আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০১:০৪

টিনটিনের জন্মের ইতিহাস জানানে কি?

অনলাইন ডেস্ক
টিনটিনের জন্মের ইতিহাস জানানে কি?

আমার মত টিনটিন প্রেমি আছেন অনেকেই। কিন্তু জানেন কি আমাদের সবার প্রিয় টিনটিনের জন্ম হয়েছিল কবে ও কি ভাবে? আচ্ছা জানেন না তো! তাহলে চলুন জেনে নেই এর ইতিহাস।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত কমিক্স চরিত্রগুলোর একটি টিনটিন-এর প্রথম বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৯ সালের জানুয়ারি মাসে। এর রচয়িতা ছিলেন বেলজিয়ান শিল্পী এয়ার্জে। কিভাবে তার মাথায় টিনটিনএর মতোএকটি চরিত্র সৃষ্টির ভাবনা এসেছিল - সেই গল্প শুনিয়েছেন বিবিসির লুসি বার্নস ।

ক্ষুদে রিপোর্টার টিনটিন, তার মাথায় টিকির মতো বাঁকানো লালচে-সোনালী চুল, আর সঙ্গী কুকুর স্নোয়ি। এর স্রষ্টা বেলজিয়ান কার্টুনিস্ট এয়ার্জের ( Herge) আসল নাম জর্জেস রেমি। ১৯৭৭ সালে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এয়ার্জে বলেছিলেন কিভাবে এই টিনটিন চরিত্রের কথা তার মাথায় এসেছিল।

কি কারণে যে এই টিনটিন সারা দুনিয়ায় বিখ্যাত এক চরিত্র হয়ে উঠলো - তা এয়ার্জে এখনো বুঝতে পারেন না।

এয়ার্জে বলেন, "আমি জানি না। একেবারেই জানি না। এই টিনটিন চরিত্রটির সাফল্য আমাদের দারুণভাবে বিস্মিত করে। কারণ আমি পৃথিবীর এমন সব জায়গা থেকে টিঠি পেয়েছি - যা আমাকে ভীষণভাবে অবাক করেছে। যেমন , ভারত থেকে ছোট ছেলেরা চিঠি লিখেছে, চীন থেকেও চিঠি এসেছে। তারা আমাকে লিখেছে, তারা টিনটিনকে ভালোবাসে।"

এয়ার্জের জন্ম বেলজিয়ামে ১৯০৭ সালে। খুবই সাধারণ পরিবারেই জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। তিনি ছোটবেলায় ছিলেন একজন বয়স্কাউট।

এর পর তিনি যোগ দেন সংবাদপত্রে। তবে তিনি সাংবাদিক ছিলেন না, সাধারণ প্রশাসনিক পদেই কাজ করতেন তিনি। ওই পত্রিকার ডাইরেক্টর অব পাবলিকেশন্স ছিলেন এবে ওয়ালে - যিনি আবার ছিলেন একজন যাজক। এই লোকটিই প্রথম লক্ষ্য করেন যে তরুণ এয়ার্জের মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা আছে। তিনি তাকে সংবাদপত্রের জন্য ছবি আকতে বললেন, এবং উতসাহিত করলেন যেন এয়ার্জে তার নিজের মতো করে একটি চরিত্র সৃষ্টি করেন। ।

এয়ার্জের সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্রে র জন্ম হলো ১৯২৯ সালে, তার অফিসের বড়কর্তার নির্দেশে।

কার্টুনিস্ট এবং অফিসকর্মচারী এয়ার্জে টিনটিনকে তৈরি করলেন একজন বালক সাংবাদিক হিসেবে - যা সারা পৃথিবিীময় ঘুরে বেড়ায় এবং নানা রকমের এডভেঞ্চার বা দু:সাহসিক অভিযানে বেরোয়।

প্রথম কমিকসের নাম ছিল "সোভিয়েতের দেশে টিনটিন" । প্রথম থেকেই টিনটিনের বইগুলো দেখতে ছিল অন্য সব কমিকসের চাইতে আলাদা। ছবিগুলো আঁকা ছিল স্পষ্ট রেখায়, আর ছোটখাটো খুটিনাটির দিকে ছিল তীক্ষ্ম মনোযোগ।

টিনটিনের চাইতে তার আশপাশের অন্য চরিত্রগুলোকে কিন্তু টিনটিনের চাইতে অনেক বেশি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আকা। ক্যাপেট্ন হ্যডক - একজন নাবিক, তার মুখে দাড়ি, এবং সে প্রচুর মদ খায়। প্রোফেসর ক্যালকুলাস - যে কানে শোনে না কিন্তু একজন আবিষ্কারক - ফরাসী সংস্করণে যার নাম প্রোফেসর টুরনিসল। আর দুই অপদার্থ ডিটেকটিভ - যারা আবার যমজ ভাই - টমসন এন্ড টমসন -ঢরাসী সংস্করণে ডু পন্ট এন্ড ডু পন্ট।

এয়ার্জে বলেন, এসব চরিত্রগুলোর বেশ কয়েকটি তিনি তৈরি করেছিলেন বাস্তব কিছু লোকের আদলে।

টিনটিনের চরিত্রটি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। টিনটিন যখন প্রথম রাশিয়া থেকে ফিরে আসে, তার পর টিনটিনের মতো পোশাক পরিয়ে একজনকে ব্রাসেলস রেলস্টেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাকে স্বাগত জানাতে স্টেশনে লোকের ভিড় জমে গিয়েছিল।

কঙ্গোতে টিনটিন ছিল টিনটিন কমিকসের দ্বিতীয় বই। বেলজিয়ান কঙ্গো তখন একটি উপনিবেশ। আফ্রিকানদের সেখানে দেখানো হয়েছিল অলস এবং আদিম হিসেবে। আধুনিক পাঠকদের অনেকের চোখে একে অবমাননাকর এবং বর্ণবাদী মনে হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের পাঠকদের মধ্যে টিনটিন খুব দ্রুতই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত এয়ার্জে মোট ২৪টি টিনটিন এডভেঞ্চার লিখেছিলেন। টিনটিন অনেক রহস্যভেদ করেছে, অনেক অভ্যুত্থান এবং অপহরণের চেষ্টা সে ব্যর্থ করে দিয়েছে। বনজঙ্গল থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশে, এমনকি চাঁদেও গেছে টিনটিন।

এই টিনটিনের জন্য এয়ার্জে পরবর্তী কালে পরিণত হন একজন তারকায়। তিনি ছিলেন বেলজিয়ামের সবচেয়ে বিখ্যাত নাগরিক। পৃথিবীতে টিনটিনের কমিকস বই বিক্রি হয়েছে বিশ লাখেরও বেশি।

সূত্র: বিবিসি

উপরে