আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:৪১

বাজেটের আগে হালুয়া রাঁধেন ভারতের অর্থমন্ত্রী!

বিডিটাইমস ডেস্ক
বাজেটের আগে হালুয়া রাঁধেন ভারতের অর্থমন্ত্রী!

প্রথার শেষ নেই ভারতে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সেখানকার মানুষকে মেনে চলতে হয় নানা রীতি। একইভাবে দেশও নানা রীতির মধ্যে দিয়ে চলে। তেমনই বাজেটকে ঘিরেও আছে নানা রিচুয়াল। নানা সরকারি নিয়ম। নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর এ সবের সঙ্গে অনেক সংস্কার।

জেনে নিন ভারতের বাজেট পূর্ব এমনই  পাঁচটি প্রথা যা বছরের পর বছর পালিত হয়ে আসছে-

হালুয়া উৎসব
হালুয়া হল এমন একটা খাবার যা ভারতের সব প্রান্তেই খাওয়া হয়। স্বাদ আলাদা আলাদা হলেও হালুয়ার প্রচলন সর্বত্র। সুজি আর চিনির এই হালুয়া ভারতের সাধারণ বাজেটের অন্যতম অঙ্গ। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, যেই প্রান্তের প্রতিনিধিই অর্থমন্ত্রী হোন সবাইকেই বাজেটের আগে হালুয়া রান্নায় হাত লাগাতে হয়। বেশ সুস্বাদুই হয় সেই সরকারি দুধ-ঘিয়ের হালুয়া। আর সেটা প্রসাদের মত খাওয়ার পরেই শুরু হয় বাজেট প্রস্তুতি। অফিসার ও কর্মীরা শুরু করে দেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বার্ষিক বাজেট তৈরির কাজ। গোটা ব্যাপারটাই হয় নয়াদিল্লির নর্থ ব্লকের একটি পাতালঘরে।

পাতালঘরে বন্দি
দেশের বাজেট প্রস্তুতি এবং তার মুদ্রণ একটি অত্যন্ত গোপন বিষয়। অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে তার কোনও তথ্যই কারও জানার কথা নয়। সেই কারণে বাজেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রায় ১০০ জন কর্মী কার্যত বন্দি থাকেন প্রায় ১০ দিন। থাকতে হয় নর্থ ব্লকের একটি পাতালঘরে। সত্যি করেই রুদ্ধ কক্ষে রাখা হয় তাঁদের। এই সময়টাই ওই কর্মীরা মোবাইল ফোনসহ কোনরকম যোগাযোগ মাধ্যমই ব্যবহার করতে পারেন না।

ওই পাতালঘরে একটিই টেলিফোন লাইন থাকে। সেটাও আবার শুধু কল রিসিভ করার জন্য। তবে পরিবারের কারও সঙ্গেও কথা বলার সুযোগ থাকে না ওই কোর টিমের। ফোন রিসিভ করার ক্ষেত্রেও গোয়েন্দা কর্তাদের নজরদারিতে থাকতে হয়।

 

গোপন নথি
বাজেট প্রস্তুত করার টিম যত বড়ই হোক না কেন আসল হিসেবের কাগজ দেখতে পান একজনই। এই দায়িত্ব দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের হাতে। বাজেটের মূল যে তথ্য তা এই নথিতে থাকে। দেশের গোটা আর্থিক পরিকল্পনার হিসেব নিকেশ থাকে ওই ‘ব্লু-শিট’ এ। তিনি এই দায়িত্ব অন্য কারও হাতে দিতে পারেন না। এমনকি অর্থমন্ত্রীকেও নয়। তাঁর হাতে করেই ওই নথি নর্থব্লকের বাইরে যায়। প্রস্তুতি পর্বে এতে একমাত্র অর্থমন্ত্রীই নজর দিতে পারেন।

 

বাজেটের ব্রিফকেস
বাজেট পেশ করতে যাওয়ার সময় বড় মাপের একটি সুটকেস নিয়ে যান অর্থমন্ত্রী। এই দৃশ্য সকলেরই জানা। কিন্তু এর ইতিহাস অনেকেরই অজানা। এই প্রথা এসেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ব্যবস্থা থেকে। সেখানে এটাকে বলা হয় ‘বাজেট বক্স’। এবং সেখানে এক অর্থমন্ত্রী থেকে অন্য অর্থমন্ত্রীর হাতে আসতে থাকে। ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ার পরে নতুন বাক্স কেনা হয়। ভারতে অবশ্য সেই প্রথা নেই। নতুন নতুন সুটকেসে বন্দি হয়েই আসে নতুন নতুন বাজেট। অর্থমন্ত্রী সেই বাক্স হাতে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের জন্য ছবি তোলেন, সংসদে প্রবেশের আগে। এখানও প্রথা হচ্ছে তিনি সংসদে নিজের নির্দিষ্ট জায়গায় যাওয়ার আগে একটি বারের জন্যও ওই সুটকেস হাত থেকে নামাবেন না।

বাজেট পেশের সমস্ত দিন
বাজেট পেশের অংশটুকুই দেশবাসী দেখতে পান টিভির পর্দায়। কিন্তু তার আগেও বেশ কিছু পর্ব আছে। শুভ মুহূর্ত দেখে সকাল ৯টা নাগাদ নর্থব্লকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দফতর থেকে অর্থমন্ত্রী বের হয়ে প্রথমে যান রাইসিনা হিল্‌স-এ রাষ্ট্রপতি ভবনে। সেখানে অর্থমন্ত্রী এবং তাঁর কোর টিম রাষ্ট্রপতিকে বাজেটের মূলগত বিষয়গুলি জানান। এর পরে গোটা দল সংসদে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং পরে গোটা মন্ত্রিসভার সামনে বাজেটের প্রধান বিষয়গুলি জানান। এর পরেই প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী এক সঙ্গে লোকসভায় যান এবং বাজেট পেশ হয়।

সব শেষ হলে প্রস্তুতি পর্বে পাতালঘরে বন্দি থাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিসার কর্মীরা বাড়ি ফিরতে পারেন।

উপরে