আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:২৭

সদ্য কারামুক্ত নায়ক সঞ্জয়দত্ত সম্পর্কে ১৪ তথ্য!

বিডিটাইমস ডেস্ক
সদ্য কারামুক্ত নায়ক সঞ্জয়দত্ত সম্পর্কে ১৪ তথ্য!

প্রায় পাঁচ বছরের কারাজীবন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মুক্ত জীবনে পা রেখেছেন বলিউড তারকা সঞ্জয় দত্ত। মহারাষ্ট্রের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর আত্মীয় আর ভক্তরা। তারপর কারাগারকে স্যালুট করে পিঠে একটি ব্যাগ আর হাতে একটি মোটা ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান। আসুন আমরা মুন্নাভাই খ্যাত এই অভিনেতা সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য জেনে নিই-

১. সঞ্জয় দত্তের জন্ম ১৯৫৯ সালে মুম্বাইয়ের মহারাষ্ট্রে। তার বাবা অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সুনীল দত্ত এবং মা নার্গিস দত্তও বলিউডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

২. সঞ্জয় দত্ত একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক, রম্য-অভিনেতা, রাজনীতিবিদ ও টিভি উপস্থাপক।

৩. তিনি শিখ ধর্মের।

৪. সঞ্জয় দত্ত বিয়ে করেছেন তিনবার। ৯ বছর সংসার করার পর তার প্রথম স্ত্রী রিচা শর্মা ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এর দু’বছর পরই তিনি রিয়া পিল্লাইকে বিয়ে করেন। ২০০৫ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ২০০৮ সালে মান্যতাকে বিয়ে করেন; তিনি এখনো বর্তমান আছেন।

৫. ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বোমা হামলার ঘটনার পর, হামলাকারীর কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র কেনার অভিযোগে সঞ্জয় দত্তের ৫ বচরের জেল হয়। যদিও তার দাবি, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে নিজের পরিবারকে বাঁচাতেই তিনি ওই অস্ত্রটি কিনেছিলেন।

৬. তাকে পুনের ইয়ারাওয়ারা জেলে রাখা হয়। জেলে তার কয়েদি নম্বর ছিলো ১৬৬৫৬।

৭. কারাগারে মি. দত্ত সবচেয়ে নিরাপত্তার ওয়ার্ড, ‘ফ্যান্সি ওয়ার্ডে’ আট ফুট বাই দশ ফুটের একটি সেলে বাস করতেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের সেলগুলো ছিল ঠিক পাশেই। কারাবন্দীদের পোশাকই তাকে পড়তে হতো। তার কারাগারের বাইরে একটি ছোট বাগান ছিল, নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরবন্দি হয়ে সেখানে তিনি হাঁটাচলা করতে পারবেন।

৮. তার পাঁচবছরের সাজা হলেও, ভালো ব্যবহারের কারণে ১৪৪দিনের সাজা কমে যায়।

৯. বলিউড স্টার সঞ্জয় দত্ত কয়েদি হিসেবে কাজ করে সাড়ে তিন বছরে সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার রুপি উপার্জন করলেও জেলের ক্যান্টিন থেকে প্রতিদিন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনে প্রচুর টাকা খরচ করেছেন তিনি। এখন তার কাছে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৪৫০ রুপি!

১০. বেশিরভাগ কয়েদির সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। তাদের মধ্যে একজনের জীবনের গল্প তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তৎক্ষণাৎ তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এ নিয়ে ছবি নির্মাণ করবেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে ওই ব্যক্তিকে সাজা ভোগ করতে হচ্ছে।

১১. সকাল ৬টায় ঘুম থেকে ওঠার কিছু পর কারারক্ষীরা তার কাগজের ব্যাগ বানানোর জিনিসপত্র নিয়ে আসতো। নিউজ পেপার কেটে কেটে তিনি ব্যাগ বানাতেন। এতে প্রতিদিন তার আয় হতো ৪৫ রুপি। দুপুরে তাকে কারাগারের অভ্যন্তরীণ রেডিও কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তিনি রেডিও জকি হিসাবে একটি প্রোগ্রাম উপস্থাপনা করতেন। দুপুরের খাবারের পরও তিনি রেডিওতে কাজ করতেন।

১২. তাকে কারাগারে সবাই ‘বাবা’ বলে ডাকতো। কারাগারে তিনি অনেক বই পড়তেন। লাইব্রেরী থেকে প্রতি সপ্তাহে তিনি দুইটি বই আনতেন।

১৩. সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাতের খাবার খেয়ে ৮টার মধ্যে তাকে নিজের সেলে ঢুকে পড়তে হতো। পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত তিনি সেখানেই তালাবন্ধ থাকতেন।

১৪. মুম্বাইয়ের একটি রেস্টুরেন্ট ‘সাঞ্জুবাবা চিকেন’ নামে একটি খাবার পরিবেশন করে, যার নামকরণ করা হয়েছে সঞ্জয় দত্তের নামে। বলা হয়ে থাকে, সঞ্জয় দত্ত মুম্বাইয়ের ঐ রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন এবং এর মালিককে রেসিপিটির কথা প্রস্তাব করেছিলেন। তখন রেস্টুরেন্টের মালিক খাবারটির নাম তার নামেই নামকরণ করেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে