা রয়েছে মিয়ানমারের অং সান সুচি, ‍মিখাইল গর্বাচেভ, আইজ্যাক রবিন, মেনাকেম বেগিন, লে ডাক থো, হেনরি কিসিঞ্জার, জিমি কার্টার, আল গোর, আইপিসিসি ও লিউ জিয়াবাওকে নিয়ে।

বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামেই নোবেল পুরস্কারের নাম দেওয়া হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি এই ছয় বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। বিভিন্ন জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষায়, অন্যদেশে পাঠানো সেনাসংখ্যা কমানো বা প্রত্যাহার করায় এবং শান্তি স্থাপন ও বজায় রাখার জন্য কাজ করেছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় শান্তিতে নোবেল।

সাধারণত, নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পদ্ধতি থেকে ঘোষণা পর্যন্ত সবকিছুর তত্ত্বাবধান করে সুইডেন। শুধু শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ে থেকে। নরওয়ের পার্লামেন্ট নোবেল কমিটি গঠনের জন্য পাঁচজন ব্যক্তিকে বেছে নেয়।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে নোবেল কমিটি নির্ধারিত ব্যক্তিদের আহ্বান করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য। পরের বছর ফেব্রুয়ারির এক তারিখের মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে সকল মনোনয়নের মধ্যে বাছাই করে ছোট তালিকা করা হয়। মার্চ ও আগস্টে অ্যাডভাইজাররা পুনরায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। অক্টোবর মাসে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। ডিসেম্বর মাসে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে।

জাতীয় পরিষদ ও সরকারের সদস্য (মন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা) এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান, আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য, ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, দর্শন, ও ধর্মের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, এমিরেটাস অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ও পরিচালক, শান্তি গবেষণা সংস্থা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংস্থার পরিচালক, শান্তিতে নোবেল জয়ী, শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পর্ষদের সদস্য, নরওয়ের নোবেল কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্য, নরওয়ের নোবেল কমিটির সাবেক অ্যাডভাইজারদের পাঠানো ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নামকে নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রার্থী হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

এ পর্যন্ত ২০১৭ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য ৩১৮ জন প্রার্থীর নাম জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২১৫ জন ব্যক্তি এবং ১০৩টি সংস্থার নাম রয়েছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থীর নাম এসেছিল ২০১৬ সালে। ৩৭৮ জন প্রার্থীর নাম জমা দেওয়া হয় ওই বছর।

সাধারণত ফেব্রুয়ারির এক তারিখে নোবেল কমিটির সদস্যরা সভা আয়োজন করেন। সেখানে তাঁরা আলোচনা করে ২০-৩০ জনের নামের একটি তালিকা করেন। এরপর এটি নোবেল ইনস্টিটিউটের স্থায়ী অ্যাডভাইজারদের কাছে যায় বিবেচনার জন্য। অ্যাডভাইজাররা এ সময় তালিকা যাচাই করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।

অক্টোবরের প্রথম দিকে নোবেল কমিটির সদস্যরা আবার সভায় উপস্থিত হন। অধিকাংশ ভোট পান যিনি বা যে সংস্থা তাঁকেই নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, এ বছর ৬ অক্টোবর নোবেল জয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

তবে কেন এবং কিসের ভিত্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো তা কখনো জানানো হয় না। নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী ৫০ বছর পর এ সত্য সবাইকে জানাতে হয়। তাই খুব যত্ন সহকারে তথ্য গোপন রাখা হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে