আপডেট : ৭ মার্চ, ২০১৬ ১৬:২৪

পৃথিবীর জঘন্য ৬ পানীয় অথচ প্রচণ্ড দামি!

বিডিটাইমস ডেস্ক
পৃথিবীর জঘন্য ৬ পানীয় অথচ প্রচণ্ড দামি!

শরবত বা কোমল পানীয় হতে শুরু করে হাজার রকমের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় তথা মদ আছে পৃথিবীর দেশে দেশে। এর সবই কি খেতে খুব সুস্বাদু? মোটেও নয়। এমন কিছু পানীয় আছে যেগুলোর নাম আপনি কখনোই শোনেননি। সেগুলোর বর্ণনা শুনলে চেখে দেখার ইচ্ছাটাও হয়তো চিরকালের মতো উধাও হয়ে যাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক পৃথিবীর জঘন্যতম ৬টি পানীয় সম্পর্কে।

হরিণের পুরুষাঙ্গ থেকে তৈরি ওয়াইন: চীনের ক্রীড়াবিদরা বহুদিন ধরেই নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রাণির বিভিন্ন অঙ্গ খেতেন। ১৯৯০ সালে চীনের একজন কোচ মা জুনরেন তার কোচিং-এর অধীনে থাকা প্রতিযোগীদের দিয়ে দৌড়ের অনেকগুলো রেকর্ড সৃষ্টি করেন। দাবি করা হয়, তিনি তার ক্রীড়াবিদদের শক্তিবর্ধনের জন্য কচ্ছপের রক্ত, ছত্রাক ও শুঁয়োপোকা মিশিয়ে এক ধরণের পানীয় পান করতে দিতেন।

তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় শক্তিবর্ধক পানীয় ছিলো হরিণের পুরুষাঙ্গ থেকে তৈরি ওয়াইন। অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন ভেষজ দ্রব্য মিশিয়ে এই পানীয় বিভিন্ন রোগের উপশমকারী হিসেবে ব্যবহার করা হতো পুরো চীন জুড়ে। ২০০৮ এর বেইজিং অলিম্পিক থেকে খেলোয়াড়দের জন্য এই পানীয় গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। চীনারা যৌনশক্তি ও প্রাণশক্তি বৃদ্ধির জন্যও এই পানীয় খেয়ে থাকে। এ পানীয়ের আরেকটি সংস্করণ হচ্ছে ‘তিন পুরুষাঙ্গ পানীয়’। ওই বিশেষ পানীয়তে হরিণ ছাড়া কুকুর ও সিলের পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করা হয়!

পেরুর ব্যাঙের জুস: পৃথিবীর সর্বোচ্চ হ্রদ হলো পেরুর টিটিকাকা। সেখানে পাওয়া যায় Telmatobius coleus নামে এক বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙ। এই ব্যাঙ হলো rana y maca (frog juice) নামে বিশেষ পানীয় তৈরির মূল উপাদান, যেটা ‘পেরুর ভায়াগ্রা’ নামেও পরিচিত।

এ পানীয় তৈরি করতে প্রথমে ওই বিশেষ প্রজাতির একটি ব্যাঙ ধরে সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এরপর ব্যাঙটির পেট বরাবর দুটি ছিদ্র করা হয়। এরপর গরম শিমের ঝোল, মধু, ঘৃতকুমারী (অ্যালোভেরা) , ম্যাকা গাছের শিকড়ের (এ শিকড়ের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করা হয়) সাথে ব্যাঙটিকে গলিয়ে মিশিয়ে ফেলা হয়। পুরো মিশ্রণটি দেখতে হয় মিল্ক-শেকের মতো! এ পানীয় এতোটাই জনপ্রিয় যে টিটিকাকা হ্রদে এই প্রজাতির ব্যাঙের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

পাণ্ডার মল মিশ্রিত চা: চীনের সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান ইয়ানশি পাণ্ডার মলের উপর গ্রিন টি তৈরির একটি পদ্ধতি নিজের নামে পেটেন্ট করেছেন। তিনি তার নতুন এই ‘সৃষ্টি’ Panda Ecological Tea শিরোনামে তিনটি গ্রেড বা ভাগে বিক্রি করেন। এই বিশেষ চায়ের মূল্য আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় তিনি খুব স্বল্প পরিমাণে বিক্রি করছেন।

সবচেয়ে উন্নত মানের পাণ্ডার মল মিশ্রিত চায়ের দাম কত জানেন? প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ইউয়ান বা ৭২ হাজার মার্কিন ডলার বা ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা! চা বিক্রির সময় ইয়ানশি একটি পাণ্ডার পোশাক পরে থাকেন। তিনি তার বিজ্ঞাপনে বলেন, পাণ্ডারা যে খাবার খায় তার থেকে মাত্র ৩০ ভাগ পুষ্টি পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করে। বাকি ৭০ ভাগ বের হয়ে আসে মল হিসেবে। যে কারণে তার এই পাণ্ডার মল মিশ্রিত চা একই সাথে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর!

পাখির বাসা থেকে তৈরি পানীয়: সুইফটলেটস নামে চীনে এক ধরণের পাখি আছে। এরা ডাল-পালা বা পাতা দিয়ে বাসা বানানো ছাড়াও আরো একটা কাজ করে। এরা বাসার দেয়ালে এদের আঠালো লালা ফেলে। সেটা পরে শক্ত হয়ে যায়। চীনারা বেশ তৃপ্তি নিয়েই এগুলো খায়। বলা হয় এতে লিভার ও ত্বক ভালো থাকে। পালক ও মল পরিষ্কার করার পর বাসাটি হয়ে উঠে স্পঞ্জের মতো নরম। সাধারণ একটি বাসা বিক্রি হয় ৫০০ মার্কিন ডলার বা ৪০ হাজার টাকায়। তবে ভাল মানের বাসাগুলো বিক্রি হয় ১৩০০ ডলার বা ১ লাখ ৪ হাজার টাকায়। অনেকেই এত দাম দিয়ে বাসা কিনতে পারে না, তাই অনেকে পাখির বাসার অল্প অল্প অংশ পানিতে মিশিয়ে বোতলে করে বিক্রি করে। সেটা খেতে কিছুটা মিষ্টি, দলা পাকানো ও আঠালো হয়ে থাকে!

প্ল্যাসেন্টা বা অমরা থেকে তৈরি পানীয়: যেসব নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর বুড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে বিভিন্ন দ্রব্য বা প্রসাধনী ব্যবহার করেন, তাদের মাঝে মনে হয় সদ্যপ্রসূত বাচ্চার অমরা বা প্ল্যাসেন্টা এগিয়ে থাকবে। অমরাতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন বি-১২ ও হরমোন। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, প্রসূতি মায়েরা এটি খেলে সন্তান জন্ম দেয়ার সময় তার শরীরের উপর দিয়ে যে ধকল যায়, সেটি কাটিয়ে ওঠা যায় দ্রুত।

এতো গেলো মায়েদের কথা। কিন্তু অন্যরা যদি অমরার উপকারিতা পেতে চান তারা কী করবে? Nihon Sofuken’s Placenta 10000 এরকমই একটি পানীয় যেটা তৈরি হয় শূকরের অমরার নির্যাস থেকে। বহু কোম্পানি তারুণ্য ধরে রাখার মাধ্যম হিসেবে অমরা থেকে পানীয়, চিপস, ট্যাবলেট তৈরি করে। আর এতেও না হলে রয়েছে ঘোড়ার অমরার নির্যাস থেকে তৈরি পানীয়!

সাপ, টিকটিকি বিছা মিশ্রিত ওয়াইন: সাপ, টিকটিকি ও বিছা মিশ্রিত ওয়াইনটি খেতে অবশ্যই বেশ সাহসের প্রয়োজন হবে। এটি শুধু তাদের জন্য, যারা ব্যতিক্রমী ওয়াইনের স্বাদ পেতে চান। ওয়াইনে চুমুকের সাথে সাথে কারো মনে যদি ইচ্ছা জাগে সাপ, টিকটিকি ও বিছা তার ঠোঁট ও জিহ্বা স্পর্শ করবে- তবে অবশ্যই তার এ ওয়াইনের স্বাদ নেওয়া উচিত!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে