আপডেট : ২৯ মে, ২০১৭ ১১:৪৩

যেভাবে হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণ

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণ

রাজধানী ঢাকা। হাজারো বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাস্তব সাক্ষী হয়ে আজও শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে। রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর এর বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বড় বড় লোকের আবির্ভাব হয়। ইতিহাস থেকে যতদূর জানা যায়, মুসলিম শাসনের প্রথম দিকে ঢাকার এসব এলাকরে অস্তিত্ব নিয়ে কোন মতামত পাওয়া দুষ্কর। তারপরেও মোটামুটি তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণের সঠিক কারণ তুলে ধরা হল।

ইন্দিরা রোডঃ
এককালে এ এলাকায় "দ্বিজদাস বাবু" নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তির বাসাস্থান, অট্টলিকার পাশের সড়কটি নিজেই নির্মাণ করে বড় কন্যা "ইন্দিরা" নামেই নামকরণ 

পিলখানাঃ
ইংরেজ শাসনামলে প্রচুর হাতি ব্যবহার করা হত। বন্য হাতিকে পোষ মানানো হত যেসব জায়গায় তাকে বলা হত পিলখানা। বর্তমান "পিলখানা" ছিলো সর্ববৃহৎ 

এলিফ্যানট রোডঃ
পিলখানার হতে হাতিগুলোকে নিয়ে যেতো "হাতির ঝিল"এ গোসল করাতে তারপর "রমনা পার্ক"এ রোঁদ পোহাতো সন্ধ্যের আগেই পিলখানায় চলে আসতো যাতায়াতের রাস্তাটির নামকরণ "এলিফ্যান্ট রোড" পথের মাঝে ছোট্ট একটি কাঠের পুল ছিলো "হাতির পুল" 

কাকরাইলঃ
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে ঢাকার কমিশনার ছিলেন মিঃ ককরেল। নতুন শহর তৈরী করে নামকরণ "কাকরাইল"

রমনা পার্কঃ অত্র এলাকায় বিশাল ধনী রম নাথ বাবু মন্দির তৈরী করেছিলো "রমনা কালী মন্দির" মন্দির সংলগ্ন ছিলো ফুলের বাগান আর খেলাধুলার পার্ক। পরবর্তীতে সৃষ্টি হয় "রমনা পার্ক" 

গোপীবাগঃ
গোপীনাগ নামক এক ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। নিজ খরচে "গোপীনাথ জিউর মন্দির" তৈরী করেন পাশেই ছিলো হাজারো ফুলের বাগান "গোপীবাগ"

চাঁদনী ঘাটঃ
সুবাদার ইসলাম খাঁর একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী ছিলো এবং নিত্যনতুন নারী নিয়ে আসতো। প্রমোদতরীর নাম ছিলো "চাঁদনী" যেই ঘাটে তরীটি বাঁধা থাকতো "চাঁদনী ঘাট"

টিকাটুলিঃ
হুক্কার প্রচলন ছিলো হুক্কার টিকার কারখানা ছিলো "টিকাটুলি"

তোপখানাঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর গোলন্দাজ বাহিনীর অবস্থান ছিল এখানে।

পুরানা পল্টন, নয়া পল্টনঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ঢাকাস্থ সেনানিবাসে এক প্ল্যাটুন সেনাহিনী ছিল, প্ল্যাটুন থেকে নামকরন হয়

পল্টন,পরবর্তীতে আগাখানিরা 
এই পল্টনকে দুইভাগে ভাগ করেন নয়া পল্টন ছিল আবাসিক এলাকা আর 
পুরানো পল্টন ছিল বানিজ্যিক এলাকা 

বায়তুল মোকারম নামঃ 
১৯৫০-৬০ দিকে প্রেসিডেন্ট আয়ুবের সরকারের পরিকল্পনা পুরানো ঢাকা-নতুন ঢাকার যোগাযোগ রাস্তার। তাতে আগাখানীদের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,আবাসিক বাড়িঘর চলে যায়। আগাখানীদের নেতা আব্দুল লতিফ বাওয়ানী(বাওয়ানী জুট মিলের মালিক)সরকারকে প্রস্তাব দিলো, আমাদের নিজ খরচে এশিয়ার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মসজিদ তৈরী করবো। এটা একটা বিরাট পুকুর ছিল "পল্টন পুকুর", এই পুকুরে একসময় ব্রিটিশ
সৈন্যরা গোসল করতো। ১৯৬৮ সনে মসজিদ ও মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হয়

ধানমন্ডিঃ
এখানে এককালে বড় একটি হাট বসত। হাটটি ধান ও অন্যান্য শস্য বিক্রির জন্য বিখ্যাত ছিল।

পরীবাগঃ
পরীবানু নামে নবাব আহসানউল্লাহর এক মেয়ে ছিল। সম্ভবত পরীবানুর নামে এখানে একটি বড় বাগান করেছিলেন আহসানউল্লাহ।

পাগলাপুলঃ ১৭ শতকে এখানে একটি নদী ছিল, নাম – পাগলা। মীর জুমলা নদীর উপর সুন্দর একটি পুল তৈরি করেছিলেন। অনেকেই সেই দৃষ্টিনন্দন পুল দেখতে আসত। সেখান থেকেই জায়গার নাম "পাগলাপুল"

পানিটোলাঃ
যারা টিন-ফয়েল তৈরি করতেন তাদের বলা হত পান্নিঅলা। পান্নিঅলারা যেখানে বাস করতেন সে এলাকাকে বলা হত পান্নিটোলা। পান্নিটোলা থেকে পানিটোলা।

ফার্মগেটঃ
কৃষি উন্নয়ন, কৃষি ও পশুপালন গবেষণার জন্য বৃটিশ সরকার এখানে একটি ফার্ম বা খামার তৈরি করেছিল। সেই ফার্মের প্রধান ফটক বা গেট থেকে এলাকার নাম ফার্মগেট।

শ্যামলীঃ
১৯৫৭ সালে সমাজকর্মী আব্দুল গণি হায়দারসহ বেশ কিছু ব্যক্তি এ এলাকায় বাড়ি করেন। এখানে যেহেতু প্রচুর গাছপালা ছিল তাই সবাই মিলে আলোচনা করে এলাকার নাম দেন শ্যামলী।

সূত্রাপুরঃ
কাঠের কাজ যারা করতেন তাদের বলা হত সূত্রধর। এ এলাকায় এককালে অনেক শূত্রধর পরিবারের বসবাস ছিলো।

সুক্কাটুলিঃ
১৮৭৮ সালে ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে কিছু লোক টাকার বিনিময়ে চামড়ার ব্যাগে করে শহরের বাসায় বাসায় বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দিতেন। এ পেশাজীবিদেরকে বলা হত ‘ভিস্তি’ বা ‘সুক্কা’।
ভিস্তি বা সুক্কারা যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই কালক্রমে সিক্কাটুলি নামে পরিচিত হয়।

ধোলাই খাল নামঃ 
ঢাকা শহরের বাণিজ্যিক ব্যস্ততম খাল ছিলো যা সরাসরি বুড়িগঙ্গা হয়ে বিশ্বের যোগাযোগ ছিল। খালের দুধারে ছিলো কাঠের আসবাবপত্রের দোকান এবং ধুপা-ঘর। কাঠের সামগ্রী আর ধুপারা কাপড় ধুতো সে থেকেই "ধোলাই খাল"

স্বামীবাগঃ
"ত্রিপুরালিংগ স্বামী" নামে এক ধনী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি এ এলাকায় বাস করতেন। তিনি সবার কাছে স্বামীজি নামে পরিচিত ছিলেন। তার নামেই এলাকার নাম হয় স্বামীবাগ।

মালিবাগঃ
ঢাকা একসময় ছিল বাগানের শহর। বাগানের মালিদের ছিল দারুণ কদর। বাড়িতে বাড়িতে তো বাগান ছিলই, বিত্তশালীরা এমনিতেও সৌন্দর্য্য পিপাসু হয়ে বিশাল বিশাল সব ফুলের বাগান করতেন। ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নামের শেষে ‘বাগ’ শব্দ সেই চিহ্ন বহন করে। সে সময় মালিরা তাদের পরিবার নিয়ে যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই আজকের মালিবাগ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/বুলা

উপরে