আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ২১:২৭

জাপানীরা কেন দীর্ঘদিন বাঁচেন? রহস্য জেনে নিন

বিডিটাইমস ডেস্ক
জাপানীরা কেন দীর্ঘদিন বাঁচেন? রহস্য জেনে নিন

দীর্ঘ জীবন লাভের ইচ্ছা কার না আছে? মৃত্যু অনিবার্য জেনেও পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার আকাঙ্খা লালন করে যাচ্ছে।

মানুষকে দীর্ঘ জীবন দিতে বিজ্ঞানীদের চেষ্টারও অন্ত নেই।  সে প্রচেষ্টা যে পুরোপুরি সফল হচ্ছে তা কিন্তু নয়। তবে পরিবেশভেদে এক এক দেশের মানুষ জীবনের আয়ু বিভিন্ন রকম। কোনো দেশের মানুষের গড় আয়ু ৫০ আবার কোনো দেশের ৮০। বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭১। সবচেয়ে কম গড় আয়ুর দেশ সিয়েরে লিয়ন। এ দেশটির মানুষ গড়ে ৪৬ বছর বাঁচে। সবচেয়ে বেশি বছর বাঁচে জাপানের মানুষ। তাদের গড় আয়ু ৮৪। আবার এ দেশটির মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে। পুরুষদের গড় আয়ু যেখানে ৮৩ সেখানে মেয়েদের ৮৭।  

বেশিদিন বাঁচতে তাহলে সবাইকে কি জাপান চলে যেতে হবে? জাপানে যাওয়া ছাড়া কি বেশিদিন বাঁচা যাবে না? এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। পৃথিবীর যে কোনো দেশে থেকেই দীর্ঘায়ু পাওয়া সম্ভব। সে জন্য অবশ্য কিছু রহস্য জানতে হবে, পালন করতে হবে কিছু নিয়ম কানুন। জাপানীদের বেশি দিন বেঁচে থাকার সেই রহস্য জেনে নেওয়া যাক। খাদ্যাভাস পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে দীর্ঘায়ু পাওয়া সম্ভব।

জাপানী ডায়েট: পশ্চিমাদেশের তুলনায় জাপানীরা ২৫ ভাগ কম ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে শুধু এই কারণেই অন্য দেশের তুলনায় জাপানীরা আট ভাগ বেশি গড় আয়ু পায়। শুধু তাই নয়, এ কারণে তাদের লিভারের কার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কম পড়ে। এখানে জাপানিদের কিছু সাধারণ খাবার এবং পানীয়ের কথা জানানো হলো।

মাছ: খাবারের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশের স্লোগান ‘বেশি করে মুরগী খাও’। তবে এ ব্যাপারে জাপানীরা উল্টো। তারা বেশি মাছ খায়। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ ভাগ জাপানী হলেও তারা মোট মাছের ১০ ভাগ খেয়ে থাকে। আর মাছ খাওয়ার উপকারিতা কম নয়, মাছ হৃদরোগে মৃত্যুর হার ৩৬ ভাগ কমিয়ে দেয়। এছাড়া ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কম থাকে তেমনি শরীরে জ্বালা যন্ত্রণা হওয়া সম্ভাবনা কম থাকে।

সমুদ্র শৈবাল: সমুদ্র শৈবাল বা সমুদ্রের বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ শুধু মাছের খাবার নয়, জাপানীরাও এর ওপর হামলে পড়ছে। বছরে ১ লাখ টন সমুদ্র শৈবাল জাপানীরা উদরস্থ করে।

চা: জাপানীদের অতি সাধারণ এক পানীয় চা। সূর্যোদয়ের দেশটিতে বেশির ভাগ মানুষ ‘গ্রিন টি’ পান করে। গবেষণা বলছে, গ্রিন টি ক্যান্সার ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। অন্য এক গবেষণায় জানা যায়, যারা প্রতিদিন পাঁচ কাপ গ্রিন টি পান করে তাদের মৃত্যুর হার ২৬ ভাগ কমে যায়।

সবজি: জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের মানুষ সমুদ্র শৈবালের পাশাপাশি সবুজ সবজি বেশি খায়। জাপানিদের প্রতি বেলার খাবারে অন্তত চারটি সবজি সাধারণ ব্যাপার। তাছাড়া ভাতের তুলনায় সবজিই বেশি খায় তারা।

হার্বাল গার্ডেন: ওকিনাওয়া অঞ্চলের বাড়িতে আদা, হলুদসহ বিভিন্ন ভেষজের গাছ সাধারণ ঘটনা। এ সব গাছের বিভিন্ন উপাদান অসুস্থতা রক্ষার জন্য দারুণ কার্যকর।

হাসি: দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য হাসিটা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা হাসিতে শরীরের রক্তের শর্করা কমায়, রক্ত চলাচল দ্রুত করে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি নষ্টে ভূমিকা রাখে।

অতীতের বাজে স্মৃতি: বেশির ভাগ জাপানী অতীতের বাজে স্মৃতি নিয়ে নাড়াচড়া না করাটাই শ্রেয় মনে করে। তারা জীবনকে উপভোগ এবং আনন্দ নিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

বয়স্কদের শ্রদ্ধা করা:  জাপানীরা বিশ্বাস করে কঠিন সময়ে ভালো থাকার মূল উৎস হচ্ছে বন্ধুত্ব। যখন একজন অন্যজনকে সম্মান করে তখন তারা আরো বেশিদিন বাঁচার উৎসাহ পায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে