আপডেট : ৪ মার্চ, ২০১৬ ২০:০৭

কত কারণে ভাঙছে বিয়ে?

বিডিটাইমস ডেস্ক
কত কারণে ভাঙছে বিয়ে?

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে ২০ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। কিন্তু জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে এই রাজ্যের অবস্থা খুবই করুণ। রাজ্যটিতে প্রথাগতভাবে মেয়েদের কম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। বিশেষ করে বিয়ের মতো নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয় না মেয়েদের। সেখানে লাখ লাখ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই। কিন্তু এখন সেখানে বদলের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাসে অনেক নারী নানা যৌক্তিক কারণে বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। বিবিসি অনলাইন এ নিয়ে ৪ মার্চ শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেসা কারণে নারীরা বিয়ে ভাঙছে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো-

মদ্যপান
গত মাসে ফিরোজাবাদ জেলায় এক কনে বিয়ের কার্যক্রম চলার সময় তা ভেঙে দিয়েছেন। কেননা বর ছিল মাতাল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছিল, বিয়ের মূল বিধি শুরুর আয়ে ‘জয়মাল্য’ বদলের সময় বর ঠিকভাবে নিজের ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। পা টলছিল তাঁর। এ সময় কনে বেঁকে বসেন। তিনি জানিয়ে দেন, তাকে জোর করে এই লোকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হলে আত্মহত্যা করবেন। এরপর বন্ধ করে দেওয়া বিয়ের কার্যক্রম।

অঙ্ক পারেনি
মোহর সিং তাঁর মেয়ে লাভলির বিয়ে ঠিক করেছিলেন রাম বরণ নামের এক তরুণের সঙ্গে। দিনক্ষণ ঠিক। শুরু হয়ে যায় বিয়ের নানা আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু আচমকা লাভলির মাথায় আসে তাঁর হবু বর কেমন মেধাবী তা যাচাই করে নেওয়া। বিয়ের আগ শুরুর আগ মুহূর্তে তিনি বরকে একটি সহজ অঙ্ক কষতে দেন। ১৫‍+৬‍=কত?। আর বর যোগ করে ফল বললেন ১৭। সঙ্গে সঙ্গে আকাশ ভেঙে পড়ল লাভলি ও তাঁর পরিবারের মাথায়। সেখানেই বিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো। মোহর সিং বলেন, বরের পরিবার আমাদের কাছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি গোপন করেছে। ছেলেকে যে প্রশ্ন করা হয়েছে তা প্রথম শ্রেণির একটি শিশুও পারে। সেটাই ভুল করেছে সে।

অসুস্থ বর
অগ্নি সাক্ষী রেখে যখন সাতপাক ঘুরছিলেন, তখনই বর ধপাস করে মাটিতে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়লেন। কী হলো, কী হলো, বলে শুরু হয়ে যায় হুলুস্থুল। ধরপাকড় করে বরকে নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। আর এ সময় কনের পরিবার দাবি করল, ছেলে যে মৃগীরোগী তা তাদের জানানো হয়নি। কনে রেগে গিয়ে এই ছেলেকে বিয়ে করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন। বরং সে সময় সেখানে থাকা আত্মীয়কে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। আর সানন্দে সেই আত্মীয় রাজি হন। এরই মধ্যে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে ওই ব্যক্তি কনেকে বিয়ে করতে অনুনয় করেন। বলেন, বউ নিয়ে না যেতে পারলে তাঁকে উপহাস করা হবে। কিন্তু কনের মন এতে গলেনি।
পরে অবশ্য এ নিয়ে মামলাও করা হলেও প্রত্যাহার করা হয়। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওই কনের ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। এখানে কে কী করতে পারে।

ভাবির চুমু
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন মেলামেশা শেষে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা মাফিক সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। আলীগড় শহরে সেই বিয়েতে মেয়র শকুন্তলা ভারতীসহ ৫০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। দেবরের বিয়ে নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন ভাবি। দেবরকে আদর দেখাতে গিয়ে একটু বেশিই আবেগ দেখিয়ে ফেলেন। দিয়ে বসেন চুমু। যা খুব ভালোভাবে নেয়নি কনেপক্ষ। শুধু চুমু নয়, এরপর ভাবি দেবরকে টেনে নিয়ে যান নাচের মঞ্চে। আর যায় কোথা! এ নিয়ে দু-পক্ষের তুমুল ঝগড়া লেগে যায়। একপর্যায়ে কনে পক্ষ বরপক্ষকে লাঞ্ছিত করে ও বরকে আটকে রাখে। পরে অবশ্য মেয়রের হস্তক্ষেপে বর মুক্তি পায়। কিন্তু বিয়ে ভন্ডুল।

আলোকসজ্জা
কানপুর শহরে বর পক্ষ কনে পক্ষের কাছে দাবি তোলে বিয়ের আয়োজনে ব্যাপক আলোকসজ্জা করতে হবে। কিন্তু কনেপক্ষ মুখের ওপর সোজা না করে দেয়। এ নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে তিক্ত বাক্য বিনিময় হয়। কনে পক্ষের দাবি বরের পরিবারের লোকজন ‘অসভ্য ও অভদ্র’। পুলিশ বলে, আলোকসজ্জার কারণে কখনো কোনো বিয়ে ভাঙার কথা তারা শোনেনি।

তামাক সেবন
তামাক সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু দেউলিয়া শহরের বিয়ের পাত্র এ বিষয়টিকে তেমন পাত্তা দেননি। তামাক চিবোতে চিবোতে তিনি বিয়ের আসরে হাজির হন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা যখন অর্ধেক তখন, বিয়ে থামিয়ে বর থুতু ফেলতে যান। কনে পক্ষ এ ব্যাপারটিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। কনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন মাদকাসক্ত কাউকে তিনি বিয়ে করবেন না।

উপরে